নতুন প্রশাসক, নতুন প্রত্যাশা

 

নওগাঁ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক

জনাব আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু কে 

ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন নওগাঁ-৪৮ আসনের নবনির্বাচিত এমপি

 জনাব ফজলে হুদা বাবুল।




গত ১৪ মার্চ নওগাঁ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে জনাব আবুবক্কর সিদ্দিক নান্নু নিয়োগ পেয়েছেন। এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলার নাগরিক সেবা, তথ্যব্যবস্থা এবং ডিজিটাল উপস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের আশা—জেলা পরিষদের ওয়েব পোর্টালে দীর্ঘদিনের তথ্যগত ঘাটতি, সেবাবিষয়ক অস্পষ্টতা এবং হালনাগাদের সীমাবদ্ধতাগুলো অচিরেই দূর হবে।


বর্তমান সময়ে সরকারি ওয়েব পোর্টাল শুধু একটি পরিচিতিমূলক মাধ্যম নয়; এটি নাগরিকের জন্য তথ্য, যোগাযোগ, সেবা ও জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। মানুষ চায়, ঘরে বসেই যেন জানতে পারে—বর্তমানে দায়িত্বে কে আছেন, কোন সেবা কোথায় পাওয়া যায়, কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, এবং নতুন কোনো নোটিশ বা দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত এসেছে কি না। কিন্তু যখন একটি সরকারি পোর্টালে এসব তথ্য হালনাগাদ, সুসংগঠিত ও সহজভাবে পাওয়া যায় না, তখন সেই পোর্টাল তার পূর্ণ জনসেবামূলক ভূমিকা পালন করতে পারে না।


নওগাঁ জেলা পরিষদের ওয়েব উপস্থিতি নিয়েও এমন কিছু ঘাটতি চোখে পড়ে, যা নাগরিক সেবার মানকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে পারেনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রশাসনিক তথ্যের স্পষ্ট ও সময়োপযোগী হালনাগাদ না থাকা। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ওয়েবসাইটে পরিষ্কারভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। কারণ নাগরিকের প্রথম প্রয়োজনই হলো—বর্তমানে দায়িত্বে কে আছেন এবং কোন দপ্তরের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে।


এর পাশাপাশি নাগরিক সেবার তথ্যের সমন্বিত ও ব্যবহারবান্ধব উপস্থাপনার অভাবও একটি বড় সীমাবদ্ধতা। সাধারণ মানুষ খুব স্বাভাবিক কিছু উত্তর খোঁজেন—কী সেবা পাওয়া যায়, কীভাবে পাওয়া যায়, কোথায় যেতে হয়, কত সময় লাগে, কাকে যোগাযোগ করতে হয়। এসব যদি এক জায়গায় পরিষ্কারভাবে সাজানো না থাকে, তাহলে ওয়েবসাইট থাকা সত্ত্বেও মানুষকে আবার অফিসে যেতে হয়, অন্যের সহায়তা নিতে হয়, কিংবা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। সিটিজেন চার্টার, সেবা-নির্দেশিকা, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগাযোগ—এসব তথ্য দৃশ্যমান ও সহজলভ্য হলে নাগরিক ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেতে পারে।


আসলে একটি কার্যকর সরকারি পোর্টাল মানুষকে ঘুরপাক খাওয়ায় না, বরং সঠিক পথে এগোতে সাহায্য করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকের হালনাগাদ পরিচিতি, সহজ ভাষার সিটিজেন চার্টার, সেবাভিত্তিক মেনু, স্পষ্ট যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়মিত নোটিশ আপডেট এবং অভিযোগ জানানোর দৃশ্যমান ব্যবস্থা থাকলে নাগরিক সেবার মান অনেক উন্নত হতে পারে। মানুষ কম সময়ে, কম ভোগান্তিতে, কম বিভ্রান্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাবে—এটাই তো ডিজিটাল সেবার মূল উদ্দেশ্য।


নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের এই সময়টি তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি সম্ভাবনার মুহূর্ত। আশা করা যায়, নওগাঁ জেলা পরিষদের বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে ওয়েব পোর্টালকে আরও হালনাগাদ, কার্যকর, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব করে তোলা হবে। কারণ একটি ভালো সরকারি ওয়েবসাইট কেবল অনলাইন উপস্থিতি নয়; এটি মানুষের সময় বাঁচায়, ভোগান্তি কমায়, সেবার মান বাড়ায় এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা তৈরি করে।


নওগাঁ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসনের কাছে তাই নাগরিকের প্রত্যাশা একটাই—ডিজিটাল উপস্থিতি যেন কেবল দেখানোর জন্য না থেকে, বাস্তব অর্থেই সবার জন্য সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর সেবার দরজায় পরিণত হয়।

হামলা-জালিয়াতি বন্ধ না হলে ‘কঠোর’ হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এবং ১১ দলীয় জোটের অবস্থান। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জোটের নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো ‘ফ্যাসিবাদী’ আচরণ বন্ধ না হলে তারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবেন না।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন-

ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতি গভীর তদারকি করা হয়। বৈঠকে নেতাদের আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ:

 * ভোট কারচুপি ও অনিয়ম: এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সেন্টার দখলের মতো ঘটনা।

 * ফলাফল শিটে ঘষামাজা: নির্দিষ্ট কিছু আসনে (যেমন: ঢাকা-১৩, খুলনা-৫) ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ।

 * আইনি ব্যত্যয়: আরপিও লঙ্ঘন করে ঋণখেলাপিদের বিজয়ী ঘোষণার প্রতিবাদ।

সহিংসতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান

বৈঠকের মূল সুর ছিল একটাই—শান্তি ও শৃঙ্খলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটারদের বাড়িতে আগুন এবং নেতাকর্মীদের ওপর যে শারীরিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে, তাকে জোটের পক্ষ থেকে ‘ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। নেতারা ঐক্যমতে পৌঁছেছেন যে, দেশে পুরনো ধারার কালো অধ্যায়ের রাজনীতি আর চলতে দেওয়া হবে না।

 "আমরা শান্তিশৃঙ্খলা ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পক্ষে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য কোনো আপস করবে না।" — ডা. শফিকুর রহমান।

আগামীর লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি

১১ দলীয় জোট কেবল প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা একটি সুস্থ ও নতুন ধারার রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে:

 * জনগণের অধিকার: কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়, বরং আপামর জনসাধারণের অধিকার রক্ষায় তারা সোচ্চার থাকবেন।

 * নারীর নিরাপত্তা: নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

 * আইনি প্রতিকার: যেসব আসনে জালিয়াতি হয়েছে, সেখানে দ্রুত আইনি সমাধান চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সমাধান না পেলে নতুন কর্মসূচি আসবে।

উপস্থিত ছিলেন যারা

এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির আলতাফ হোসাইনসহ জোটভুক্ত দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।

নির্বাচন পরবর্তী এই অস্থির সময়ে ১১ দলীয় জোটের এই কঠোর অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়। জোটের বার্তা পরিষ্কার—সুস্থ রাজনীতি চাইলে অনিয়ম ও দমন-পীড়ন বন্ধ করতেই হবে।

আপনি কি মনে করেন এই জোটের কঠোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে? আপনার 

মতামত কমেন্টে জানান।

ভোটের যুদ্ধ ২০২৬: আসনের ফারাক বনাম জনমতের শক্তি


নির্বাচনের পরিসংখ্যান, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মানুষের প্রত্যাশা-

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। নির্বাচনের ফলাফল শুধু সংখ্যার হিসাব নয়—এটি মানুষের মানসিকতা, আশা ও প্রত্যাশার স্পষ্ট প্রতিফলন।


ভোটের ফলাফল: জনমতের চিত্র


নির্বাচনের ভোটের হিসাব অনুযায়ী:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট: ৪৩.৯% ভোট

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট: ৪৬.৬% ভোট

মোট ভোটের ব্যবধান মাত্র ২.৭%, কিন্তু আসনের ব্যবধান ১৩৫ আসন (২১২-৭৭)। অর্থাৎ ভোটের ছোট ব্যবধান হলেও আসনের ফলাফল বড় ফারাক দেখিয়েছে।


 সংক্ষেপে: ভোটের সংখ্যা ও আসনের ফলাফল সবসময় সমানুপাতিক নয়, যা নির্বাচন পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা।

জরিপ ও আসনভিত্তিক ফলাফল


বিভিন্ন অথেনটিক জরিপ দেখিয়েছে যে দুই জোটের সমর্থন প্রায় কাছাকাছি ছিল। ফলে বলা যায়, জামায়াত জোট অল্প ব্যবধানের জন্য পরাজিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসনভিত্তিক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’র ফলাফল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।


জনতার পাশে থাকা: ভবিষ্যতের সমর্থনের চাবিকাঠি


রাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জনসমর্থন স্থির থাকে না। মানুষের পাশে থাকা, তাদের সমস্যা শোনা এবং কার্যকর সমাধান দেওয়া ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করে।


জনগণের পাশে থাকুন।


সংকটের সময় তাদের পাশে দাঁড়ান।


মানুষের আস্থা ও সমর্থন জিতুন।

 ইতিহাস প্রমাণ করেছে, যারা জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখে, তারা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যায়।


নির্বাচন থেকে শেখার আছে যা:


ভোটের ফলাফল শুধুই সংখ্যা নয়, এটি জনমতের শক্তি ও প্রত্যাশার আঙ্গিক।


আসনভিত্তিক ব্যবধান কখনো কখনো ভোটের সংখ্যার চেয়ে বেশি প্রভাবশালী।


জনগণের আস্থা অর্জন করাই দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক শক্তির মূল চাবিকাঠি।


ইতিহাস, আবেগ ও বাস্তবতা: ১৯৭১ নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সময় কি এসেছে?

  


আমাদের অনেকেই ছোটবেলা থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গল্প শুনে বড় হই। কিন্তু ইতিহাস কখনও একমাত্রিক নয়।


১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিভাজনের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে আজও বিতর্ক আছে। সাধারণভাবে এটি স্বাধীনতার বিরোধিতা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি বলছে — বিষয়টি ছিল ভূরাজনীতি, আদর্শ এবং ভবিষ্যৎ আশঙ্কার সমন্বয়।


∆ প্রশ্নটি সহজ করে ভাবুন


আজ যদি বাংলাদেশকে দুই ভাগ করার প্রস্তাব আসে — আপনি কি একক রাষ্ট্রের পক্ষে থাকবেন না বিভক্তির পক্ষে?


যদি একক রাষ্ট্রের পক্ষে থাকা দেশপ্রেম হয়, তাহলে ১৯৭১ সালে একক পাকিস্তানের পক্ষে থাকা কি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ছিল?


∆ জামায়াতের প্রধান আশঙ্কা


১. ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি


২. মুসলিম পরিচয়ের সংকট


৩. গণতান্ত্রিক অধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হওয়া


৪. অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হওয়া


৫. নিরাপত্তা ঝুঁকি


❖ লেখকের দাবি


স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় — বিশেষ করে অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রে — এসব আশঙ্কার কিছু অংশ সত্য হয়েছে বলে লেখকের উপলব্ধি।


∆ মূল বার্তা


ইতিহাসকে একমাত্রিক দৃষ্টিতে নয়, বহুমাত্রিকভাবে দেখা দরকার।


More details coming soon...

নওগাঁ-৩ আসনে ফজলে হুদা বাবুলের দৃষ্টান্তমূলক জয়: বদলগাছী-মহাদেবপুরে উন্নয়নের নতুন অধ্যায়


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৩ আসনের ভোটাররা এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এক যোগ্য নেতাকে সংসদে পাঠিয়েছেন। বদলগাছী ও মহাদেবপুরের মানুষ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেছে নিয়েছেন ফজলে হুদা বাবুলকে — একজন শিক্ষিত, মার্জিত এবং দূরদর্শী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। এই জয় শুধু পার্টির বা রাজনৈতিক দলের নয়; এটি এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অধিকার পুনঃপ্রাপ্তির, শান্তি ও সমৃদ্ধির এক শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি।


ফজলে হুদা বাবুল নিজেই এই এলাকার সন্তান। তিনি বেড়ে উঠেছেন বদলগাছীর মাটিতে, এই অঞ্চলের মানুষ ও কৃষকের দৈনন্দিন কষ্টের সঙ্গে পরিচিত। শ্রমিকের ঘাম ও কৃষকের পরিশ্রম তার কাছে অপরিচিত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল যথাযথ নেতৃত্বের অভাবে পিছিয়ে থাকলেও, নতুন সংসদ সদস্যের হাত ধরে বদলগাছী ও মহাদেবপুরের উন্নয়ন শুরু হবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।


এ জয়কে অনেকেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিজয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি ধর্মান্ধতার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিজয়। এলাকার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এখন ফজলে হুদা বাবুলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একসূত্রে বাঁধা।


নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:


রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে বদলগাছী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ।


কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: কৃষিপণ্য সংরক্ষণে স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিভিত্তিক ‘বাইপ্রোডাক্ট’ শিল্পের প্রসার।


পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও এগ্রো টুরিজম কেন্দ্র তৈরি করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন স্থাপন।


এছাড়া, ফজলে হুদা বাবুলের পরিকল্পনায় বদলগাছী উপজেলা সদরকে আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ প্রস্তাব করা হয়েছে:


1. বাইপাস সড়ক ও চৌরাস্তা ডাবল লেন: সদর এলাকা সম্প্রসারণ, যানজট কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ।


2. খাস জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নগরায়ণ: মূল সড়কের পাশে জমির সঠিক ব্যবহার, নতুন আবাসন ও বাজার গঠন করে শহরের ঘনত্ব কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা।


শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মাদকমুক্তি নিশ্চিত করে যুব সমাজকে কর্মদক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাও ফজলে হুদা বাবুলের উন্নয়নের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


নওগাঁ-৩ আসনের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছে, ফজলে হুদা বাবুলের নেতৃত্বে এই অঞ্চল উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।


অভিনন্দন জননেতা ফজলে হুদা বাবুল! আপনার এই বিজয় হোক মানুষের উন্নয়ন ও স্বপ্নের বাস্তবায়নের বিজয়।

ইশতেহার বনাম বাস্তবতা: বিএনপির ‘ফাস্ট ফরওয়ার্ড’ প্রগ্রেস!




নির্বাচনী প্রচারণার এই উত্তপ্ত মৌসুমে একটু হাসাহাসি না করলে কি চলে? বিশেষ করে যখন বড় দলগুলো ইশতেহারের যুদ্ধে একে অপরকে টেক্কা দিতে গিয়ে নতুন নতুন ‘কীর্তি’ গড়ে ফেলছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটু বাঁকা চোখের পরিদর্শন মাত্র!


রাজনীতিতে একটা কথা আছে—"কথা কম, কাজ বেশি।" ইদানীং বিএনপি মনে হয় এই মন্ত্রটি একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছে। জামায়াত তাদের ইশতেহারে যা যা করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, বিএনপি নাকি নির্বাচনের আগেই সেগুলো প্র্যাকটিক্যালি করে দেখাচ্ছে! চলুন দেখি, ইশতেহারের সাথে বিএনপির এই ‘অঘোষিত’ প্রতিযোগিতার কিছু নমুনা:

১. দেশি সমরাস্ত্র শিল্পে বিপ্লব!

জামায়াত তাদের প্রতিরক্ষা ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তারা দেশে সমরাস্ত্র কারখানা করবে। কিন্তু বিএনপি কি আর অতদিন বসে থাকার পাত্র? তারা ইশতেহারের ধার না ধেরেই স্থানীয় ইটভাটায় ‘মিনি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ চালু করে দিয়েছে। সম্প্রতি এক নেতার ইটভাটায় অ’স্ত্রের কারখানার হদিস পাওয়া যাওয়ায় বোঝা গেল, তারা দেশকে স্বনির্ভর করতে কতটা মরিয়া! একেই বলে সত্যিকারের উদ্যোক্তা মানসিকতা—যেখানে মাটি দিয়ে ইটও হবে, আবার লোহা দিয়ে হাতিয়ারও!

২. বয়স কোনো বাধাই নয়: সবার জন্য ‘সামরিক কোর্স’

জামায়াত শুধু ১৮-২২ বছর বয়সীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে চেয়েছে। কিন্তু বিএনপির ভিশন আরও বড়! তারা বয়স নিয়ে কোনো ভেদাভেদ করছে না। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে যেভাবে একে-২২ বা পিস্তল পাওয়া যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের ‘ফিল্ড ট্রেনিং’ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। তারা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, অ’স্ত্র চালানো শিখতে কোনো সার্টিফিকেটের দরকার নেই, শুধু সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

৩. নারী ক্ষমতায়নের আসল রূপ

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কতশত বুলি আমরা শুনি। কিন্তু বিএনপি দেখাল আসল পাওয়ার কাকে বলে! সাধারণত মানুষের ধারণা অ’স্ত্র মানেই পুরুষের একচেটিয়া অধিকার। কিন্তু ইলোরা আপার মতো নেত্রীদের হাতে যখন অটোমেটিক রাইফেল পাওয়া যায়, তখন বুঝতে হবে বিএনপি নারীদের আক্ষরিক অর্থেই ‘পাওয়ারফুল’ করে তুলেছে। তারা কেবল রান্নাঘরে নয়, রণক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শেষ কথা

দেশের উন্নয়নে বিএনপির এই ‘তড়িৎ’ পদক্ষেপগুলো দেখে মনে হচ্ছে, তারা আসলে নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা করার চেয়ে সরাসরি ‘অ্যাকশন’-এ বিশ্বাসী। তাদের এই বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড (বিশেষ করে খাম্বা এবং কারখানা সেক্টরে) দেখে এখন ভোটাররাই ঠিক করবেন তারা ইশতেহারের স্বপ্ন দেখবেন, নাকি এই ‘বাস্তব’ উন্নয়ন উপভোগ করবেন!

পুনশ্চ: রাজনীতিতে কে কার ট্রাম্পকার্ড আর কে কার মুখে পানি ঢালল, সেটা বড় কথা নয়; আসল বিনোদন তো মাঠের এই অদ্ভুত সব কারখানাতেই লুকিয়ে আছে!

ধানের শীষের টিকিট পেতে ৬৫ লাখ! অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মনোনয়ন নিশ্চিত করে দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে একজন প্রবাসী বিএনপি কর্মীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ।


যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুর দাবি, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে রাজশাহী-৬ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। বিনিময়ে তিন কোটি টাকা দাবি করা হলেও প্রাথমিকভাবে কয়েক ধাপে ৬৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হয়।


তথ্য অনুযায়ী, শাওন আহমেদ সোহেল ও আসমা আক্তারের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়ে। পরবর্তীতে আরটিজিএস ও এনপিএসবি ব্যবস্থায় সেই অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক যোগসূত্রের বিষয়টিও চিহ্নিত হয়েছে।


মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আশ্বাস দিয়ে মিঠুর কাছে কিছু নথি পাঠানো হয়, যেখানে তারেক রহমানের মন্তব্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মনোনয়ন না পাওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।


ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। রাজনৈতিক দলের ভেতরে এ ধরনের অবৈধ লেনদেন ও প্রতারণার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই; সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।