হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, যাত্রীদের হয়রানি এবং চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কারাবাস এবং পরবর্তীতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার ঘটনা বর্তমান সময়ের এক জ্বলন্ত ও জাতীয় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সাংসদকে হয়রানির প্রতিবাদ করেন।
যাত্রীদের লাগেজ কাটা, জিনিসপত্র চুরি এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় উল্টো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় পরদিন তাঁকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কেবল কারাবাসই নয়, বরং আদালতের মাধ্যমে তাঁর কয়েকদিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়েছে।
প্রধান বিবেচ্য বিষয়সমূহ
যৌক্তিক প্রতিবাদ বনাম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন: একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিমানবন্দরের এই লাগেজ সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও দেশপ্রেমের পরিচায়ক।
কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী আচরণ: সাধারণ যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা ও চুরির প্রতিকার না করে, উল্টো প্রতিবাদকারী মুক্তিযোদ্ধার ওপর মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ড মঞ্জুরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতিরই প্রমাণ দেয়।
নির্বাক তথাকথিত ‘পক্ষের শক্তি’: সমাজের কোনো কোণে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষিপ্ত ক্ষোভ প্রকাশ পেলে যে সব দল বা গোষ্ঠী ‘মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা’ বলে গলা ফাটিয়ে ফেলেন, আজ একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন বিমানবন্দরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারাবন্দী ও রিমান্ডের শিকার, তখন তাদের সেই সরব উপস্থিতি কোথায়?
সাধারণ মানুষের তো অধিকারের কথা বাদই দিলাম—আজ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন দুর্নীতির প্রতিবাদ করে কারাগারে বন্দি হন এবং রিমান্ডের মুখোমুখি হন, তখন তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’র এই নীরবতা জনগণের মনে গভীর সংশয়ের জন্ম দেয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান কি তবে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের হাতিয়ারমাত্র? নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই আজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে?
আপনার কী মনে হয়? বিমানবন্দরের এই লাগেজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই অবমূল্যায়ন, কারাবাস ও রিমান্ডের ঘটনায় আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?







