পহেলা বৈশাখ উদযাপন

 


আমাদের ঈমান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা কি ভুলে যাচ্ছি?

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আমাদের দেশের একটি বড় উৎসব। কিন্তু একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের কি ভাবা উচিত নয় যে, এই উৎসবের আড়ালে আমাদের অজান্তেই ঈমানি চেতনা বা সামাজিক মূল্যবোধের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না? আজ আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কিছু দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করব।

১. উৎসবের নামে ‘শিরক’ ও ঈমানি ঝুঁকি

পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'। এখানে বড় বড় বাঘ, পেঁচা বা সাপের মুখোশ ও মূর্তি বহন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এগুলো করলে দেশের ‘মঙ্গল’ হবে।

 ইসলামের শিক্ষা: ভালো-মন্দের মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোনো মূর্তি বা প্রাণীর প্রতিকৃতি আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না।

 সতর্কবার্তা: কোরআনে বলা হয়েছে, *"নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন"* (সূরা আল-মায়েদাহ: ৭২)। তাই মঙ্গলের আশায় এসব মিছিলে অংশ নেওয়া একজন মুসলিমের ঈমানের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

২. কোটি কোটি টাকার অপচয়: কার স্বার্থে?

একদিনের এই উৎসবের সাজসজ্জা, ব্যানার, বিশাল সব মূর্তি আর আলোকসজ্জার পেছনে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। উৎসব শেষ হতেই এগুলো আবর্জনায় পরিণত হয়।

 কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলেছেন (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)।

 বিকল্প চিন্তা: আমাদের আশেপাশে কত অসহায় মানুষ এক বেলা খাবারের জন্য কষ্ট পায়, কত এতিম শিশু অর্থাভাবে পড়তে পারে না। এই অপচয়কৃত টাকা যদি দরিদ্রদের কল্যাণে বা সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তবে তা হতো প্রকৃত ‘মঙ্গল’।

৩. নৈতিক অবক্ষয় ও অজাতিত অপকর্ম

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে অনেক সময় নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং পর্দা হীনতা পরিলক্ষিত হয়। বিশাল ভিড়ের সুযোগে অনেক সময় ইভটিজিং বা আপত্তিকর ঘটনা ঘটে, যা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় নৈতিকতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) পরপুরুষ ও পরনারীর অবাধ মেলামেশা থেকে উম্মতকে সতর্ক করেছেন।

৪. বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণ

পহেলা বৈশাখের বর্তমান অনেক রীতিই আমাদের নিজস্ব ইসলামি সংস্কৃতির অংশ নয়। হাদিসে এসেছে, *"যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে"* (আবু দাউদ)। অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের আদলে নিজের জীবন সাজানো একজন মুসলিমের আত্মপরিচয়কে সংকটে ফেলে দেয়।

আমাদের করণীয় কী হতে পারে?

একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারি:

 সচেতন হওয়া: উৎসবের নামে কোনো শিরক বা গুনাহের কাজে পা না দেওয়া।

 অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো: উৎসবের বাজেট থেকে কিছু অংশ বাঁচিয়ে আপনার পাশের অভাবী মানুষটিকে সাহায্য করুন। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে।

 সংস্কৃতি রক্ষা: ইসলামি গণ্ডির ভেতরে থেকে শালীনভাবে দিনটি অতিবাহিত করা, যেখানে কোনো অপচয় বা বেহায়াপনা থাকবে না।

নতুন বছর আসা মানেই জীবনের একটি বছর ফুরিয়ে যাওয়া। এখানে আনন্দ করার চেয়ে পরকালের পাথেয় গোছানোর চিন্তাই বেশি হওয়া উচিত। আসুন, আমরা হুজুগে না মেতে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবন ও সংস্কৃতিকে পরিচালনা করি।


0 comments: