পহেলা বৈশাখ উদযাপন

 


আমাদের ঈমান ও সামাজিক দায়বদ্ধতা কি ভুলে যাচ্ছি?

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আমাদের দেশের একটি বড় উৎসব। কিন্তু একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমাদের কি ভাবা উচিত নয় যে, এই উৎসবের আড়ালে আমাদের অজান্তেই ঈমানি চেতনা বা সামাজিক মূল্যবোধের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না? আজ আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কিছু দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করব।

১. উৎসবের নামে ‘শিরক’ ও ঈমানি ঝুঁকি

পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'। এখানে বড় বড় বাঘ, পেঁচা বা সাপের মুখোশ ও মূর্তি বহন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এগুলো করলে দেশের ‘মঙ্গল’ হবে।

 ইসলামের শিক্ষা: ভালো-মন্দের মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোনো মূর্তি বা প্রাণীর প্রতিকৃতি আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না।

 সতর্কবার্তা: কোরআনে বলা হয়েছে, *"নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন"* (সূরা আল-মায়েদাহ: ৭২)। তাই মঙ্গলের আশায় এসব মিছিলে অংশ নেওয়া একজন মুসলিমের ঈমানের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

২. কোটি কোটি টাকার অপচয়: কার স্বার্থে?

একদিনের এই উৎসবের সাজসজ্জা, ব্যানার, বিশাল সব মূর্তি আর আলোকসজ্জার পেছনে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। উৎসব শেষ হতেই এগুলো আবর্জনায় পরিণত হয়।

 কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলেছেন (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৭)।

 বিকল্প চিন্তা: আমাদের আশেপাশে কত অসহায় মানুষ এক বেলা খাবারের জন্য কষ্ট পায়, কত এতিম শিশু অর্থাভাবে পড়তে পারে না। এই অপচয়কৃত টাকা যদি দরিদ্রদের কল্যাণে বা সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তবে তা হতো প্রকৃত ‘মঙ্গল’।

৩. নৈতিক অবক্ষয় ও অজাতিত অপকর্ম

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে অনেক সময় নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং পর্দা হীনতা পরিলক্ষিত হয়। বিশাল ভিড়ের সুযোগে অনেক সময় ইভটিজিং বা আপত্তিকর ঘটনা ঘটে, যা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় নৈতিকতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) পরপুরুষ ও পরনারীর অবাধ মেলামেশা থেকে উম্মতকে সতর্ক করেছেন।

৪. বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুসরণ

পহেলা বৈশাখের বর্তমান অনেক রীতিই আমাদের নিজস্ব ইসলামি সংস্কৃতির অংশ নয়। হাদিসে এসেছে, *"যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে"* (আবু দাউদ)। অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের আদলে নিজের জীবন সাজানো একজন মুসলিমের আত্মপরিচয়কে সংকটে ফেলে দেয়।

আমাদের করণীয় কী হতে পারে?

একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারি:

 সচেতন হওয়া: উৎসবের নামে কোনো শিরক বা গুনাহের কাজে পা না দেওয়া।

 অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো: উৎসবের বাজেট থেকে কিছু অংশ বাঁচিয়ে আপনার পাশের অভাবী মানুষটিকে সাহায্য করুন। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে।

 সংস্কৃতি রক্ষা: ইসলামি গণ্ডির ভেতরে থেকে শালীনভাবে দিনটি অতিবাহিত করা, যেখানে কোনো অপচয় বা বেহায়াপনা থাকবে না।

নতুন বছর আসা মানেই জীবনের একটি বছর ফুরিয়ে যাওয়া। এখানে আনন্দ করার চেয়ে পরকালের পাথেয় গোছানোর চিন্তাই বেশি হওয়া উচিত। আসুন, আমরা হুজুগে না মেতে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজের জীবন ও সংস্কৃতিকে পরিচালনা করি।


পহেলা বৈশাখে উৎসবের ভিড় ও এক অমীমাংসিত ক্ষত

পহেলা বৈশাখের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতি যখন চারদিকে তুঙ্গে, তখন আমাদের উৎসবের স্মৃতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে কথা বলাটা জরুরি। 

ফিরে দেখা ২০১৫-র সেই কালবেলা

পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন শাড়ি, পান্তা-ইলিশ আর টিএসসির মোড়ে মানুষের ঢল। কিন্তু এই রঙিন উৎসবের ক্যানভাসে ঠিক ১১ বছর আগে লেপে দেওয়া হয়েছিল এক ভয়াবহ কলঙ্ক। আমরা কি সেই ঘটনা মনে রেখেছি, নাকি উৎসবের হুজুগে বিস্মৃতি আমাদের গিলে খেয়েছে?

সেই নারকীয় সন্ধ্যার প্রেক্ষাপট

২০১৫ সালের ১৪ই এপ্রিল। সন্ধ্যার টিএসসি এলাকা। চারদিকে যখন ঢাক-ঢোলের শব্দ, ঠিক তখনই ৫০-৬০ জনের একদল দুষ্কৃতকারী এক নারকীয় উল্লাসে মেতে ওঠে। উৎসবের ভিড়কে ঢাল বানিয়ে তারা অন্তত ১৫-২০ জন নারীর ওপর চড়াও হয়। জনসমক্ষে শ্লীলতাহানি আর শারীরিক লাঞ্ছনার সেই দৃশ্য ছিল কল্পনাতীত।

আক্রান্তদের চিৎকার যেন জনসমুদ্রের কোলাহলে হারিয়ে যায়, সেজন্য দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করেছিল উচ্চৈঃস্বরে বাজা ভেঁপু বাঁশি। এমনকি আট বছরের সন্তানের সামনে মাকে লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করেনি তারা। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ভাইও। শেষ পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনের কিছু সাহসী সদস্য এগিয়ে এলে সেই অপরাধী চক্র ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ ও বিচারের আড়াল

পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে ছিল, কাছেই ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থান। ঘটনার পর অপরাধীদের ছবি এবং পরিচয় প্রকাশ্যে এলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে দৃশ্যমান কোনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপের বদলে কেবল 'ভুভুজেলা বা বাঁশি' নিষিদ্ধ করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছিল। কিন্তু যে গভীর সামাজিক ক্ষত সেদিন তৈরি হয়েছিল, তার নিরাময় আজও হয়নি।

 উৎসব যখন ট্রমার কারণ

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে সেই মুহূর্তটি আজও এক দুঃসহ স্মৃতি। সাধারণ কৌতূহল মেটাতে যদি সেদিন কেউ সেই ভিড়ের কাছে যেতেন, তবে হয়তো তার পরিণতিও হতে পারত ভয়াবহ। এই একটি ঘটনাই অনেকের জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে। আজ ১১ বছর পরেও সেই ট্রমা কাটেনি:

 * অচেনা ভিড়ের প্রতি তীব্র আতঙ্ক।

 * উৎসবের দিনেও গৃহবন্দী থাকা।

 * গণপরিবহন বা জনসমাগম এড়িয়ে চলার দীর্ঘস্থায়ী ভীতি।

আমাদের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি

পহেলা বৈশাখ আবারও দোরগোড়ায়। আপনি হয়তো পরিকল্পনা করছেন টিএসসি বা রবীন্দ্র সরোবরে প্রিয়জনদের নিয়ে আড্ডা দেবেন। অবশ্যই উৎসব পালন করবেন, তবে **সতর্কতা হোক আপনার প্রধান হাতিয়ার**।

প্রশাসন বা নিরাপত্তার ওপর শতভাগ নির্ভরশীল না থেকে নিজের এবং প্রিয়জনের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সচেতন থাকুন। মনে রাখবেন, ভিড়ের আড়ালে ওৎ পেতে থাকা সেই অশুভ মানসিকতা সমাজ থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি।

আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতেই। উৎসব হোক আনন্দময়, কিন্তু একইসাথে নিরাপদ।

রাজনীতির আড়ালে টর্চার সেল? নওগাঁ-৪ আসনের এমপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ


রাজনীতি যখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সম্প্রতি নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে নিজ বাসভবনে 'টর্চার সেল' বানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মান্দা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 

এই ভয়ার্ত পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী:

 # এমপির এপিএস মোহাম্মদ আলী এবং গোল্ডেনসহ ১০-১২ জনের একটি দল তাকে মারধর করতে করতে এমপির বাসভবনে নিয়ে যায়।

 # বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে (যাকে টর্চার সেল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে) তাকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

 # ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাকে 'প্রাণে মেরে ফেলার' হুমকি দিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

দুর্নীতির পাহাড় ও ক্ষমতার অপব্যবহার

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। এমপির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো একনজরে:



বিচারপ্রার্থনা ও দলীয় শৃঙ্খলা:

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই পরিস্থিতিকে 'চরম লজ্জাজনক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে (তারেক রহমান) এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, নিজ দলের কর্মীদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন দলীয় আদর্শের পরিপন্থি।


 "এমপি টিপুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা হোক। মান্দা উপজেলায় সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দোষীদের শাস্তি এখন সময়ের দাবি।" — সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ


একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যখন নিজ কর্মীদের নির্যাতনের জন্য 'টর্চার সেল' ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন তা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক সংকটেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।

আপনার কি মনে হয়? স্থানীয় রাজনীতিতে এমন অরাজকতা বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

 কমেন্টে আপনার মতামত জানান।


লক্ষ্মীপুরে গণতন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন


জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা ও প্রশাসনের নগ্ন পক্ষপাতিত্ব:

লক্ষ্মীপুর আজ আবারও সাক্ষী হলো এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের। যে রাজপথে একসময় স্বৈরাচার পতনের স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল, আজ সেই রাজপথেই গণতন্ত্রের দাবিদারদের লেলিয়ে দেওয়া পেটোয়া বাহিনীর তাণ্ডব চলছে। ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হাবিবুর রহমান ফাহিমের ওপর ছাত্রদল নেতা আকবর মুন্নার কাপুরুষোচিত হামলা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন কেবলই কিতাবি শব্দ।

প্রতিবাদ যখন অপরাধ, আর হামলা যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি!

ফাহিমের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন চক মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিল, তখন তারা মুখোমুখি হয়েছে এক ভয়াবহ বৈষম্যের। একদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ, অন্যদিকে একই এলাকায় ছাত্রদলের ‘জুলাই ফাইটার্স’ পরিচয়ে পাল্টা কর্মসূচির নাম করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অবাধ সুযোগ!

জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা কি কেবল শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য? ছাত্রদলের মিছিলের সময় প্রশাসনের এই ‘অন্ধত্ব’ কি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে না?

যোদ্ধার গায়ে হাত: অপমানজনক আটকের বিচার চাই

সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে যখন আন্দোলনের অন্যতম মূখ্য সংগঠক এবং গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম মুরাদকে প্রশাসন জনসমক্ষে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেছে। একজন বিপ্লবীর সাথে এমন পৈশাচিক আচরণ গোটা ছাত্রসমাজকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের এই নগ্ন ভূমিকা প্রমাণ করে, তারা ন্যায়বিচারের রক্ষক নয়, বরং সন্ত্রাসী রাজনীতির সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।

আমাদের হুঁশিয়ারি

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই:

১. ফাহিমের ওপর হামলাকারী আকবর মুন্নাসহ দোষীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।

২. সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ আটক সকল শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

৩. পুলিশ ও প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।

এই দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। হামলা আর মামলা দিয়ে বিপ্লবের চেতনাকে দাবিয়ে রাখা যায় না। লক্ষ্মীপুরের এই মাটিতে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের ঠাঁই হবে না। 

বিচার না হওয়া পর্যন্ত, রাজপথ আমাদেরই!

মুনাফার রাজ্যে মানবিকতার বলি



নবীন ফ্যাশন ও এক ‘অদৃশ্য’ দেশপ্রেমিকের প্রস্থান

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিবেকবান প্রতিটি মানুষকে। মগবাজারের বিশাল সেন্টারের ‘নবীন ফ্যাশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের দেশ ছাড়ার খবরটি কেবল একজন ব্যবসায়ীর গল্প নয়; বরং এটি আমাদের সমাজ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক নিদারুণ প্রতিফলন।

ঘটনার নেপথ্যে: অপরাধ যখন ‘মানবিকতা’

অভিযোগ উঠেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা চিন্তা করে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করছিলেন নবীন ফ্যাশনের মালিক। যেখানে বড় বড় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ৩০০ টাকার পাঞ্জাবি ৫০০০ টাকায় বিক্রি করে পকেট ভারী করতে মরিয়া, সেখানে এই ব্যবসায়ী ‘অল্প লাভে’ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

কিন্তু এই মানবিকতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:

 * ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ক্ষোভ: কম দামে পণ্য বিক্রি করায় অন্য মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিশাল অংকের লাভে টান পড়ে।

 * প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ: ‘প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু’ পরিচয় দিয়ে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হাতিরঝিল থানার পুলিশকে ব্যবহার করে দোকানটি বন্ধ করে দেন।

 * ভয়াবহ হুমকি: ব্যবসা গুটিয়ে না নিলে সন্তানদের ‘এতিম’ করে দেওয়ার মতো চরম হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 * নিভৃতে দেশত্যাগ: সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং আইনি সহায়তার আশা না পেয়ে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে সন্ধ্যায় তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

গণমাধ্যমের নীরবতা: প্রশ্ন যখন সাংবাদিকদের দিকে

এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমের নীরবতা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

১. সেলফ-সেন্সরশিপ: কেন এমন একটি মানবিক এবং চাঞ্চল্যকর খবর মিডিয়ায় গুরুত্ব পেল না? ‘প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু’ বা প্রভাবশালী কারো নাম জড়িয়ে গেলে কি কলম থমকে যায়?

২. ফ্যাসিবাদ তৈরির কারিগর: অতীতে যেভাবে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে বা ব্যক্তিবিশেষকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রেখে ‘ফ্যাসিস্ট’ বানানো হয়েছিল, বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতা কি সেই একই পথে হাঁটছে?

> "যে দেশে ভালো কাজের পুরস্কার হয় দেশত্যাগ এবং হুমকি, সে দেশে সুস্থ ধারার ব্যবসা বা মানবিকতা টিকে থাকা অসম্ভব।"

> আমাদের সমাজ কোথায় যাচ্ছে?

একজন মানুষ যখন নিজের দেশের মানুষের জন্য সস্তায় পোশাক জোগান দিয়ে ‘অপরাধী’ হয়ে যান, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্র ও বাজার ব্যবস্থা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে যখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়।


মগবাজারের সেই ব্যবসায়ীর দেশ ছেড়ে যাওয়া আমাদের সম্মিলিত নৈতিক পরাজয়, সেই সাথে এটি মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। সত্যটুকু উন্মোচন করে দোষীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন সময়ের দাবি।


ট্রাম্পের যুদ্ধে ‘'না'

 


কেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপ?

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ দৃশ্যমান হচ্ছে। দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশগুলোর এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এটি আমাদের যুদ্ধ নয়: ইউরোপের স্পষ্ট বার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালীতে সামরিক শক্তি বাড়াতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, তখন ইউরোপীয় নেতাদের কণ্ঠস্বর বেশ কঠোর।

 * জার্মানি: প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস পরিষ্কার জানিয়েছেন, "এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।" জার্মানি সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটতে চায়।

 * যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যাটোর বাধ্যবাধকতা মানেই অন্যের ইচ্ছামতো যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। ট্রাম্পের পরোক্ষ হুমকি সত্ত্বেও তিনি ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় অটল।

 * ইতালি ও ফ্রান্স: দুই দেশই তাদের নৌবাহিনীকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

কেন এই দূরত্ব?

ইউরোপীয় নেতাদের এই ‘ভোলবদলের’ পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

 * ইরাক যুদ্ধের তিক্ত স্মৃতি: ২০০৩ সালে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাক আক্রমণ ছিল একটি ভয়াবহ ও ব্যয়বহুল ভুল। ইউরোপ এখন আর বুশ আমলের সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না।

 * অর্থনৈতিক সংকট: যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। মুদ্রাস্ফীতি আর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপের সরকারগুলো। নতুন করে যুদ্ধে জড়ানো মানে নিজেদের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।

 * ন্যাটোর সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক: ন্যাটোর ৫ নম্বর ধারাটি মূলত আত্মরক্ষার জন্য। ট্রাম্পের ইচ্ছামতো কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেওয়া ন্যাটোর আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করছেন ইউরোপীয় সমরবিদরা।

ট্রাম্পের হুমকি ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ

ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইউরোপ যদি এই যুদ্ধে যোগ না দেয়, তবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব উল্টো ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয় থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা এখন বুঝতে পারছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে—শরণার্থী সমস্যা থেকে শুরু করে জ্বালানি সংকট পর্যন্ত।

আপাত দৃষ্টিতে-

ইউরোপীয় দেশগুলো হয়তো সরাসরি ইরানের পক্ষ নিচ্ছে না, কিন্তু তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিকে প্রত্যাখ্যান করা পরোক্ষভাবে ইরানের অবস্থানকেই শক্তিশালী করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইউরোপ আর অন্ধভাবে ওয়াশিংটনের হুকুম মানতে রাজি নয়।

আপনি কি মনে করেন ইউরোপের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পারবে, নাকি এটি আটলান্টিক পাড়ের মিত্রতায় চিরস্থায়ী ফাটল ধরাবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

নওগাঁয় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ৯ পরিবারের পাশে জেলা জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নওগাঁর যেসকল বীর প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার অংশ হিসেবে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ৯টি শহীদ পরিবারের প্রত্যেককে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সম্প্রতি নওগাঁ জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। জেলা আমির খ ম আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:

 * অধ্যাপক মহিউদ্দিন: নায়েবে আমির, জেলা জামায়াত (জামায়াত মনোনীত নওগাঁ পৌর মেয়র পদপ্রার্থী)।

 * অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েম: সেক্রেটারি, জেলা জামায়াত ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য।

 * অধ্যাপক আব্দুর রশিদ ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম: জেলা কর্মপরিষদ সদস্য।

বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের ত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে থাকা নৈতিক দায়িত্ব। এই মানবিক সহায়তা আগামীতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।