বিএনপির বিদ্রোহ, জামায়াতের সুযোগ: ত্রয়োদশ নির্বাচনের অদৃশ্য সমীকরণ

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তার কেন্দ্রে এখন এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা—বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। রুমিন ফারহানার মতো পরিচিত মুখ থেকে শুরু করে একাধিক হেভিওয়েট নেতাকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রথমে অনেককেই বিস্মিত করেছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছিল—এটা কি বিএনপির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, নাকি সুচিন্তিত কৌশল?

একটি শক্তিশালী ধারণা ছিল, দলের প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হবেন, এরপর আবার মূল দলে ফিরে আসবেন। এতে করে মিত্রদের সামনে ‘চেষ্টা করেছি’—এই বার্তাটিও দেওয়া যাবে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে, এই হিসাব বাস্তবে উল্টো ফল দিচ্ছে। যাদের কৌশলগত সম্পদ ভাবা হয়েছিল, তারাই এখন দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

বর্তমানে সারাদেশে অন্তত ৭৮টি আসনে বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র পরিচয়ে মাঠে সক্রিয়। এই প্রবণতা শুধু দলীয় শৃঙ্খলার সংকটই তৈরি করেনি, বরং ভোটের অঙ্কে জন্ম দিয়েছে এক নতুন ও জটিল সমীকরণের। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই বিভাজনের সুযোগে কে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে? অধিকাংশ বিশ্লেষকের উত্তর একটাই: জামায়াতে ইসলামী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত যেন এই মুহূর্তটিরই অপেক্ষায় ছিল। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে তারা কার্যত কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত করেছে। ধানের শীষের ভোট যখন মূল প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, তখন সেই ফাঁক গলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীরা।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিলেও শরিকদের জন্য ছেড়েছে মাত্র আটটি আসন। এত অল্প আসন নিয়েও জোটের ভেতরে অসন্তোষ থামেনি। বরং অভিযোগ উঠেছে—তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে প্রবাসী কিংবা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। এর ফলেই বহু জায়গায় বিদ্রোহ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

প্রার্থী প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন ব্যালট পেপারে প্রায় ৯৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম থাকছে। অর্থাৎ ভোটারদের সামনে একই রাজনৈতিক ধারা থেকে আসা একাধিক বিকল্প হাজির থাকবে। এই দ্বিধাই জামায়াতের জন্য হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।

বিশেষ করে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে এই বাস্তবতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঐতিহাসিকভাবে এই দুই অঞ্চলে জামায়াতের অবস্থান দুর্বল হলেও এবার চিত্র বদলাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিভাগের অন্তত ৩৫টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট কেটে নিতে পারেন, যা জামায়াত প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট।

পশ্চিমাঞ্চলে—রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে—জামায়াতের প্রভাব বরাবরই তুলনামূলক শক্ত। কিন্তু বিএনপির ভেতরের দ্বন্দ্ব সেই শক্তিকে আরও পোক্ত করছে। একাধিক আসনে ধানের শীষের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জামায়াতের জন্য জয়ের রাস্তা অনেকটাই মসৃণ হয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে উঠে আসছে।

ময়মনসিংহ, শেরপুর কিংবা ঢাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে দৃশ্যমান হচ্ছে একই চিত্র—বিএনপির মূল প্রার্থীকে লড়তে হচ্ছে একদিকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে, অন্যদিকে নিজের দলের সাবেক সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। এই ‘ছায়া যুদ্ধ’ বিএনপির নির্বাচনী শক্তিকে দুর্বল করছে, আর জামায়াত সেই দুর্বলতাকে সংগঠিত শক্তিতে রূপ দিচ্ছে।

জোটের ছোট শরিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও বিদ্রোহীরা হয়ে উঠছেন অপ্রত্যাশিত সহায়ক। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ বা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো আসনগুলোতে বিএনপির ভাঙনের সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বিধা, আবেগ ও ব্যক্তিগত আনুগত্য এখানে দলীয় সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জামায়াত নিজেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেখছে। আর সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেওয়া কি ছিল সুপরিকল্পিত কৌশল, নাকি রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা? এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স ও ইতিহাস। তবে এটুকু নিশ্চিত, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার যে রাজনীতি শুরু হয়েছে, তার ফলাফল বিএনপির জন্য সুখকর নাও হতে পারে।

গণভোট: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

 


হ্যাঁ নাকি না—সিদ্ধান্ত আপনার, দায়বদ্ধতা দেশের প্রতি।

নিচে একটি তুলনামূলক চিত্রের মাধ্যমে দেখে নিন আপনার একটি ভোট কীভাবে আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো বদলে দিতে পারে:

⚖️ সরাসরি তুলনা: হ্যাঁ বনাম না

বিষয় ✅ “হ্যাঁ” ভোট দিলে (পরিবর্তন) 

❌ “না” ভোট দিলে (বর্তমান অবস্থা) 



নির্বাচনকালীন সরকার 

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা: ভোট কারচুপি ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের নিশ্চয়তা।


দলীয় প্রভাব: ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচনের ঝুঁকি ও প্রশ্নবিদ্ধ ভোট ব্যবস্থা।


প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ


সর্বোচ্চ ২ বার: আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ বন্ধ এবং 


নতুন নেতৃত্বের বিকাশ।


সীমাহীন মেয়াদ: ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা। 


ক্ষমতার ভারসাম্য 


রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সমতা: একনায়কতন্ত্রের পথ বন্ধ ও সাংবিধানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স

একক নিয়ন্ত্রণ: প্রধানমন্ত্রীর হাতেই সব ক্ষমতা; স্বৈরাচারী হওয়ার প্রবল ঝুঁকি।

 

বিচার ও প্রশাসন 


স্বাধীন প্রতিষ্ঠান: দলীয় চাপমুক্ত আদালত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। 

রাজনৈতিক প্রভাব: প্রশাসন ও বিচার বিভাগ দলীয়করণের শঙ্কা; ন্যায়বিচারের অভাব। 


🔍 একনজরে ফলাফলের সারসংক্ষেপ

কেন "হ্যাঁ" ভোট দিবেন?


এটি কোনো রাজনৈতিক দলকে জেতানোর জন্য নয়, বরং গণতন্ত্রকে জেতানোর জন্য।



সুরক্ষা: ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর মজবুত গ্যারান্টি।


অধিকার: আপনার ভোটের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হওয়া।


পরিবর্তন: ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের পথ প্রশস্ত করা।

"না" ভোট দিলে ঝুঁকি কী?


পরিবর্তনের সুযোগ হারিয়ে রাষ্ট্রকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া।


স্বৈরতন্ত্র: গণতন্ত্রের মোড়কে একদলীয় শাসনের ঝুঁকি।


 দমন-পীড়ন: বিরোধী মত দমন ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা।


অনিশ্চয়তা: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকি।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশের জন্য কোনটি উপকারী?


দেশের স্থিতিশীলতা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য “হ্যাঁ” ভোটই অগ্রগতির চাবিকাঠি। কারণ-

১. ক্ষমতা প্রকৃত অর্থে জনগণের হাতে ফিরে আসে।

২. ফ্যাসিবাদ জন্মানোর আগেই তা রোধ করা সম্ভব হয়।

৩. রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির নয়, সংবিধানের নিয়মে চলে।


সচেতন দেশবাসী মনে রাখবেন: আপনার "হ্যাঁ" ভোট কোনো দলের সমর্থ

ন নয়, এটি আপনার নিজের অধিকার এবং সুন্দর আগামীর নিশ্চয়তা। 


শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠে সংঘর্ষ: বিএনপি'র স্বৈরাচারী আচরণে প্রাণ গেল জামায়াত নেতার


নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে বসার আসন নিয়ে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করীম নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে স্থানীয় একটি মিনি স্টেডিয়ামে প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতাকর্মীরা আগে পৌঁছে সামনের আসনগুলোতে বসেন। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা এসে সামনের আসন ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হস্তক্ষেপ করে আসন ভাগ করে দিলেও আসন ত্যাগের সময় চেয়ার ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই দলের পক্ষ থেকে একে অপরকে দায়ী করা হয়েছে।

চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ

প্রাথমিক উত্তেজনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামের বাইরের প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীর উপস্থিতিতে কর্মীরা সড়কে মহড়া দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কয়েক দফা চেষ্টা করলেও বিএনপি কর্মীদের সরাতে ব্যর্থ হয়। ফলে জামায়াত নেতাকর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠানস্থলে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন।

নিরাপত্তার শঙ্কা ও হামলা

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে জামায়াত নেতৃত্ব। প্রশাসন কেবল সংসদ সদস্য প্রার্থীকে সরিয়ে নিতে চাইলেও তিনি কর্মীদের ফেলে যেতে রাজি হননি। পরবর্তীকালে প্রশাসনের পাহারায় জামায়াত নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমঝোতার কথা চলাকালেই ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। এতে রেজাউল করীম গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চললেও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারল না, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া প্রকাশ্য দিবালোকে ক্যামেরার সামনে ঘটা এই হ/ত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে নিহতের পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'পরিকল্পিত হ/ত্যাকাণ্ড' হিসেবে দাবি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা ঘটনার দায় অস্বীকার করে পরিস্থিতির জন্য তাৎক্ষণিক উত্তেজনাকে দায়ী করেছেন।

রাজনীতি যখন আয়ের হাতিয়ার: ব্যাংকিং খাতের ঋণখেলাফি ও তৃণমূলের দখলদারিত্বের ব্যবচ্ছেদ




নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ ই নিউজ | 

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক গভীর সংকট দৃশ্যমান। জনসেবার মহান ব্রত ছাপিয়ে রাজনীতি এখন অনেকের কাছে জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার বাইরে দীর্ঘ দেড় যুগ থাকার পরও বিশাল অংকের ঋণখেলাফি এবং তৃণমূল পর্যায়ে দখলদারিত্বের যে ভয়াবহ তথ্য সামনে আসছে, তা নাগরিক মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মপদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

১. জীবিকার মডেল: কর্মসংস্থান বনাম দখলদারিত্ব

রাজনৈতিক কর্মীদের জীবনধারণের পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে দুটি ভিন্নধর্মী ধারার কথা আলোচিত হচ্ছে:


বিএনপির 'এলাকা ভাগ' পদ্ধতি: অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির তৃণমূলের একাংশ রাজনীতিকে পেশা হিসেবে ব্যবহার করছে। এলাকা ভাগাভাগি, টেম্পো স্ট্যান্ড বা ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তবে দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে গত দেড় বছরে প্রায় ৭,০০০ কর্মীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা একই সাথে দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।


জামায়াতের 'প্রতিষ্ঠান নির্ভর' মডেল: বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামী তাদের কর্মীদের জন্য দলীয় বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। এতে কর্মীরা সরাসরি চাঁদাবাজিতে না জড়িয়ে নির্দিষ্ট পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে, যা তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে সুসংগঠিত রাখতে সাহায্য করে।

২. ক্ষমতার বাইরে থেকেও ৫,৭৮৭ কোটি টাকার ঋণের পাহাড়

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ১৭-১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পরেও বিএনপির ১৩ জন প্রাক্তন এমপির নামে ৫,৭৮৭ কোটি টাকার ঋণখেলাফি তথ্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার ভিত্তিতে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

ঋণখেলাপির চিত্র এক নজরে:

মোট ঋণখেলাপির পরিমাণ  ৫,৭৮৭ কোটি টাকা ।

সংশ্লিষ্ট নেতা  ১৩ জন প্রাক্তন সংসদ সদস্য |

 সবচেয়ে আলোচিত ঋণ : 

আবদুস সালাম (১,৭০০ কোটি টাকা) |

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: আমানতকারীরা টাকা না পেলেও প্রভাবশালীরা টাকা আটকে রেখেছেন। 

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এসব ঋণখেলাফিদের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেওয়া ব্যাংকিং খাতের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

৩. ডিজিটাল টেন্ডারে এনালগ লুটপাট:

ই-জিপি (e-GP) বা অনলাইন টেন্ডার পদ্ধতি চালু হলেও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়নি সরকারি কাজ। যোগ্য ঠিকাদারদের ভয় দেখিয়ে এবং লিয়াজোঁর মাধ্যমে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অহরহ। একটি ঘটনায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ দরদাতা ৪৭ লক্ষ টাকা প্রস্তাব করলেও তাকে সরিয়ে দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা প্রস্তাবকারীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রের রাজস্বের ক্ষতি।

৪. জনগণের আস্থার সংকট:

সাধারণ মানুষ যখন ব্যাংকে জমানো টাকা তুলতে গিয়ে ফিরে আসছে, তখন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাফি হওয়ার খবর তাদের হতাশ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়, অথচ নিজেদের ঘরেই দুর্নীতির পাহাড় জমে থাকে, তখন রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটি ধসে পড়ে।

উপসংহার:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে দলগুলোকে তাদের কর্মীদের অর্থনৈতিক সংস্থানের জন্য সম্মানজনক পথ দেখাতে হবে। একই সাথে ব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবশালী ঋণখেলাফিদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। নওগাঁ ই নিউজ মনে করে, শুধু নেতার পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক উপার্জনের পদ্ধতির পরিবর্তনই এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা (নির্বাচন কমিশন)।

জাতীয় দৈনিকসমূহ: প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও বণিক বার্তা।


বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক টকশো।

ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। নওগাঁ ই নিউজ কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য পোষণ করে না, বরং জনস্বার্থে রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বিশ্লেষণাত্মক চিত্র তুলে ধরেছে।

সুপার কম্পিউটার, উইলো চিপ আর আমাদের ভবিষ্যৎ


প্রযুক্তির দুনিয়া খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যেটা এক সময় সায়েন্স ফিকশন মনে হতো, আজ সেটা বাস্তবের কাছাকাছি। সুপার কম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আর নতুন প্রজন্মের চিপ আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে আমূল বদলে দিতে চলেছে।


চলুন, সহজভাবে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করি।


এক সেপটিলিয়ন বছর মানে কতটা সময়?


পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার যে পরিমাণ হিসাব করতে পারে, সেই একই পরিমাণ হিসাব করতে তার লাগে প্রায় এক সেপটিলিয়ন বছর।


সেপটিলিয়ন মানে কী?

একটির পরে ২৪টি শূন্য।

ধাপে ধাপে বুঝলে—


৩ শূন্য = হাজার


৬ শূন্য = মিলিয়ন


৯ শূন্য = বিলিয়ন


১২ শূন্য = ট্রিলিয়ন



এভাবে বাড়তে বাড়তে ২৪ শূন্যে গিয়ে পৌঁছায় সেপটিলিয়ন। ভাবলেই মাথা ঘুরে যায়, তাই না?


উইলো চিপ: ৫ মিনিটে হাজার বছরের কাজ


এখন আসি সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশে।

যে কাজ করতে একটি সুপার কম্পিউটারের এক সেপটিলিয়ন বছর লাগে, সেই একই কাজ উইলো চিপ মাত্র ৫ মিনিটে করে ফেলতে পারে।


এটা কোনো গল্প নয়। ইন্টারনেটে খুঁজলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর মনে রাখতে হবে, উইলো চিপ এখনো প্রযুক্তির শুরু মাত্র। সামনে আরও শক্তিশালী কিছু আসবে।


মেডিকেল সায়েন্সে বিপ্লব


এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় উপকার হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে।

যেসব গবেষণায় আগে হাজার হাজার বছর লাগতে পারত, ভবিষ্যতে সেগুলো হয়তো ১–২ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।


ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে


অনেক রোগ পুরোপুরি নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে


ওষুধ হবে ব্যক্তিভিত্তিক



মানে, আপনার রোগের চিকিৎসা হবে আপনার জিনোম অনুযায়ী। আরেকজনের জন্য যে ওষুধ কাজ করবে, সেটা আপনার জন্য একই রকম নাও হতে পারে। একে বলা হয় কাস্টমাইজড মেডিসিন।


শিক্ষাক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে?


শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে।

এআর (Augmented Reality) এবং ভিআর (Virtual Reality) ভিত্তিক পড়াশোনা চালু হবে।


ভাবুন তো—


ইতিহাস পড়ছেন, কিন্তু বই দেখে নয়; বরং ৩ডি দৃশ্য দেখে


বিজ্ঞান পড়ছেন, ল্যাব ছাড়াই ভার্চুয়াল এক্সপেরিমেন্ট করছেন


প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে আলাদা করে কাস্টমাইজড শিক্ষক



ভবিষ্যতে এমনকি হিউম্যানয়েড রোবট শিক্ষকও দেখা যেতে পারে।


তাহলে মানুষ কি মেশিনের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে?


এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

খুব শিগগিরই এমন মেশিন তৈরি হতে পারে, যা একসাথে পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হবে।


তাহলে মানুষ কোথায় এগিয়ে থাকবে?


অনেকের মতে, মানুষ এগিয়ে থাকবে ইমোশন বা অনুভূতির ক্ষেত্রে। অনুভূতি বোঝা, সহানুভূতি, ভালোবাসা, মানবিকতা—এই জায়গাগুলো এখনো মেশিন পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি।


যত শক্তিশালীই হোক, মানুষের অনুভূতির গভীরতায় পৌঁছানো মেশিনের জন্য সহজ হবে না।


শেষ কথা


প্রযুক্তি আমাদের জন্য হুমকি নয়, বরং এক বিশাল সুযোগ।

যদি আমরা জ্ঞান, নৈতিকতা আর মানবিকতা একসাথে ধরে রাখতে পারি, তাহলে এই ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য ভয়ংকর নয়—বরং আশার।


ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে আজকের শি

ক্ষার্থীদের হাতেই। তাই এখনই শেখা, বোঝা আর ভাবতে শেখাটাই সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি।

ইতিহাসের পাতায় জোট রাজনীতি: ক্ষমতা, সমঝোতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা


 এই প্রজন্মের অনেকেই সাম্প্রতিক রাজনীতি জানে, কিন্তু পেছনের গল্পগুলো জানে কম। ইতিহাস না জানলে বর্তমানের রাজনীতিও ঠিকভাবে বোঝা যায় না। তাই একটু পেছনে তাকানো দরকার।


১৯৯১ সালের কথা। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু একা নয়। জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সহযোগিতায় তখন সরকার গঠন হয়। সেই নির্বাচনে জামায়াত প্রায় ২০টির মতো আসন পায়। বাস্তবতা ছিল স্পষ্ট—এই জোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সহজ ছিল না।


এরপর ১৯৯৬ সাল। বিএনপি এবার ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা করে। জামায়াতকে পাশে না রেখে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। ফলাফলও ইতিহাসে লেখা আছে। সরকার গঠন হলেও সেই ক্ষমতা টিকে ছিল মাত্র দুই মাস। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে।


২০০১ সালে আবার দৃশ্যপট বদলায়। বিএনপি ফের জামায়াতসহ চারদলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে যায় এবং ক্ষমতায় আসে। এখানেও বাস্তবতা একই। জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো নজির নেই।


এই ধারাবাহিকতা অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোট, সমঝোতা আর স্বার্থের হিসাব নতুন কিছু নয়। সময় বদলায়, চরিত্র বদলায়, কিন্তু কৌশল অনেকটাই একই থাকে।


সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ। ২০২৪ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা আসে, আর তার পরপরই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আঞ্চলিক রাজনীতি, প্রতিবেশী দেশের প্রভাব, আধিপত্যের প্রশ্ন—সবকিছু মিলেই বাংলাদেশের রাজনীতি আজকের এই জায়গায় দাঁড়িয়ে।


এই দেশ হযরত শাহজালাল (র.)–এর দেশ। ধর্ম, রাজনীতি আর জনগণের বিশ্বাস এখানে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ইতিহাসের ধারায় অনেক দল এসেছে, অনেক সরকার গেছে। কিন্তু আদর্শ আর বিশ্বাসের রাজনীতি তার নিজস্ব পথেই টিকে থাকে।


এই বাস্তবতাগুলো জানা জরুরি। কারণ ইতিহাস ভুলে গেলে রাজনীতি শুধু স্লোগানে আটকে যায়, আর স্লোগান দিয়ে সত্যকে কখনো পুরো বোঝা যায় না।

ওসমান হাদী একটি সময়ের সাক্ষ্য


 শরীফ ওসমান হাদীর নাম এখন আর শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় নয়। এটি একটি সময়ের সাক্ষ্য, একটি প্রশ্নের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বিবেক, আর একটি স্বপ্নের নাম, যে স্বপ্নের কেন্দ্রে ছিল ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ।


তিনি এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করেছিলেন যেখানে ক্ষমতার আগে ন্যায়, দলের আগে মানুষ, আর ভয়ের আগে সত্য কথা বলার সাহস থাকবে। রাজনীতি তার কাছে ছিল পদ-পদবির সিঁড়ি নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, ঝুঁকি নিয়েছেন, আপস করেননি।


নিজের দেশের তরে অকাতরে জীবন দিয়ে যাওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। যারা এই পথে হাঁটে, তারা জানে পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। তবু শরীফ ওসমান হাদী পেছনে ফেরেননি। তিনি জানতেন, ন্যায়ের পথে হাঁটলে হয়তো জীবন ছোট হবে, কিন্তু ইতিহাসে মাথা উঁচু করে থাকা যাবে। সেই মূল্য তিনি দিয়েছেন নিজের রক্ত দিয়ে।


তার শহীদ হওয়া শুধু একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়। এটি একটি বার্তা। সেই বার্তা সারা দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে, নাড়া দিয়েছে, আবার ভাবতে বাধ্য করেছে। আমরা কোন পথে যাচ্ছি। কার জন্য এই দেশ। আর কাদের কণ্ঠস্বর আমরা চুপ করিয়ে দিচ্ছি।


শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে। সেখানে দেখা যায় ভয়, নীরবতা, সুবিধাবাদ। আবার একই সঙ্গে দেখা যায় সম্ভাবনা। যদি আমরা তার বলা ইনসাফের কথা মনে রাখি, যদি ন্যায়কে শুধু স্লোগান নয় বরং চর্চায় পরিণত করি, তাহলে তার রক্ত বৃথা যাবে না।


ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ মানে নিখুঁত দেশ নয়। মানে এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে অন্যায় করলে জবাবদিহি থাকবে, যেখানে ভিন্নমত মানেই শত্রু নয়, আর যেখানে একজন নাগরিক তার অধিকার চাইতে গিয়ে প্রাণ হারাবে না।


শরীফ ওসমান হাদী চলে গেছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এখন আমাদের দায়িত্ব। ইতিহাস একদিন জিজ্ঞেস করবে, একজন মানুষ ন্যায়ের কথা বলে জীবন দিয়ে গেল, আর বাকিরা কী করেছিল।


শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা শুধু ফুলে নয়, ইনসাফের পথে হাঁটার সাহসই সবচেয়ে

 বড় শ্রদ্ধা।