ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

 




নিজস্ব প্রতিবেদক ।

ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান।

সৌজন্যমূলক এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই জাতির সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করা হয়। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং তাঁর সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের জন্য আবারও উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

 বাজেট ও জননীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জামায়াতের





নিজস্ব প্রতিবেদক 

আসন্ন জাতীয় বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য গণমুখী হতে হবে।

আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ৫ ও ৬ জুন (শুক্রবার ও শনিবার) ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশের প্রাক্কালে সংসদ সদস্যদের অর্থনৈতিক ও জননীতি বিষয়ক জ্ঞান এবং সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মশালায় জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্বকারী ৭৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) অংশ নেন।

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকেরা এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যরা কীভাবে জাতীয় বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংসদে জনদাবিগুলো যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন কৌশলগত পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেন।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁরা সংসদীয় রীতিনীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে সংসদ সদস্যদের মহান জাতীয় সংসদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা শেষ হয়।

সিলেটে চিকিৎসাধীন সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা



নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে সিলেটের একটি হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।

আজ সোমবার (১ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন এই সাবেক সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইসিইউতে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে সাবেক এই এমপির সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতির বিবরণ শোনেন। পরে তিনি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর দ্রুত ও পরিপূর্ণ আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শিশু খাবারে হরিলুট

সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে 'বিষ' ছড়াচ্ছে দুর্নীতি!

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির জোগান দিতে এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে চালু করা হয়েছিল ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্প’। ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের মূল লক্ষ্য ছিল একটাই—বাচ্চাদের মুখে একটু পুষ্টিকর ও উন্নত মানের খাবার তুলে দেওয়া।

কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের সীমাহীন লোভের বলি হচ্ছে লাখ লাখ নিরীহ শিশু। পুষ্টিকর খাবারের নামে তাদের পাতে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিকযুক্ত, বাসি, পচা এবং ওজনে কম নিম্নমানের খাবার। দেশের ১১টি উপজেলায় যমুনা নিউজের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে শিশুদের খাবারের বাজেট থেকে কোটি কোটি টাকা লুটের এক ভয়ংকর চিত্র।

📊 এক নজরে প্রতিদিনের 'পকেট কাটা'র হিসাব


 🪱 পচা রুটি ও ‘ওজনহীন’ ডিম: টেকা দায়, খাওয়া তো দূরের কথা!

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসার ও তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের যে মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছে তা মুখে তোলার মতো নয়।

 ১. ফাঙ্গাস ও দুর্গন্ধযুক্ত রুটি

২৪ টাকা দামের ১২০ গ্রামের যে রুটি বাচ্চাদের দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে রাখা। রুটিটি ছিঁড়লেই ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। অনেক রুটিতে স্পষ্ট ফাঙ্গাস (ছত্রাক) দেখা গেছে। তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, এটি এখন তাদের এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. ডিমের ওজনে শুভঙ্করের ফাঁকি

নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ডিমের ওজন হতে হবে কমপক্ষে ৬০ গ্রাম। কিন্তু ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেখা গেছে, কোনো ডিমই ৩৫-৪৫ গ্রামের বেশি নয়। পাবনার একটি খামারে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ছোট ডিম কিনলে ঠিকাদারদের প্রতি ডিমে ১ টাকা বা তারও বেশি লাভ হয়।

ভীতিকর তথ্য: প্রতিদিন যদি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে ১ টাকা করে কম ওজনের ডিম দেওয়া হয়, তবে শুধু ডিমের আকার ছোট করেই প্রতিদিন কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকছে ৩০ লাখ টাকা!

🍌 ৩ টাকার কলা সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কলা সরবরাহে চলছে প্রকাশ্য লুটপাট। চুক্তিতে ১০০ গ্রাম ওজনের সাগর কলার দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ টাকা। অথচ উত্তরের বৃহত্তম কলার হাট দুর্গাদহ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এই নিম্নমানের ছোট কলাগুলোর পিস মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা!

কলা তাড়াহুড়ো করে পাকানোর জন্য অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল। ফলে সেগুলো বাইরে হলুদ হলেও ভেতরে শক্ত এবং কষযুক্ত থাকে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কলা খাওয়ালে আগে বাচ্চার কাশির ওষুধ কিনে রাখতে হয়।" ২৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কলার বাজেট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি টাকা লোপাট করছে অসাধু চক্র।

 🏥 হাসপাতালের বিছানায় কোমলমতি শিশুরা

এই বিষাক্ত ও কেমিক্যালযুক্ত খাবার খেয়ে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে মিড-ডে মিলের রুটি খেয়ে একসঙ্গে ২০ জন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা ও বমি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ছোট্ট রাইসা মুনতাহা এই খাবার খেয়ে দুদিন হাসপাতালে কাটানোর পর এখনো আতঙ্কে ভুগছে। তার মা জান্নাতুল আর্তনাদ করে প্রশ্ন তোলেন:

"সস্তা নিম্নমানের খাবার দিয়ে সন্তানের জীবন নিয়ে খেলছেন কারা? বাচ্চাদের কিছু হয়ে গেলে তারা কি আমার বাচ্চা ফিরিয়ে দিতে পারত?"

🚫 স্বাস্থ্যঝুঁকি: বিকল হতে পারে লিভার ও কিডনি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টাদের মতে, এই ধরণের বাসি, পচা এবং কেমিক্যালযুক্ত খাবার শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এর ফলে শিশুদের ডায়রিয়া, জন্ডিস, হেপাটাইটিস তো হচ্ছেই, পাশাপাশি খাদ্যের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের কারণে শিশুদের লিভার ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 💬 কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি:

রাজশাহী বিভাগের ১২টি উপজেলায় পৌনে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীর খাবার সরবরাহ করে 'গণ উন্নয়ন কর্মকা' নামের একটি সংস্থা। এত বড় অনিয়মের ব্যাপারে তাদের দায়সারা জবাব—"হাজার হাজার ডিমের মধ্যে সব চেক করা সম্ভব নয়।" তবে প্রকল্প পরিচালক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী যমুনা নিউজের সংগৃহীত প্রমাণ দেখে জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে খাবার বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের এই অনুসন্ধানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি দুর্নীতি দমনের আশ্বাস দেন।

📌 আমাদের বক্তব্য (Conclusion):

সরকার আগামীতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চায়। কিন্তু দুর্নীতির এই লাগামহীন ঘোড়াকে যদি এখনই টেনে ধরা না যায়, তবে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা কেবল অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের পকেটই ভারী করবে। আর আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ—এই কোমলমতি শিশুরা—থেকে যাবে তিমিরেই।

আপনার কী মতামত?

আপনার এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিলের নামে কেমন খাবার দেওয়া হচ্ছে? কমেন্ট সেকশনে আমাদের জানান এবং 

পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে সচেতন করুন।

রাজনীতি কি আবেগ নাকি যুক্তি?

ফজলুর রহমানদের 'দ্বিচারিতা' ও আমাদের সংবিধান

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিতর্ক বেশ চাউর হয়েছে—মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জামায়াতে ইসলামী করতে পারবে কি না? সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং লয়ার এবং রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একটি বক্তব্যে দাবি করেছেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জামায়াতে যোগ দিলে তা হবে ‘ডাবল অপরাধ’। একজন শিক্ষিত এবং সচেতন মানুষের মুখ থেকে এমন আবেগপ্রসূত ও অসাংবিধানিক বক্তব্য সত্যিই বিস্ময়কর।

 ১. ফজলুর রহমান বনাম আইনি বাস্তবতা

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একজন বিজ্ঞ আইনজীবী। আইন ও সংবিধান তার নখদর্পণে থাকার কথা। কিন্তু তিনি যখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের রাজনৈতিক অধিকারকে ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন প্রশ্ন জাগে—তিনি কি আইন বলছেন নাকি সস্তা রাজনৈতিক আবেগ ফেরি করছেন?

একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। আমাদের মনে আছে "সালেহা হত্যা মামলার" কথা। ডাক্তার ইকবাল সালেহাকে হত্যা করেছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমা চাওয়া হলে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল—একজন ডাক্তার জানেন শরীরের ঠিক কোথায় আঘাত করলে মানুষ মারা যায় (The doctor knows where to hit)। ফজলুর রহমান সাহেবের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। একজন লয়ার হিসেবে তার জানা উচিত কোনটি সংবিধানসম্মত আর কোনটি নয়। জেনেবুঝে যখন তিনি অসাংবিধানিক কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে তিনি সুস্থ রাজনীতি নয়, বরং সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছেন।

 ২. দলবদল কি কেবল নির্দিষ্ট মানুষের জন্য অপরাধ?

ফজলুর রহমান সাহেব একসময় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, পরে তিনি দল পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি।

 যারা মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বিএনপিতে গেছেন, যেমন—মেজর সামসুল হুদা (যিনি পরে নৌকায় উঠে এমপিও হয়েছিলেন)।

 আবার বিএনপি থেকে তথাকথিত ‘রাজাকারের দল’ বা জামায়াতের জোটে গিয়েছেন মেজর আখতারুজ্জামান

 বা 'কর্নেল অলির' মতো বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এমনকি বর্তমান জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতাও একসময় জাসদ বা অন্যান্য বামপন্থী ছাত্রসংগঠন করতেন।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—আপনারা দলবদল করলে সেটি 'কৌশল', আর সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অন্য দলে গেলে সেটি 'ডাবল অপরাধ'? এই দ্বিচারিতা বা হিপোক্রেসি সাধারণ মানুষ এখন ধরে ফেলেছে।

৩. সংবিধানের প্রতি ‘নির্বাচিত’ সম্মান কেন?

ফজলুর রহমান সাহেবকে একটি পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই। আপনি সংবিধানের প্রতি অনেক শ্রদ্ধার কথা বলেন। সংবিধানের চতুর্থ তফসিল বা ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সর্বত্র প্রদর্শনের যে বাধ্যবাধকতা (আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত) আছে, তা কি এখন পালিত হচ্ছে? বঙ্গভবন বা গণভবন থেকে যখন ছবি সরানো হয়, বা গত অধিবেশনে যখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ভিন্ন বিতর্ক ওঠে—তখন আপনি কেন চুপ থাকেন?

গ্যালারির বাইরে থেকে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’-এর মতো গর্জন দেওয়া সহজ। সাহস থাকলে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো তুলুন। অন্যের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রমাণ করুন।

 ৪. রাজাকার বনাম মুক্তিযোদ্ধা: বিভাজনের শেষ কোথায়?

মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। এটি একটি জাতীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে রাজাকাররা আইডেন্টিফাইড ছিল, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানে ছিল। কিন্তু আজ ৫৪ বছর পর এসেও কি আমরা কেবল এই বিভাজন নিয়েই পড়ে থাকব?

  সাগর-রুনি হত্যা হয়েছে; তারা কার সন্তান ছিল—মুক্তিযোদ্ধার নাকি রাজাকারের? সেটি কি বড় কথা, নাকি তারা যে রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের বিচার পাওয়া উচিত সেটি বড় কথা?

  অপরাধীকে তার পারিবারিক পরিচয় দিয়ে নয়, বরং তার কাজ দিয়ে বিচার করতে হবে।

৫. রাষ্ট্র কি কেবল অতীত নিয়ে বাঁচবে?

আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে কি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে প্রতিদিন পার্লামেন্টে ঝগড়া হয়? হয় না। তারা এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে। আর আমরা এখনো ১৯৭১, ১৯৫২ আর ১৯৯০ নিয়ে পড়ে আছি।

আমাদের আজ আলাপ করা উচিত ছিল:

 বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে।

 গার্মেন্টস খাতের সংকট ও জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে।

 তেল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে।

রাজনীতি আবেগের জায়গা নয়, এটি যুক্তি ও সমাধানের জায়গা। ফজলুর রহমানদের মতো ব্যক্তিদের বোঝা উচিত, ‘আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, সংসদও চলে না’। আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে প্রশ্ন তোলা যাবে, সমালোচনা করা যাবে। বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে প্রকৃত জনসমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়াই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম।

মিথ্যা হুমকি আর সস্তা আবেগ ছেড়ে আসুন আমরা যুক্তির রাজনীতি করি। কালকের পার্লামেন্টে যদি সাহস থাকে, তবে প্রকৃত সাংবিধানিক সংকট নিয়ে কথা বলুন। জনগণ দেখতে চায় বাঘের গর্জন শুধু টিভির পর্দায় নয়, ন্যায়ের পক্ষেও সমানভাবে কাজ করে কি না।


একাত্তর, রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামী - বিতর্কের ভেতরের বক্তব্য


বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি নিয়ে বিতর্ক যেন থামার নাম নিচ্ছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে ঘিরে এই আলোচনার তীব্রতা সময়ের সাথে আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই বিতর্ক, এবং এর পেছনে কী ধরনের যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে?

কেন এই রাজনৈতিক অবস্থান-

একটি অংশের মতে, তারা সচেতনভাবেই জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছে। তাদের দাবি, একজন মুসলমান হিসেবে জীবনযাপন, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে এই সংগঠনকে তারা সবচেয়ে উপযোগী মনে করে। কুরআন-হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা অনুযায়ী ব্যক্তি চরিত্র গঠন ও জীবনধারা পরিচালনায় এই দল তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে—এমন বিশ্বাসও তারা ব্যক্ত করে।

৭১-এর অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যা-

সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। সমালোচকদের অভিযোগ—রাজাকার বা আলবদর বাহিনীর সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, রাজাকার বাহিনী ছিল তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের অধীন একটি সংগঠন, যেখানে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্ত হয়েছিল। তারা স্বীকার করে যে সেই সময় নানা অন্যায় কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু দাবি করে—এসবের সঙ্গে জামায়াতের সম্পৃক্ততা খুবই সীমিত ছিল।

তাদের যুক্তির মধ্যে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়—

১৯৭১ সালে দেশে জামায়াতের বিস্তৃতি খুব সীমিত ছিল।

সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মভিত্তিক নৈতিক মানুষ তৈরি করা।

সদস্যদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন, আত্মসমালোচনা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর জোর দেওয়া হতো।

সংগঠন কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি-

সমর্থকদের ভাষ্যমতে, জামায়াতে ইসলামীতে সদস্যদের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি রয়েছে। কুরআন-হাদিসভিত্তিক শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিকতা গঠনের মাধ্যমে ব্যক্তিকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। দায়িত্বশীলদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় বলে তারা দাবি করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবস্থান-

সমর্থকদের মতে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরোধিতা করেছিল জামায়াত। তবে ১৯৭১ সালে ভারতের ভূমিকাকে সন্দেহের চোখে দেখার কারণে দলটি স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থানে সরাসরি যুক্ত হয়নি।

তাদের দাবি—দেশের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যরা সাধারণ মানুষের সহায়তায় কাজ করেছে এবং পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতন থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছে।

বিচার ও সমালোচনা প্রসঙ্গ-

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে সমর্থকদের একটি অংশ প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ার নানা দিক বিতর্কিত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এছাড়া তাদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় সুনামধন্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বাধীনতা ও বর্তমান রাজনীতি-

সমর্থকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে জামায়াতে ইসলামী পরবর্তীতে মেনে নিয়েছে এবং সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করেই দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে। তাদের দাবি—স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো কার্যকলাপের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি।

ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন-

সমালোচকদের পক্ষ থেকে অতীতের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠলেও, সমর্থকদের বক্তব্য—যে অপরাধ তারা স্বীকার করে না, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসে না। তারা এটিকে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

শাসন ও প্রশাসনে ভূমিকা-

সমর্থকদের মতে, অতীতে জোট সরকারের সময় মন্ত্রণালয় পরিচালনার মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও স্বচ্ছতার উদাহরণ দেখিয়েছে। তাদের দাবি—এ সময়কার কার্যক্রমই তাদের সক্ষমতার প্রমাণ।

বিরোধিতার কারণ কী?

সবশেষে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিরোধিতার মূল কারণ কী? সমর্থকদের মতে, এর পেছনে ধর্মীয় আদর্শের বিরোধিতাও একটি কারণ হিসেবে কাজ করে। তারা কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে মনে করে, ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়।

এই পুরো বিতর্কে স্পষ্ট যে, একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা বিদ্যমান। একদিকে রয়েছে অভিযোগ, অন্যদিকে পাল্টা যুক্তি।

জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে এই আলোচনা তাই কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নয়—বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, আদর্শ ও মতাদর্শিক বিভাজনেরও প্রতিফলন।

স্থানীয় সরকার, এমপি ক্ষমতা ও বাস্তবতার প্রশ্ন

সম্প্রতি ২১শে এপ্রিল সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে—যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি উপজেলার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি করে “পরিদর্শন কক্ষ” স্থাপন করতে হবে, যেখানে ওয়াশরুমসহ (এটাচ বাথ) সুবিধা থাকবে। উদ্দেশ্য—সংসদ সদস্যরা (এমপি) এলাকায় গেলে সেখানে বসতে পারবেন।

প্রথম দৃষ্টিতে বিষয়টি খারাপ মনে হয় না। একজন এমপি এলাকায় গেলে বসার জন্য একটি নির্দিষ্ট কক্ষ থাকা—এটা স্বাভাবিক চাহিদা। কিন্তু বাস্তবতা কি এত সরল?


🔍 সমস্যার মূল জায়গা কোথায়?

এই কক্ষগুলো কি শুধু এমপিদের অস্থায়ী ব্যবহারের জন্য থাকবে, নাকি তা ধীরে ধীরে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হয়ে উঠবে?

বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, অনেক ক্ষেত্রেই এমপি এলাকায় না থাকলেও তাদের অনুসারীরা এসব জায়গা ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপজেলা পরিষদ, এমনকি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাজেও অযাচিত হস্তক্ষেপ দেখা যায়।

⚖️ ক্ষমতার ভারসাম্য: কাগজে-কলমে বনাম বাস্তবতা

নীতিগতভাবে, একটি দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হওয়া উচিত জনগণের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রশাসনিক কাঠামো। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে থাকবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়:

- একটি উপজেলায় সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এমপি

- এরপর ইউএনও, তারপর থানার ওসি

- আর নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান চলে যান নিচের সারিতে

এটি একটি অস্বাভাবিক কাঠামো, যা গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক।


🧠 একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

একবার এক এমপির সাথে আলাপচারিতায় তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন:

“কাগজে-কলমে যাই থাকুক, বাস্তবে একজন এমপি তার এলাকায় রাজার মতো ক্ষমতা ভোগ করেন।”

আরও আশ্চর্যের বিষয়—তিনি এটাও বলেছিলেন যে,


“এই পরিমাণ ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত নয়।”


এটি শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, বরং একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন।


🏗️ উন্নয়ন কার কাজ?


একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব কার?


- একটি ব্রিজ কোথায় দরকার, তা কি এমপি জানবেন?

- নাকি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনগণ তা ভালো জানবেন?


আদর্শভাবে, এমপির কাজ আইন প্রণয়ন করা।

স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।


কিন্তু আমাদের দেশে এই সীমারেখা প্রায়ই অস্পষ্ট হয়ে যায়।


📉 স্থানীয় সরকার কেন দুর্বল?


বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে কখনোই পুরোপুরি শক্তিশালী হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেও মন্ত্রণালয় ইচ্ছামতো বরখাস্ত বা স্থগিত করতে পারে—যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।


একজন জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে একজন আমলা সরিয়ে দিতে পারেন—এটা কি গ্রহণযোগ্য?


🧾 বিশেষ সুবিধা ও বৈষম্য


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমপিদের বিশেষ সুবিধা:


- ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি

- টোলমুক্ত চলাচল

- বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা


সংবিধান বলে “সকল নাগরিকের সমান অধিকার”—

তাহলে এই বৈষম্য কেন?


🧭 সামনে কী করা উচিত?


আমার দৃষ্টিতে কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন:

1. স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত ক্ষমতায়ন করতে হবে

2. এমপিদের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করতে হবে

3. নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

4. বিশেষ সুবিধা ও বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করতে হবে।


একটি দেশের উন্নয়ন কখনোই শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে না। উন্নয়নকে ছড়িয়ে দিতে হবে গ্রাম থেকে শহরে, উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত।


স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করলে, গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বলই থেকে যাবে।


আমরা কি ৩০০ জন “রাজা” নির্বাচন করছি,

নাকি জনগণের সেবক?

আপনাদের মতামত জানাতে মন্তব্য করুন।