এই প্রজন্মের অনেকেই সাম্প্রতিক রাজনীতি জানে, কিন্তু পেছনের গল্পগুলো জানে কম। ইতিহাস না জানলে বর্তমানের রাজনীতিও ঠিকভাবে বোঝা যায় না। তাই একটু পেছনে তাকানো দরকার।
১৯৯১ সালের কথা। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু একা নয়। জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সহযোগিতায় তখন সরকার গঠন হয়। সেই নির্বাচনে জামায়াত প্রায় ২০টির মতো আসন পায়। বাস্তবতা ছিল স্পষ্ট—এই জোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সহজ ছিল না।
এরপর ১৯৯৬ সাল। বিএনপি এবার ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা করে। জামায়াতকে পাশে না রেখে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ফলাফলও ইতিহাসে লেখা আছে। সরকার গঠন হলেও সেই ক্ষমতা টিকে ছিল মাত্র দুই মাস। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।
২০০১ সালে আবার দৃশ্যপট বদলায়। বিএনপি ফের জামায়াতসহ চারদলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে যায় এবং ক্ষমতায় আসে। এখানেও বাস্তবতা একই। জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো নজির নেই।
এই ধারাবাহিকতা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট, সমঝোতা আর স্বার্থের হিসাব নতুন কিছু নয়। সময় বদলায়, চরিত্র বদলায়, কিন্তু কৌশল অনেকটাই একই থাকে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ। ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা আসে, আর তার পরপরই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আঞ্চলিক রাজনীতি, প্রতিবেশী দেশের প্রভাব, আধিপত্যের প্রশ্ন—সবকিছু মিলেই বাংলাদেশের রাজনীতি আজকের এই জায়গায় দাঁড়িয়ে।
এই দেশ হযরত শাহজালাল (র.)–এর দেশ। ধর্ম, রাজনীতি আর জনগণের বিশ্বাস এখানে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ইতিহাসের ধারায় অনেক দল এসেছে, অনেক সরকার গেছে। কিন্তু আদর্শ আর বিশ্বাসের রাজনীতি তার নিজস্ব পথেই টিকে থাকে।
এই বাস্তবতাগুলো জানা জরুরি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে রাজনীতি শুধু স্লোগানে আটকে যায়, আর স্লোগান দিয়ে সত্যকে কখনো পুরো বোঝা যায় না।

No comments:
Post a Comment