রাজনীতি কি আবেগ নাকি যুক্তি?

ফজলুর রহমানদের 'দ্বিচারিতা' ও আমাদের সংবিধান

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিতর্ক বেশ চাউর হয়েছে—মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জামায়াতে ইসলামী করতে পারবে কি না? সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং লয়ার এবং রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একটি বক্তব্যে দাবি করেছেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জামায়াতে যোগ দিলে তা হবে ‘ডাবল অপরাধ’। একজন শিক্ষিত এবং সচেতন মানুষের মুখ থেকে এমন আবেগপ্রসূত ও অসাংবিধানিক বক্তব্য সত্যিই বিস্ময়কর।

 ১. ফজলুর রহমান বনাম আইনি বাস্তবতা

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একজন বিজ্ঞ আইনজীবী। আইন ও সংবিধান তার নখদর্পণে থাকার কথা। কিন্তু তিনি যখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের রাজনৈতিক অধিকারকে ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন প্রশ্ন জাগে—তিনি কি আইন বলছেন নাকি সস্তা রাজনৈতিক আবেগ ফেরি করছেন?

একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। আমাদের মনে আছে "সালেহা হত্যা মামলার" কথা। ডাক্তার ইকবাল সালেহাকে হত্যা করেছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমা চাওয়া হলে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল—একজন ডাক্তার জানেন শরীরের ঠিক কোথায় আঘাত করলে মানুষ মারা যায় (The doctor knows where to hit)। ফজলুর রহমান সাহেবের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। একজন লয়ার হিসেবে তার জানা উচিত কোনটি সংবিধানসম্মত আর কোনটি নয়। জেনেবুঝে যখন তিনি অসাংবিধানিক কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে তিনি সুস্থ রাজনীতি নয়, বরং সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছেন।

 ২. দলবদল কি কেবল নির্দিষ্ট মানুষের জন্য অপরাধ?

ফজলুর রহমান সাহেব একসময় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, পরে তিনি দল পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি।

 যারা মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বিএনপিতে গেছেন, যেমন—মেজর সামসুল হুদা (যিনি পরে নৌকায় উঠে এমপিও হয়েছিলেন)।

 আবার বিএনপি থেকে তথাকথিত ‘রাজাকারের দল’ বা জামায়াতের জোটে গিয়েছেন মেজর আখতারুজ্জামান

 বা 'কর্নেল অলির' মতো বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এমনকি বর্তমান জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতাও একসময় জাসদ বা অন্যান্য বামপন্থী ছাত্রসংগঠন করতেন।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—আপনারা দলবদল করলে সেটি 'কৌশল', আর সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অন্য দলে গেলে সেটি 'ডাবল অপরাধ'? এই দ্বিচারিতা বা হিপোক্রেসি সাধারণ মানুষ এখন ধরে ফেলেছে।

৩. সংবিধানের প্রতি ‘নির্বাচিত’ সম্মান কেন?

ফজলুর রহমান সাহেবকে একটি পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই। আপনি সংবিধানের প্রতি অনেক শ্রদ্ধার কথা বলেন। সংবিধানের চতুর্থ তফসিল বা ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সর্বত্র প্রদর্শনের যে বাধ্যবাধকতা (আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত) আছে, তা কি এখন পালিত হচ্ছে? বঙ্গভবন বা গণভবন থেকে যখন ছবি সরানো হয়, বা গত অধিবেশনে যখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ভিন্ন বিতর্ক ওঠে—তখন আপনি কেন চুপ থাকেন?

গ্যালারির বাইরে থেকে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’-এর মতো গর্জন দেওয়া সহজ। সাহস থাকলে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো তুলুন। অন্যের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রমাণ করুন।

 ৪. রাজাকার বনাম মুক্তিযোদ্ধা: বিভাজনের শেষ কোথায়?

মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। এটি একটি জাতীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে রাজাকাররা আইডেন্টিফাইড ছিল, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানে ছিল। কিন্তু আজ ৫৪ বছর পর এসেও কি আমরা কেবল এই বিভাজন নিয়েই পড়ে থাকব?

  সাগর-রুনি হত্যা হয়েছে; তারা কার সন্তান ছিল—মুক্তিযোদ্ধার নাকি রাজাকারের? সেটি কি বড় কথা, নাকি তারা যে রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের বিচার পাওয়া উচিত সেটি বড় কথা?

  অপরাধীকে তার পারিবারিক পরিচয় দিয়ে নয়, বরং তার কাজ দিয়ে বিচার করতে হবে।

৫. রাষ্ট্র কি কেবল অতীত নিয়ে বাঁচবে?

আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে কি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে প্রতিদিন পার্লামেন্টে ঝগড়া হয়? হয় না। তারা এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে। আর আমরা এখনো ১৯৭১, ১৯৫২ আর ১৯৯০ নিয়ে পড়ে আছি।

আমাদের আজ আলাপ করা উচিত ছিল:

 বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে।

 গার্মেন্টস খাতের সংকট ও জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে।

 তেল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে।

রাজনীতি আবেগের জায়গা নয়, এটি যুক্তি ও সমাধানের জায়গা। ফজলুর রহমানদের মতো ব্যক্তিদের বোঝা উচিত, ‘আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, সংসদও চলে না’। আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে প্রশ্ন তোলা যাবে, সমালোচনা করা যাবে। বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে প্রকৃত জনসমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়াই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম।

মিথ্যা হুমকি আর সস্তা আবেগ ছেড়ে আসুন আমরা যুক্তির রাজনীতি করি। কালকের পার্লামেন্টে যদি সাহস থাকে, তবে প্রকৃত সাংবিধানিক সংকট নিয়ে কথা বলুন। জনগণ দেখতে চায় বাঘের গর্জন শুধু টিভির পর্দায় নয়, ন্যায়ের পক্ষেও সমানভাবে কাজ করে কি না।


একাত্তর, রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামী - বিতর্কের ভেতরের বক্তব্য


বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি নিয়ে বিতর্ক যেন থামার নাম নিচ্ছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে ঘিরে এই আলোচনার তীব্রতা সময়ের সাথে আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই বিতর্ক, এবং এর পেছনে কী ধরনের যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে?

কেন এই রাজনৈতিক অবস্থান-

একটি অংশের মতে, তারা সচেতনভাবেই জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছে। তাদের দাবি, একজন মুসলমান হিসেবে জীবনযাপন, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে এই সংগঠনকে তারা সবচেয়ে উপযোগী মনে করে। কুরআন-হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা অনুযায়ী ব্যক্তি চরিত্র গঠন ও জীবনধারা পরিচালনায় এই দল তাদের কাছে প্রভাব ফেলেছে—এমন বিশ্বাসও তারা ব্যক্ত করে।

৭১-এর অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যা-

সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। সমালোচকদের অভিযোগ—রাজাকার বা আলবদর বাহিনীর সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে সমর্থকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, রাজাকার বাহিনী ছিল তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের অধীন একটি সংগঠন, যেখানে বিভিন্ন সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্ত হয়েছিল। তারা স্বীকার করে যে সেই সময় নানা অন্যায় কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু দাবি করে—এসবের সঙ্গে জামায়াতের সম্পৃক্ততা খুবই সীমিত ছিল।

তাদের যুক্তির মধ্যে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়—

১৯৭১ সালে দেশে জামায়াতের বিস্তৃতি খুব সীমিত ছিল।

সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মভিত্তিক নৈতিক মানুষ তৈরি করা।

সদস্যদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন, আত্মসমালোচনা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর জোর দেওয়া হতো।

সংগঠন কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি-

সমর্থকদের ভাষ্যমতে, জামায়াতে ইসলামীতে সদস্যদের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি রয়েছে। কুরআন-হাদিসভিত্তিক শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিকতা গঠনের মাধ্যমে ব্যক্তিকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। দায়িত্বশীলদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় বলে তারা দাবি করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অবস্থান-

সমর্থকদের মতে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরোধিতা করেছিল জামায়াত। তবে ১৯৭১ সালে ভারতের ভূমিকাকে সন্দেহের চোখে দেখার কারণে দলটি স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থানে সরাসরি যুক্ত হয়নি।

তাদের দাবি—দেশের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যরা সাধারণ মানুষের সহায়তায় কাজ করেছে এবং পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতন থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছে।

বিচার ও সমালোচনা প্রসঙ্গ-

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে সমর্থকদের একটি অংশ প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ার নানা দিক বিতর্কিত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এছাড়া তাদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় সুনামধন্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বাধীনতা ও বর্তমান রাজনীতি-

সমর্থকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে জামায়াতে ইসলামী পরবর্তীতে মেনে নিয়েছে এবং সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করেই দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে। তাদের দাবি—স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো কার্যকলাপের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি।

ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন-

সমালোচকদের পক্ষ থেকে অতীতের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠলেও, সমর্থকদের বক্তব্য—যে অপরাধ তারা স্বীকার করে না, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসে না। তারা এটিকে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

শাসন ও প্রশাসনে ভূমিকা-

সমর্থকদের মতে, অতীতে জোট সরকারের সময় মন্ত্রণালয় পরিচালনার মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও স্বচ্ছতার উদাহরণ দেখিয়েছে। তাদের দাবি—এ সময়কার কার্যক্রমই তাদের সক্ষমতার প্রমাণ।

বিরোধিতার কারণ কী?

সবশেষে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিরোধিতার মূল কারণ কী? সমর্থকদের মতে, এর পেছনে ধর্মীয় আদর্শের বিরোধিতাও একটি কারণ হিসেবে কাজ করে। তারা কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে মনে করে, ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়।

এই পুরো বিতর্কে স্পষ্ট যে, একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা বিদ্যমান। একদিকে রয়েছে অভিযোগ, অন্যদিকে পাল্টা যুক্তি।

জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে এই আলোচনা তাই কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নয়—বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, আদর্শ ও মতাদর্শিক বিভাজনেরও প্রতিফলন।

স্থানীয় সরকার, এমপি ক্ষমতা ও বাস্তবতার প্রশ্ন

সম্প্রতি ২১শে এপ্রিল সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে—যা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি উপজেলার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি করে “পরিদর্শন কক্ষ” স্থাপন করতে হবে, যেখানে ওয়াশরুমসহ (এটাচ বাথ) সুবিধা থাকবে। উদ্দেশ্য—সংসদ সদস্যরা (এমপি) এলাকায় গেলে সেখানে বসতে পারবেন।

প্রথম দৃষ্টিতে বিষয়টি খারাপ মনে হয় না। একজন এমপি এলাকায় গেলে বসার জন্য একটি নির্দিষ্ট কক্ষ থাকা—এটা স্বাভাবিক চাহিদা। কিন্তু বাস্তবতা কি এত সরল?


🔍 সমস্যার মূল জায়গা কোথায়?

এই কক্ষগুলো কি শুধু এমপিদের অস্থায়ী ব্যবহারের জন্য থাকবে, নাকি তা ধীরে ধীরে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হয়ে উঠবে?

বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, অনেক ক্ষেত্রেই এমপি এলাকায় না থাকলেও তাদের অনুসারীরা এসব জায়গা ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপজেলা পরিষদ, এমনকি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের কাজেও অযাচিত হস্তক্ষেপ দেখা যায়।

⚖️ ক্ষমতার ভারসাম্য: কাগজে-কলমে বনাম বাস্তবতা

নীতিগতভাবে, একটি দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা হওয়া উচিত জনগণের সবচেয়ে কাছাকাছি প্রশাসনিক কাঠামো। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে থাকবেন।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়:

- একটি উপজেলায় সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এমপি

- এরপর ইউএনও, তারপর থানার ওসি

- আর নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান চলে যান নিচের সারিতে

এটি একটি অস্বাভাবিক কাঠামো, যা গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক।


🧠 একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

একবার এক এমপির সাথে আলাপচারিতায় তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন:

“কাগজে-কলমে যাই থাকুক, বাস্তবে একজন এমপি তার এলাকায় রাজার মতো ক্ষমতা ভোগ করেন।”

আরও আশ্চর্যের বিষয়—তিনি এটাও বলেছিলেন যে,


“এই পরিমাণ ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে থাকা উচিত নয়।”


এটি শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, বরং একটি বড় বাস্তবতার প্রতিফলন।


🏗️ উন্নয়ন কার কাজ?


একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব কার?


- একটি ব্রিজ কোথায় দরকার, তা কি এমপি জানবেন?

- নাকি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনগণ তা ভালো জানবেন?


আদর্শভাবে, এমপির কাজ আইন প্রণয়ন করা।

স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।


কিন্তু আমাদের দেশে এই সীমারেখা প্রায়ই অস্পষ্ট হয়ে যায়।


📉 স্থানীয় সরকার কেন দুর্বল?


বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে কখনোই পুরোপুরি শক্তিশালী হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেও মন্ত্রণালয় ইচ্ছামতো বরখাস্ত বা স্থগিত করতে পারে—যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।


একজন জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে একজন আমলা সরিয়ে দিতে পারেন—এটা কি গ্রহণযোগ্য?


🧾 বিশেষ সুবিধা ও বৈষম্য


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমপিদের বিশেষ সুবিধা:


- ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি

- টোলমুক্ত চলাচল

- বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা


সংবিধান বলে “সকল নাগরিকের সমান অধিকার”—

তাহলে এই বৈষম্য কেন?


🧭 সামনে কী করা উচিত?


আমার দৃষ্টিতে কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন:

1. স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত ক্ষমতায়ন করতে হবে

2. এমপিদের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করতে হবে

3. নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

4. বিশেষ সুবিধা ও বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করতে হবে।


একটি দেশের উন্নয়ন কখনোই শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে না। উন্নয়নকে ছড়িয়ে দিতে হবে গ্রাম থেকে শহরে, উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত।


স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করলে, গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বলই থেকে যাবে।


আমরা কি ৩০০ জন “রাজা” নির্বাচন করছি,

নাকি জনগণের সেবক?

লেখক..

ইবনে মুহাম্মাদ।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন

 


আমাদের ঈমান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা কি ভুলে যাচ্ছি?

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আমাদের দেশের একটি বড় উৎসব। কিন্তু একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের কি ভাবা উচিত নয় যে, এই উৎসবের আড়ালে আমাদের অজান্তেই ঈমানি চেতনা বা সামাজিক মূল্যবোধের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না? আজ আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কিছু দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করব।

১. উৎসবের নামে ‘শিরক’ ও ঈমানি ঝুঁকি

পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'। এখানে বড় বড় বাঘ, পেঁচা বা সাপের মুখোশ ও মূর্তি বহন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এগুলো করলে দেশের ‘মঙ্গল’ হবে।

 ইসলামের শিক্ষা: ভালো-মন্দের মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোনো মূর্তি বা প্রাণীর প্রতিকৃতি আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না।

 সতর্কবার্তা: কোরআনে বলা হয়েছে, *"নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন"* (সূরা আল-মায়েদাহ: ৭২)। তাই মঙ্গলের আশায় এসব মিছিলে অংশ নেওয়া একজন মুসলিমের ঈমানের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

২. কোটি কোটি টাকার অপচয়: কার স্বার্থে?

একদিনের এই উৎসবের সাজসজ্জা, ব্যানার, বিশাল সব মূর্তি আর আলোকসজ্জার পেছনে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। উৎসব শেষ হতেই এগুলো আবর্জনায় পরিণত হয়।

 কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলেছেন (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)।

 বিকল্প চিন্তা: আমাদের আশেপাশে কত অসহায় মানুষ এক বেলা খাবারের জন্য কষ্ট পায়, কত এতিম শিশু অর্থাভাবে পড়তে পারে না। এই অপচয়কৃত টাকা যদি দরিদ্রদের কল্যাণে বা সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তবে তা হতো প্রকৃত ‘মঙ্গল’।

৩. নৈতিক অবক্ষয় ও অজাতিত অপকর্ম

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে অনেক সময় নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং পর্দা হীনতা পরিলক্ষিত হয়। বিশাল ভিড়ের সুযোগে অনেক সময় ইভটিজিং বা আপত্তিকর ঘটনা ঘটে, যা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় নৈতিকতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) পরপুরুষ ও পরনারীর অবাধ মেলামেশা থেকে উম্মতকে সতর্ক করেছেন।

৪. বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণ

পহেলা বৈশাখের বর্তমান অনেক রীতিই আমাদের নিজস্ব ইসলামি সংস্কৃতির অংশ নয়। হাদিসে এসেছে, *"যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে"* (আবু দাউদ)। অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের আদলে নিজের জীবন সাজানো একজন মুসলিমের আত্মপরিচয়কে সংকটে ফেলে দেয়।

আমাদের করণীয় কী হতে পারে?

একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারি:

 সচেতন হওয়া: উৎসবের নামে কোনো শিরক বা গুনাহের কাজে পা না দেওয়া।

 অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো: উৎসবের বাজেট থেকে কিছু অংশ বাঁচিয়ে আপনার পাশের অভাবী মানুষটিকে সাহায্য করুন। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে।

 সংস্কৃতি রক্ষা: ইসলামি গণ্ডির ভেতরে থেকে শালীনভাবে দিনটি অতিবাহিত করা, যেখানে কোনো অপচয় বা বেহায়াপনা থাকবে না।

নতুন বছর আসা মানেই জীবনের একটি বছর ফুরিয়ে যাওয়া। এখানে আনন্দ করার চেয়ে পরকালের পাথেয় গোছানোর চিন্তাই বেশি হওয়া উচিত। আসুন, আমরা হুজুগে না মেতে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবন ও সংস্কৃতিকে পরিচালনা করি।


পহেলা বৈশাখে উৎসবের ভিড় ও এক অমীমাংসিত ক্ষত

পহেলা বৈশাখের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতি যখন চারদিকে তুঙ্গে, তখন আমাদের উৎসবের স্মৃতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে কথা বলাটা জরুরি। 

ফিরে দেখা ২০১৫-র সেই কালবেলা

পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন শাড়ি, পান্তা-ইলিশ আর টিএসসির মোড়ে মানুষের ঢল। কিন্তু এই রঙিন উৎসবের ক্যানভাসে ঠিক ১১ বছর আগে লেপে দেওয়া হয়েছিল এক ভয়াবহ কলঙ্ক। আমরা কি সেই ঘটনা মনে রেখেছি, নাকি উৎসবের হুজুগে বিস্মৃতি আমাদের গিলে খেয়েছে?

সেই নারকীয় সন্ধ্যার প্রেক্ষাপট

২০১৫ সালের ১৪ই এপ্রিল। সন্ধ্যার টিএসসি এলাকা। চারদিকে যখন ঢাক-ঢোলের শব্দ, ঠিক তখনই ৫০-৬০ জনের একদল দুষ্কৃতকারী এক নারকীয় উল্লাসে মেতে ওঠে। উৎসবের ভিড়কে ঢাল বানিয়ে তারা অন্তত ১৫-২০ জন নারীর ওপর চড়াও হয়। জনসমক্ষে শ্লীলতাহানি আর শারীরিক লাঞ্ছনার সেই দৃশ্য ছিল কল্পনাতীত।

আক্রান্তদের চিৎকার যেন জনসমুদ্রের কোলাহলে হারিয়ে যায়, সেজন্য দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করেছিল উচ্চৈঃস্বরে বাজা ভেঁপু বাঁশি। এমনকি আট বছরের সন্তানের সামনে মাকে লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করেনি তারা। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ভাইও। শেষ পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনের কিছু সাহসী সদস্য এগিয়ে এলে সেই অপরাধী চক্র ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ ও বিচারের আড়াল

পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে ছিল, কাছেই ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থান। ঘটনার পর অপরাধীদের ছবি এবং পরিচয় প্রকাশ্যে এলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে দৃশ্যমান কোনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপের বদলে কেবল 'ভুভুজেলা বা বাঁশি' নিষিদ্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছিল। কিন্তু যে গভীর সামাজিক ক্ষত সেদিন তৈরি হয়েছিল, তার নিরাময় আজও হয়নি।

 উৎসব যখন ট্রমার কারণ

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে সেই মুহূর্তটি আজও এক দুঃসহ স্মৃতি। সাধারণ কৌতূহল মেটাতে যদি সেদিন কেউ সেই ভিড়ের কাছে যেতেন, তবে হয়তো তার পরিণতিও হতে পারত ভয়াবহ। এই একটি ঘটনাই অনেকের জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে। আজ ১১ বছর পরেও সেই ট্রমা কাটেনি:

 * অচেনা ভিড়ের প্রতি তীব্র আতঙ্ক।

 * উৎসবের দিনেও গৃহবন্দী থাকা।

 * গণপরিবহন বা জনসমাগম এড়িয়ে চলার দীর্ঘস্থায়ী ভীতি।

আমাদের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি

পহেলা বৈশাখ আবারও দোরগোড়ায়। আপনি হয়তো পরিকল্পনা করছেন টিএসসি বা রবীন্দ্র সরোবরে প্রিয়জনদের নিয়ে আড্ডা দেবেন। অবশ্যই উৎসব পালন করবেন, তবে **সতর্কতা হোক আপনার প্রধান হাতিয়ার**।

প্রশাসন বা নিরাপত্তার ওপর শতভাগ নির্ভরশীল না থেকে নিজের এবং প্রিয়জনের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সচেতন থাকুন। মনে রাখবেন, ভিড়ের আড়ালে ওৎ পেতে থাকা সেই অশুভ মানসিকতা সমাজ থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি।

আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতেই। উৎসব হোক আনন্দময়, কিন্তু একইসাথে নিরাপদ।

রাজনীতির আড়ালে টর্চার সেল? নওগাঁ-৪ আসনের এমপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ


রাজনীতি যখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সম্প্রতি নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে নিজ বাসভবনে 'টর্চার সেল' বানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মান্দা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 

এই ভয়ার্ত পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী:

 # এমপির এপিএস মোহাম্মদ আলী এবং গোল্ডেনসহ ১০-১২ জনের একটি দল তাকে মারধর করতে করতে এমপির বাসভবনে নিয়ে যায়।

 # বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে (যাকে টর্চার সেল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে) তাকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

 # ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাকে 'প্রাণে মেরে ফেলার' হুমকি দিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

দুর্নীতির পাহাড় ও ক্ষমতার অপব্যবহার

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। এমপির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো একনজরে:



বিচারপ্রার্থনা ও দলীয় শৃঙ্খলা:

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই পরিস্থিতিকে 'চরম লজ্জাজনক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে (তারেক রহমান) এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, নিজ দলের কর্মীদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন দলীয় আদর্শের পরিপন্থি।


 "এমপি টিপুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা হোক। মান্দা উপজেলায় সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দোষীদের শাস্তি এখন সময়ের দাবি।" — সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ


একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যখন নিজ কর্মীদের নির্যাতনের জন্য 'টর্চার সেল' ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন তা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক সংকটেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।

আপনার কি মনে হয়? স্থানীয় রাজনীতিতে এমন অরাজকতা বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

 কমেন্টে আপনার মতামত জানান।


লক্ষ্মীপুরে গণতন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন


জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা ও প্রশাসনের নগ্ন পক্ষপাতিত্ব:

লক্ষ্মীপুর আজ আবারও সাক্ষী হলো এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের। যে রাজপথে একসময় স্বৈরাচার পতনের স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল, আজ সেই রাজপথেই গণতন্ত্রের দাবিদারদের লেলিয়ে দেওয়া পেটোয়া বাহিনীর তাণ্ডব চলছে। ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হাবিবুর রহমান ফাহিমের ওপর ছাত্রদল নেতা আকবর মুন্নার কাপুরুষোচিত হামলা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন কেবলই কিতাবি শব্দ।

প্রতিবাদ যখন অপরাধ, আর হামলা যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি!

ফাহিমের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন চক মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিল, তখন তারা মুখোমুখি হয়েছে এক ভয়াবহ বৈষম্যের। একদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ, অন্যদিকে একই এলাকায় ছাত্রদলের ‘জুলাই ফাইটার্স’ পরিচয়ে পাল্টা কর্মসূচির নাম করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অবাধ সুযোগ!

জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা কি কেবল শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য? ছাত্রদলের মিছিলের সময় প্রশাসনের এই ‘অন্ধত্ব’ কি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে না?

যোদ্ধার গায়ে হাত: অপমানজনক আটকের বিচার চাই

সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে যখন আন্দোলনের অন্যতম মূখ্য সংগঠক এবং গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম মুরাদকে প্রশাসন জনসমক্ষে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেছে। একজন বিপ্লবীর সাথে এমন পৈশাচিক আচরণ গোটা ছাত্রসমাজকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের এই নগ্ন ভূমিকা প্রমাণ করে, তারা ন্যায়বিচারের রক্ষক নয়, বরং সন্ত্রাসী রাজনীতির সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।

আমাদের হুঁশিয়ারি

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই:

১. ফাহিমের ওপর হামলাকারী আকবর মুন্নাসহ দোষীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।

২. সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ আটক সকল শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

৩. পুলিশ ও প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।

এই দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। হামলা আর মামলা দিয়ে বিপ্লবের চেতনাকে দাবিয়ে রাখা যায় না। লক্ষ্মীপুরের এই মাটিতে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের ঠাঁই হবে না। 

বিচার না হওয়া পর্যন্ত, রাজপথ আমাদেরই!