ওসমান হাদী একটি সময়ের সাক্ষ্য



 শরীফ ওসমান হাদীর নাম এখন আর শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় নয়। এটি একটি সময়ের সাক্ষ্য, একটি প্রশ্নের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিবেক, আর একটি স্বপ্নের নাম, যে স্বপ্নের কেন্দ্রে ছিল ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ।


তিনি এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করেছিলেন যেখানে ক্ষমতার আগে ন্যায়, দলের আগে মানুষ, আর ভয়ের আগে সত্য কথা বলার সাহস থাকবে। রাজনীতি তার কাছে ছিল পদ-পদবির সিঁড়ি নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন, আপস করেননি।


নিজের দেশের তরে অকাতরে জীবন দিয়ে যাওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। যারা এই পথে হাঁটে, তারা জানে পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। তবু শরীফ ওসমান হাদী পেছনে ফেরেননি। তিনি জানতেন, ন্যায়ের পথে হাঁটলে হয়তো জীবন ছোট হবে, কিন্তু ইতিহাসে মাথা উঁচু করে থাকা যাবে। সেই মূল্য তিনি দিয়েছেন নিজের রক্ত দিয়ে।


তার শহীদ হওয়া শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। এটি একটি বার্তা। সেই বার্তা সারা দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে, নাড়া দিয়েছে, আবার ভাবতে বাধ্য করেছে। আমরা কোন পথে যাচ্ছি। কার জন্য এই দেশ। আর কাদের কণ্ঠস্বর আমরা চুপ করিয়ে দিচ্ছি।


শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে। সেখানে দেখা যায় ভয়, নীরবতা, সুবিধাবাদ। আবার একই সঙ্গে দেখা যায় সম্ভাবনা। যদি আমরা তার বলা ইনসাফের কথা মনে রাখি, যদি ন্যায়কে শুধু স্লোগান নয় বরং চর্চায় পরিণত করি, তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে না।


ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ মানে নিখুঁত দেশ নয়। মানে এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে অন্যায় করলে জবাবদিহি থাকবে, যেখানে ভিন্নমত মানেই শত্রু নয়, আর যেখানে একজন নাগরিক তার অধিকার চাইতে গিয়ে প্রাণ হারাবে না।


শরীফ ওসমান হাদী চলে গেছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এখন আমাদের দায়িত্ব। ইতিহাস একদিন জিজ্ঞেস করবে, একজন মানুষ ন্যায়ের কথা বলে জীবন দিয়ে গেল, আর বাকিরা কী করেছিল।


শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা শুধু ফুলে নয়, ইনসাফের পথে হাঁটার সাহসই সবচেয়ে

 বড় শ্রদ্ধা।

No comments:

Post a Comment