ইতিহাসের পাতায় জোট রাজনীতি: ক্ষমতা, সমঝোতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা


 এই প্রজন্মের অনেকেই সাম্প্রতিক রাজনীতি জানে, কিন্তু পেছনের গল্পগুলো জানে কম। ইতিহাস না জানলে বর্তমানের রাজনীতিও ঠিকভাবে বোঝা যায় না। তাই একটু পেছনে তাকানো দরকার।


১৯৯১ সালের কথা। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু একা নয়। জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সহযোগিতায় তখন সরকার গঠন হয়। সেই নির্বাচনে জামায়াত প্রায় ২০টির মতো আসন পায়। বাস্তবতা ছিল স্পষ্ট—এই জোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সহজ ছিল না।


এরপর ১৯৯৬ সাল। বিএনপি এবার ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা করে। জামায়াতকে পাশে না রেখে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ফলাফলও ইতিহাসে লেখা আছে। সরকার গঠন হলেও সেই ক্ষমতা টিকে ছিল মাত্র দুই মাস। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।


২০০১ সালে আবার দৃশ্যপট বদলায়। বিএনপি ফের জামায়াতসহ চারদলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে যায় এবং ক্ষমতায় আসে। এখানেও বাস্তবতা একই। জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো নজির নেই।


এই ধারাবাহিকতা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট, সমঝোতা আর স্বার্থের হিসাব নতুন কিছু নয়। সময় বদলায়, চরিত্র বদলায়, কিন্তু কৌশল অনেকটাই একই থাকে।


সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ। ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা আসে, আর তার পরপরই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আঞ্চলিক রাজনীতি, প্রতিবেশী দেশের প্রভাব, আধিপত্যের প্রশ্ন—সবকিছু মিলেই বাংলাদেশের রাজনীতি আজকের এই জায়গায় দাঁড়িয়ে।


এই দেশ হযরত শাহজালাল (র.)–এর দেশ। ধর্ম, রাজনীতি আর জনগণের বিশ্বাস এখানে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ইতিহাসের ধারায় অনেক দল এসেছে, অনেক সরকার গেছে। কিন্তু আদর্শ আর বিশ্বাসের রাজনীতি তার নিজস্ব পথেই টিকে থাকে।


এই বাস্তবতাগুলো জানা জরুরি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে রাজনীতি শুধু স্লোগানে আটকে যায়, আর স্লোগান দিয়ে সত্যকে কখনো পুরো বোঝা যায় না।

ওসমান হাদী একটি সময়ের সাক্ষ্য


 শরীফ ওসমান হাদীর নাম এখন আর শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় নয়। এটি একটি সময়ের সাক্ষ্য, একটি প্রশ্নের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিবেক, আর একটি স্বপ্নের নাম, যে স্বপ্নের কেন্দ্রে ছিল ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ।


তিনি এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করেছিলেন যেখানে ক্ষমতার আগে ন্যায়, দলের আগে মানুষ, আর ভয়ের আগে সত্য কথা বলার সাহস থাকবে। রাজনীতি তার কাছে ছিল পদ-পদবির সিঁড়ি নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন, আপস করেননি।


নিজের দেশের তরে অকাতরে জীবন দিয়ে যাওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। যারা এই পথে হাঁটে, তারা জানে পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। তবু শরীফ ওসমান হাদী পেছনে ফেরেননি। তিনি জানতেন, ন্যায়ের পথে হাঁটলে হয়তো জীবন ছোট হবে, কিন্তু ইতিহাসে মাথা উঁচু করে থাকা যাবে। সেই মূল্য তিনি দিয়েছেন নিজের রক্ত দিয়ে।


তার শহীদ হওয়া শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। এটি একটি বার্তা। সেই বার্তা সারা দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে, নাড়া দিয়েছে, আবার ভাবতে বাধ্য করেছে। আমরা কোন পথে যাচ্ছি। কার জন্য এই দেশ। আর কাদের কণ্ঠস্বর আমরা চুপ করিয়ে দিচ্ছি।


শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে। সেখানে দেখা যায় ভয়, নীরবতা, সুবিধাবাদ। আবার একই সঙ্গে দেখা যায় সম্ভাবনা। যদি আমরা তার বলা ইনসাফের কথা মনে রাখি, যদি ন্যায়কে শুধু স্লোগান নয় বরং চর্চায় পরিণত করি, তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে না।


ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ মানে নিখুঁত দেশ নয়। মানে এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে অন্যায় করলে জবাবদিহি থাকবে, যেখানে ভিন্নমত মানেই শত্রু নয়, আর যেখানে একজন নাগরিক তার অধিকার চাইতে গিয়ে প্রাণ হারাবে না।


শরীফ ওসমান হাদী চলে গেছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এখন আমাদের দায়িত্ব। ইতিহাস একদিন জিজ্ঞেস করবে, একজন মানুষ ন্যায়ের কথা বলে জীবন দিয়ে গেল, আর বাকিরা কী করেছিল।


শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা শুধু ফুলে নয়, ইনসাফের পথে হাঁটার সাহসই সবচেয়ে

 বড় শ্রদ্ধা।

 ড. মির্জা গালিবের মন্তব্যে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও জামায়াতের উদ্যোগ


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব সম্প্রতি ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের মূল কাজ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

🏛️ রাজনৈতিক দলের মূল দায়িত্ব

ড. মির্জা গালিবের মতে, একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় কাজ হলো:

 * জনগণের কাছে যাওয়া: সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো।

 * জনগণের কথা শোনা: তাদের অভাব, অভিযোগ ও মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা।

তিনি জোর দেন যে, নিজেদের দাবি-দাওয়া জানানোর জন্য যেন জনগণকে সবসময় ক্ষমতার কাছে যেতে না হয়, বরং ক্ষমতা নিজেই যেন জনতার দোর-গোড়ায় গিয়ে দাঁড়ায়।

📜 জামায়াতের 'জনতার ইশতেহার' উদ্যোগ

ড. গালিব জামায়াতের একটি নতুন উদ্যোগের প্রশংসা করে সেটিকে 'অসাধারণ' বলে আখ্যায়িত করেছেন:

 * উদ্যোগের নাম: 'জনতার ইশতেহার' তৈরি।

 * উদ্দেশ্য: জনগণের কথা শোনার মাধ্যমে তাদের চাহিদা ও প্রায়োরিটির আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা।

 * বৈশিষ্ট্য: ইশতেহারে করা প্রতিশ্রুতিগুলো পরবর্তীতে কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে, তার জন্য একটি ফলোআপ সিস্টেম রাখা হবে।

 * প্রভাব: তিনি বিশ্বাস করেন, এই ধরনের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে।

✨ জনগণের আগ্রহের কারণ ও জামায়াতের করণীয়

জুলাইয়ের পর থেকে জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. গালিব বলেন:

 * মূল কারণ: জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্খা।

 * সুপারিশ: জামায়াতের উচিত হবে অন্যান্য দলের প্রতি কোনো নেগেটিভ কথা না বলে শুধু ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে তারা কী কী করবে সেই পরিকল্পনা নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া।

 * জনবিশ্বাস: মানুষ এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, ইসলামিস্টরা সততা আর যোগ্যতার সঙ্গে জাতিকে 

নেতৃত্ব দিতে পারে।

ইসলামি শাসনে অমুসলিমদের অংশগ্রহণ: কুরআন, হাদীস ও ইতিহাসের আলোকে এক বিশ্লেষণ

ইসলামি শাসনব্যবস্থা মানেই কি কেবল মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্র? অমুসলিমরা কি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম? ইতিহাস, কুরআন এবং হাদীসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এই ধারণাকে সমর্থন করে যে, ইসলাম যোগ্যতা, দক্ষতা এবং জনস্বার্থকে ভিত্তি করে অমুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের অনুমতি দেয়, যতক্ষণ না তারা রাষ্ট্রের শত্রুতা করে বা জনকল্যাণের পরিপন্থী কাজ করে। এই নিবন্ধে আমরা ইসলামি শাসনে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তির ঐতিহাসিক নজির এবং এর পেছনের ধর্মীয় ভিত্তিগুলো আলোচনা করব।

১. 📜 কুরআন ও হাদীসের নীতিগত অবস্থান

ইসলাম ধর্ম তার অনুসারীদের সদাচরণ, ন্যায়বিচার এবং চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার নির্দেশ দেয়। এটিই মূলত অমুসলিমদের রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের পথ উন্মোচন করেছে।

ন্যায়ের নির্দেশ ও মানবিক সম্পর্ক

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা অমুসলিমদের প্রতি ন্যায় ও সদাচরণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, যা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য:

> “আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না যে, যারা তোমাদের সাথে ধর্মের ব্যাপারে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি ভালো মনোভাব রাখতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।”

> — সূরা মুমতাহিনা (৬০:৮)

এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে, অমুসলিম যারা ইসলামের শত্রু নয়, তাদের সাথে কেবল সদাচরণই নয়, ন্যায়বিচার করাও আবশ্যক। রাষ্ট্রীয় পদ ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা এই ন্যায়েরই অংশ।

চুক্তি ও ওয়াদা রক্ষা

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একটি চুক্তির মাধ্যমে আসে। এই চুক্তি রক্ষায় ইসলাম জোর দেয়। নবী করীম (সা.) বলেন:

> “যদি কোনো অমুসলিম তোমাদের সাথে চুক্তি করে, তাহলে তাকে তার চুক্তি পূর্ণ করো।”

> — সহিহ বুখারী

এই হাদীসটি ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্বস্ততা ও চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অমুসলিমদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে।

সীমাবদ্ধতা ও সতর্কতা

অবশ্যই, কুরআন গোপনীয়তা ও কৌশলগত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেয়। সূরা নিসা (৪:১৪১) এবং সূরা মায়েদা (৫:২) এমন পরিস্থিতিতে মুসলমানদের সতর্ক থাকার কথা বলে যেখানে ধর্মীয় বিরোধ বা শত্রুতা বিদ্যমান। তবে এই সতর্কতাগুলো যোগ্য ও বিশ্বস্ত অমুসলিমদের জনকল্যাণমূলক দায়িত্বে নিয়োগের বিরোধী নয়।

২. 🏛️ ইতিহাসের পাতা থেকে অন্তর্ভুক্তির নজির

ইসলামের ইতিহাসে শুরু থেকেই অমুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, যা কুরআনের উদার নীতির প্রতিফলন ঘটায়।

খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে

 * হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফত: তাঁর শাসনামলে দামেস্কে খ্রিষ্টান কর্মকর্তা ইবনে মানসুর রাজস্ব বিভাগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। এছাড়াও, বহু ইহুদি চিকিৎসক সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতেন। এটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় উপার্জনের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও যোগ্যতা অমুসলিমদের অগ্রাধিকার দিয়েছে।

আব্বাসীয় ও মুঘল শাসনে

 * আব্বাসীয় খেলাফত (হাউস অব উইজডম): আব্বাসীয় যুগে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ আরও বিস্তৃত হয়।

   * হুনাইন ইবনে ইসহাক: এই নেস্তোরিয়ান খ্রিষ্টান পণ্ডিত ছিলেন বিখ্যাত 'হাউস অব উইজডম'-এর প্রধান অনুবাদক। তিনি গ্যালেন ও হিপোক্রেটিসের রচনাবলি মুসলিম বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেন।

   * বাখতিশু পরিবার: এই পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে খলিফাদের রাজচিকিৎসক ছিলেন।

   * বাগদাদের রাজস্ব দপ্তরে (দিওয়ানুল খারাজ) ইহুদি ও খ্রিষ্টান কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন।

 * মুঘল সাম্রাজ্য: মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মন্ত্রিসভাতেও প্রায় ২২% সদস্য ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী। এটি একটি বিশাল প্রমাণ যে, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দক্ষতা ও যোগ্যতাই ছিল নিয়োগের মূল ভিত্তি।

৩. 💡 'ইসলামি রাষ্ট্র' এবং 'মুসলিম শাসিত রাষ্ট্র'-এর পার্থক্য

ঐতিহাসিক এসব ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রতিষ্ঠা করে: 'ইসলামি রাষ্ট্র' ধারণা এবং 'মুসলমান দ্বারা শাসিত রাষ্ট্র' একই বিষয় নয়।

 * ইসলামি রাষ্ট্র: এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যা কুরআন ও সুন্নাহর নীতি, বিশেষত ন্যায়বিচার, জনকল্যাণ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

 * মুসলিম শাসিত রাষ্ট্র: এমন এক রাষ্ট্র, যার শাসক মুসলমান।

ইসলামি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো ন্যায় ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, আর এই লক্ষ্যের পথে যোগ্য অমুসলিমরা অবশ্যই সহযোগী হতে পারে। ইতিহাস স্পষ্ট করে জানায়—যোগ্যতা, দক্ষতা এবং জনস্বার্থকে ভিত্তি করে ইসলামি শাসনব্যবস্থায় অমুসলিমরাও দীর্ঘসময় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োজিত ছিলেন।

৪. 🌍 আধুনিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব

বর্তমানে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক অমুসলিম প্রার্থী মনোনয়ন (যেমন: খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দী) দেওয়া হচ্ছে, যা ইসলামের এই ঐতিহাসিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিরই ধারাবাহিকতা। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও ইসলাম ধর্ম জনস্বার্থ ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেয়, ধর্মীয় বিভেদ ছাড়াই।

সারসংক্ষেপ: ইসলামি রাষ্ট্র অমুসলিমদের প্রতি কেবল সহনশীলতাই দেখায় না, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অংশগ্রহণের সুযোগও দেয়। কুরআনের ন্যায়ের আহ্বান, রাসূল (সা.)-এর চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং খলিফায়ে রাশেদীন থেকে শুরু করে মুঘলদের আমলের ঐতিহাসিক নজিরগুলো এই অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিরই সাক্ষ্য বহন করে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

 * পবিত্র কুরআন, সূরা মুমতাহিনা (৬০:৮)।

 * সহিহ বুখারী, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, হাদীস নং - ২৭৩১।

 * ঐতিহাসিক দলিলসমূহ (ইবনে মানসুর, হুনা

ইন ইবনে ইসহাক, আওরঙ্গজেবের মন্ত্রিসভা)।


 স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে নিম্নমানের খাবার: অভিভাবকদের তীব্র উদ্বেগ, ঝুঁকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য








নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাম্প্রতিক স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে বিতরণ করা খাদ্যের মান নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরবরাহকৃত পাউরুটি, বিস্কুট ও দুধ শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, “যারা শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত নন, তাদের খাবার আমরা আমাদের বাচ্চাকে দিতে রাজি নই।”


অভিভাবকদের দেয়া অভিযোগের তথ্য বিশ্লেষণে বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি উঠে এসেছে—

--

১) পাউরুটি / লোকাল বান: মানহীন প্যাকেজিং ও অস্পষ্ট লেবেলিং নিয়ে উদ্বেগ


অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের দেওয়া পাউরুটি সাধারণ পলিথিন ব্যাগে প্যাক করা, যা বায়ুরোধী নয়। এতে ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া বা বাইরের দূষণ সহজেই ঢোকার ঝুঁকি থাকে।


এ ছাড়া—


উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ অস্পষ্ট, মুছে যাওয়ার মতো—

ফলে খাদ্য নষ্ট ছিল কি না বোঝা যায় না।


ফুড-গ্রেড নয় এমন কালি ব্যবহারের সন্দেহ, যা শিশুখাদ্যের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি।


ওজনের অসঙ্গতি: অভিভাবকের অভিযোগ—একটি সুপরিচিত ব্র্যান্ড অলটাইম ১০০ গ্রামে ৪টি পাউরুটি দেয়, অথচ স্কুল ফিডিংয়ের ১২০ গ্রামে ৫টি পিস! যা মান কমানোর ইঙ্গিত দেয়।



অভিভাবকদের প্রশ্ন—

“আমরা যে পাউরুটি নিজেদের সন্তানদের মাসেও খাওয়াই না, সেটি প্রতিদিন বাচ্চাদের খাবার হিসেবে কিভাবে দেওয়া হচ্ছে?”



---


২) ফোর্টিফাইড বিস্কুট: অতিরিক্ত কঠিন, মেয়াদ অস্পষ্ট—দাঁত থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত ঝুঁকি


সরকারি প্রকল্পে দেওয়া ফোর্টিফাইড বিস্কুট সাধারণত ভিটামিন–মিনারেল যুক্ত বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন, একাধিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে—


বিস্কুট অত্যন্ত শক্ত, যা শিশুদের দাঁত ও মাড়ির জন্য ক্ষতিকর।


লেবেলিং অস্পষ্ট, মেয়াদ ও ব্যাচ নম্বর ঠিকমতো পড়া যায় না।


মানহীন হলে বা ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে অতিরিক্ত শক্ত ও অসুবিধাজনক অবস্থা তৈরি হয়।



এই ধরনের বিস্কুট নিয়মিত খেলে—


হজমের সমস্যা


দাঁতের ক্ষতি


অপুষ্টি দূর করার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি



সবই বাড়তে পারে।



---


৩) স্ট্র ছাড়া প্যাকেট দুধ: জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা


অভিভাবকদের অভিযোগ, যে দুধ দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে স্ট্র নেই, যা সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড স্কুল মিলের দুধের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক।


স্ট্র না থাকলে—


প্যাকেটের মুখে শিশুদের মুখ লাগাতে হয়


বাইরের ধুলো–জীবাণু সরাসরি শরীরে যেতে পারে


প্যাকেট রিজেক্টেড ব্যাচ বা রিফিল হওয়ার সন্দেহ থাকে


সিল নষ্ট হলে দুধে জীবাণু ঢোকার আশঙ্কা থাকে



শিশুখাদ্য হিসেবে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।


বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বিশ্লেষণ: শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?


পণ্য সম্ভাব্য নিরাপত্তা সমস্যা মূল্যায়ন


পাউরুটি/বান খাদ্যমান নিশ্চিত করা কঠিন প্যাকেজিং দুর্বল, ফাঙ্গাস ঝুঁকি, মেয়াদ অস্পষ্ট ❌ নিরাপদ নয়

ফোর্টিফাইড বিস্কুট অত্যন্ত শক্ত, লেবেল অস্পষ্ট, মান সন্দেহজনক ⚠ ঝুঁকিপূর্ণ

স্ট্র ছাড়া দুধ নিরাপদ হওয়ার কথা সিল ঝুঁকি, বাহ্যিক জীবাণুর প্রবেশ ❌ শিশুদের জন্য অনিরাপদ




---


অভিভাবকদের প্রশ্ন—“এভাবে কি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব?”


অভিভাবকরা বলছেন, অধিকাংশ শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা নির্বাহী কর্মকর্তারা যদি শুরু থেকেই মান যাচাই করতেন, তাহলে নিম্নমানের খাবার শিশুদের সরবরাহ করা হতো না।


বিকল্প হিসেবে তারা প্রস্তাব দিয়েছেন—


ডিম


দুধ


স্থানীয় মৌসুমি ফল


খেজুর বা আপেল



যা শিশুদের জন্য অধিক স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর।



---


অভিভাবকদের আহ্বান: “শিক্ষকরা শুধু দায়িত্ব নয়, মানবিকতার জায়গা থেকেও প্রতিবাদ করুন”


একজন অভিভাবক বলেন—

“সরকারি সুবিধার নামে বাচ্চাদের যদি অসুস্থ করেই ফেলা হয়, তাহলে এমন সুবিধা আমাদের লাগবে না। সন্তানদের ক্ষতি হয় এমন খাবার স্কুলে দেবেন না—দয়া করে শিক্ষকরাই প্র

থমে প্রতিবাদ তুলুন।”


অভিভাবকরা দ্রুত পদক্ষেপ, মান যাচাই এবং খাদ্যের সরবরাহকারী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।


নওগাঁয় বিএনপি নেতার মদ-অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬, রাতেই জেলহাজতে



ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা পৌর বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ মোট ছয়জনকে বিদেশি মদ ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার আমাইতাড়া শিকদার মার্কেট এলাকায় ডিবি পুলিশের এক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

গ্রেপ্তার ও অভিযান

জানা যায়, ২৭ নভেম্বর গভীর রাতে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমাইতাড়া শিকদার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে সেখান থেকে পৌর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানসহ ছয়জনকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

জেলহাজতে প্রেরণ

গ্রেপ্তারের পরপরই ধৃত আসামীদের জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানা যায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ধৃত আসামীদের ইতিমধ্যেই জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফুলকুঁড়ি আসর নওগাঁ শাখার ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব












নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর নওগাঁ শাখার ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টায় উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অর্ধদিবসীয় অনুষ্ঠান দুপুর ১টায় পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে সমাপ্তি পায়।


অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলকুঁড়ি আসরের সহকারী প্রধান পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম।

ফুলকুঁড়ি আসর নওগাঁ জেলা শাখার পরিচালনায় পুরো আয়োজনটি সম্পন্ন হয়, আর সভাপতিত্ব করেন উপদেষ্টা সভাপতি এডভোকেট শেখ আবু মাসুম।


শহরের নানা এলাকা থেকে আগত সহস্রাধিক শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অংশগ্রহণে পুরো স্থানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ম্যারাথন সিজন–২, রচনা প্রতিযোগিতাসহ নানান সৃজনশীল কার্যক্রম। এ উপলক্ষে মোট ১৭০টি পুরস্কার প্রদান করা হয়।


উৎসবে আগত অতিথিরা ফুলকুঁড়ি আসরের দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনটির আরও অগ্রগতি ও সফলতা কামনা করেন।