তিস্তা প্রকল্প ও চীনা যুদ্ধবিমান আলোচনা: ঢাকার দিকে কেন ‘নিবিড় নজর’ দিল্লির?

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে যেকোনো ছোটখাটো নড়াচড়াও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। আর তা যদি হয় বাংলাদেশ, চীন এবং ভারতের মতো তিন প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ, তবে তো কথাই নেই।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

দিল্লির উদ্বেগের কেন্দ্রে যা আছে

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান যে, প্রতিবেশী অঞ্চলের যেকোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ওপর ভারত সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এই মুহূর্তে দিল্লির নজরদারির প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো:

 তিস্তা মহাপরিকল্পনা: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ভারত বেশ তৎপর।

চীনা জঙ্গি বিমান ক্রয়ের আলোচনা: প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা জঙ্গি বিমান কেনার যে আলোচনা চলছে, তা ভারতের কৌশলগত ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।

ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডোর: চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার যে আলোচনা চলছে, তার সম্ভাব্য আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব কেমন হতে পারে, সেদিকেও চোখ রাখছে দিল্লি।

"ভারত তার প্রতিবেশী অঞ্চলের যেকোনো উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নয়াদিল্লি সব সময় যথাযথ পদক্ষেপও নিয়ে থাকে।"

রণধীর জয়সোয়াল, মুখপাত্র, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কেন এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ?

ভারতের জন্য বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই নয়, বরং অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। তিস্তা নদীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্তীয় নদী প্রকল্পে চীনের মতো একটি পরাশক্তির সম্পৃক্ততা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঢাকা-বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নীতিনির্ধারকদের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পাশাপাশি, মিয়ানমারকে যুক্ত করে যে অর্থনৈতিক করিডোরের কথা বলা হচ্ছে, তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো বাধা সৃষ্টি না করলেও, নিজের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত যে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিক্রিয়া তারই একটি মৃদু কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত। ঢাকা এবং বেইজিংয়ের এই কূটনৈতিক ও সামরিক বোঝাপড়া আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার কি মনে হয়? বাংলাদেশের এই উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের এই নিবিড় নজরদারি কি স্বাভাবিক কৌশলগত অবস্থান, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো ভূরাজনৈতিক চাপ রয়েছে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান!

ফুটবলের 'পাগলামি' এবং এক প্রতিশ্রুতির গল্প: পটুয়াখালীর রাফির মাথা নেড়া!
সুপ্রিয় ফুটবলপ্রেমী বন্ধুরা,

ফুটবল মানেই উত্তেজনা, ফুটবল মানেই আনন্দ, আর ফুটবল মানেই কখনো কখনো অবিশ্বাস্য সব কাণ্ড! আমরা জানি বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা আমাদের কতটা আচ্ছন্ন করে রাখে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে সমর্থকরা কত কী-ই না করে থাকেন। তবে পটুয়াখালীর এক কট্টর আর্জেন্টিনা ভক্তের যে কাণ্ড, তা নিঃসন্দেহে এক আলাদা কৌতুহল এবং আনন্দের জন্ম দিয়েছে।

হ্যাঁ, আমরা বলছি কাজী রাফির কথা, পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের আর্জেন্টিনা সমর্থক।

একটি ফেসবুক লাইভ এবং এক অভিনব ঘোষণা!

গেল ১৯ জুন, নিজের ফেসবুক লাইভে এসে এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়ে বসেন রাফি। তাঁর এই ঘোষণা পুরো এলাকায় আলোড়ন তোলে। তিনি বলেন— যদি হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল জয়ী হয়, তাহলে তিনি নিজের মাথা নেড়া করবেন।

এ যেন শুধু সমর্থন নয়, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার এক চূড়ান্ত প্রমাণ! রাফি হয়তো ভেবেছিলেন, ব্রাজিলের জন্য এটা খুব সহজ হবে না। কিন্তু কে জানত ফুটবল বিধাতা এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটিই চেয়েছিলেন?

যেই কথা সেই কাজ!

২০ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে হাইতিকে তিন-শূন্য গোলে হারিয়ে ব্রাজিল জয়ী হয়। ব্যাস, আর কী! রাফির ঘোষণা ছিল জনসমক্ষে, আর তিনিও তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও নড়লেন না।

সেখানেই উপস্থিত অন্যান্য ফুটবল সমর্থকদের সামনে, সবার উৎসবমুখর পরিবেশে রাফি নিজের মাথা নেড়া করেন।


ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, নীল-সাদা জার্সি পরা একজন মাথা নেড়া করতে বসেছেন, এবং হলুদ-নীল জার্সিতে ব্রাজিলের সমর্থকরা পাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন এবং কিছু একটা বলতে হাসছেন। এটিই সেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার চমৎকার উদাহরণ।

এলাকায় আনন্দ এবং কৌতুহল

ফুটবলকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী এবং মজার ঘটনা এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা যেমন কৌতুহলী, তেমনি উপভোগও করছেন। সমর্থকরা বিষয়টিকে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। একজন আর্জেন্টিনা ভক্ত হয়েও ব্রাজিলের জয়ের জন্য এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ফুটবলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বলে সবাই মনে করছেন।

পটুয়াখালীর এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি অনেক আনন্দ এবং ভালোবাসার উৎসবও। এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোর মাধ্যমেই ফুটবলের উন্মাদনা আরও রঙিন হয়ে ওঠে।

আপনারা এই গল্পটি এবং ছবিটি উপভোগ করেছেন? ফুটবলের এমন মজাদার গল্প আপনার এলাকার আশেপাশে থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে শেয়ার করতে পারেন।

রাম মূর্তি আন্দোলনের নেপথ্যে অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী ও পতিত স্বৈরাচারের যোগসূত্র


গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণ স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন এখন দেশজুড়ে অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয়। তবে ধর্মের পবিত্র আবরণের আড়ালে এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং পতিত স্বৈরাচারী সরকারকে পুনর্বাসিত করার একটি সুগভীর রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট উন্মোচিত হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্রন্টলাইনে থেকে উসকানিমূলক নেতৃত্ব দিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য 

আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী।

অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে চৈতালী চক্রবর্তীর বিতর্কিত ভূমিকা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং তার রাজনৈতিক এজেন্ডার একটি বিশদ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:


১. ফ্রন্টলাইন অ্যাক্টিভিজম: ধর্মীয় আন্দোলনের আড়ালে দলীয় এজেন্ডা

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একজন কট্টর ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক আন্দোলনে তাকে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজপথে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে এবং কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।


ধর্মীয় সমাবেশ ও আন্দোলনের মঞ্চ ব্যবহার করে তিনি প্রকাশ্যেই "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু" স্লোগান দিয়ে এই আন্দোলনের আসল রাজনৈতিক চরিত্রকে জনসমক্ষে উন্মোচন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ধর্মীয় অধিকার রক্ষার লড়াই নয়, বরং পতিত আওয়ামী লীগকে রাজপথে পুনর্বাসিত করার একটি পরিকল্পিত ঢাল।


২. অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্দোলনের মাঠ থেকে চৈতালী চক্রবর্তীর বেশ কিছু অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে:

প্রধান উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে তিনি বলেন:

"ইউনুস বাটপারটা তো পালিয়ে চলে গেছে। কোনো অবস্থাতেই সমন্বয়কারীরা যেন পালাতে না পারে।"

জুলাই বিপ্লবকে অবমাননা ও হুমকি: ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবকে কটাক্ষ করে তিনি প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন:

"জুলাই জুলাই বললে এখন গণধোলাই হবে। সেই দিন চলে আসছে এবং অটোমেটিক চলে আসছে।"

দেশ ধ্বংসের কাল্পনিক অভিযোগ: বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে তিনি দাবি করেন, ডক্টর ইউনূস গত ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশটাকে ধ্বংসের স্তূপে পরিণত করেছেন।


৩. শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার 'মায়াকান্না' ও ওপার বাংলার যোগসূত্র

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি আন্দোলনের নামে মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ সুগম করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য পুজো দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন:

"শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ আসবে। জনগণ দুই-তিন কোটিরও বেশি মানুষ এই বাংলাদেশে আসবে, এয়ারপোর্টে আপনারা মিলিয়ে নিন। শেখ হাসিনার জন্য আমি প্রতিনিয়ত পুজো দিই। কারণ শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ কেউ চালাতে পারবে না, একমাত্র উনার কাছেই এই বাংলাদেশ নিরাপদ।"

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের আভাস:

এর আগে অন্য এক বিতর্কিত মন্তব্যে চৈতালী চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনবেন। ভারতের উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের বাংলাদেশ দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকির সাথে চৈতালী চক্রবর্তীর এই বক্তব্যগুলোর একটি গভীর যোগসূত্র ক্ষতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

৪. জুলাই শহীদদের নিয়ে চরম দ্বিমুখী নীতি ও মায়াকান্না

সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মূল্যায়ন নিয়ে। জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচারী সরকারের গুলিতে ৯ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্র-জনতা শহীদ হলেও, তাদের বিচার কিংবা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চৈতালী চক্রবর্তী বা তার সমমনা সংগঠনগুলোকে কখনো রাজপথে কোনো জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।

অথচ একটি মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে, সনাতনীদের জন্য **"আলাদা ভূখণ্ড বা প্রদেশ"**-এর মতো রাষ্ট্রদ্রোহী দাবি তুলে ঢাকাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি "অল জঙ্গিবাদ হিন্দু উপর আক্রমণ করতা হে" বলে যে আন্তর্জাতিক মহলে মায়াকান্না কাঁদছেন, তা মূলত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি আন্তর্জাতিক অপপ্রচারের অংশ।

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর এই মারমুখী অবস্থান ও বক্তব্য প্রমাণ করে যে, গাইবান্ধার এই আন্দোলনটি কোনো বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় ঘটনা নয়। ধর্মের পবিত্র ও সংবেদনশীল আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে পুনর্বাসিত করার সুগভীর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, চৈতালী চক্রবর্তী তাদেরই একজন অন্যতম প্রধান রূপকার। দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই রাজনৈতিক কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন

 ও আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।


দিল্লির আধিপত্যবাদ রুখতে ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

 


বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ আর কোনো ধরনের দাসত্ব বা নতজানু নীতি বরদাশ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ এখন এক ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সাম্প্রতিক এক জনাকীর্ণ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছে এবং এই দেশে কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন আর সম্ভব নয়।

১. দিল্লির আধিপত্যবাদ ও সীমান্ত আগ্রাসনের হুঁশিয়ারি

বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভারতের সীমান্ত নীতি এবং অনুপ্রবেশের নামে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন:

রাতের আঁধারে পুশ-ইন - হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে অনুপ্রবেশকারী সাজিয়ে রাত দুইটার সময় বিভিন্ন লোকেশনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

 সীমান্ত হত্যা বন্ধের আলটিমেটাম: সীমান্ত হত্যার নামে যা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভারতের বিজেপি সরকারের সদস্য ও সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের মনোভাব থেকে দিল্লিকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: দিল্লির শাসকদের মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও বাংলার শাসকরা দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে নেয়নি এবং তাদের পরাজিত করার ইতিহাস এ দেশের রয়েছে।


২. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তনের আহ্বান

ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তবে ভারতকে তার বর্তমান বৈরী আচরণ ও ফরেন পলিসি (পররাষ্ট্র নীতি) পরিবর্তন করতে হবে।


"আমাদেরকে বাধ্য করবেন না দ্বিপাক্ষিক প্রতিবেশীসুলভ সেই সম্পর্ক থেকে একটা শত্রুতাপূর্ণ (Hostile) রিলেশনশিপে আসতে। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এর পুরো দায়ভার ভারতবর্ষ এবং দিল্লির সরকারকেই নিতে হবে।"


৩. সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি

বক্তব্যে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থল ও বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত হেনস্থার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা, শিক্ষা বা ট্রানজিটের জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা দশকের পর দশক ধরে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টাকে যেভাবে বিমানবন্দরে হয়রানি ও ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এই ধারাবাহিক অপমানেরই অংশ। একজন পতাকাবাহী ব্যক্তিত্বের সাথে এমন আচরণ করায় এবার বিষয়টি জনসমক্ষে এসেছে বলে তিনি জানান।


৪. বাংলাদেশ সরকারের প্রতি শক্ত অবস্থানের তাগিদ

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/চলতি সরকারের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘চোখে চোখ রেখে’ কূটনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন নেই। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যতদিন সাহসী ভূমিকা রাখবে, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পাশে থাকবে।


প্রতিবেদকের মন্তব্য:

ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। লাল-সবুজের পতাকাকে পাহারা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং কোনো ধরনের "দালাল বা দাস ফ্যাসিবাদ" যেন দেশে ফিরতে না পারে, সেই আহ্বান জানি

য়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।


ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

 




নিজস্ব প্রতিবেদক ।

ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান।

সৌজন্যমূলক এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই জাতির সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করা হয়। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং তাঁর সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের জন্য আবারও উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

 বাজেট ও জননীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জামায়াতের





নিজস্ব প্রতিবেদক 

আসন্ন জাতীয় বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য গণমুখী হতে হবে।

আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ৫ ও ৬ জুন (শুক্রবার ও শনিবার) ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশের প্রাক্কালে সংসদ সদস্যদের অর্থনৈতিক ও জননীতি বিষয়ক জ্ঞান এবং সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মশালায় জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্বকারী ৭৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) অংশ নেন।

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকেরা এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যরা কীভাবে জাতীয় বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংসদে জনদাবিগুলো যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন কৌশলগত পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেন।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁরা সংসদীয় রীতিনীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে সংসদ সদস্যদের মহান জাতীয় সংসদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা শেষ হয়।

সিলেটে চিকিৎসাধীন সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা



নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে সিলেটের একটি হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।

আজ সোমবার (১ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন এই সাবেক সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইসিইউতে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে সাবেক এই এমপির সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতির বিবরণ শোনেন। পরে তিনি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর দ্রুত ও পরিপূর্ণ আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।