জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ ও সমকালীন সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুরুল হক মিলনায়তনে ‘নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ ও সমকালীন সমাজ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীর অধিকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মমতাজ মাননানের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সম্পাদক ডা. তাহেরা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানত নারী সুধীবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়।

সভায় সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাতের বিভিন্ন দিক, আধ্যাত্মিকতা এবং নববী আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ৫ জন বিশিষ্ট আলোচক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জম ‘পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নবীজী ﷺ-এর আদর্শ’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে পারিবারিক ভাঙন ও অশান্তি দূর করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনই একমাত্র পথপ্রদর্শক। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা ও কোমল আচরণ ধারণ করাই সুখী পরিবারের মূল ভিত্তি।

‘নবীজি ﷺ-এর সালাত ও আল্লাহর প্রতি ব্যাকুলতা’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আফিফা মুশতারী। তিনি বলেন, সালাত কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা ছিল আল্লাহর সাথে নবীজির প্রেমের কথোপকথন ও পরম প্রশান্তির মাধ্যম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতার চর্চা করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তরুণ প্রজন্মের নৈতিক সংকট ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. শারমীন ইসলাম। ‘সমকালীন চ্যালেঞ্জ ও তরুণদের পথপ্রদর্শক রাসূল ﷺ’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ বয়স থেকেই রাসূলুল্লাহ ﷺ দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও সৎ ছিলেন। তাঁর সততা, নৈতিকতা এবং বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা আজকের তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

‘ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসূলুল্লাহ ﷺ’ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে সংগঠনের সহ-সম্পাদক ড. সাজেদা হোমায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে কন্যাসন্তানের জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছেন এবং সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছেন। সমাজে নারীর প্রকৃত সম্মান ফেরাতে সীরাতের চর্চা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ। ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সিরাতের শিক্ষা’ বিষয়ে তিনি বলেন, মহানবী ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণে বহুজাতি ও বহুধর্মের সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব। রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্য ভুলে সমাজে পরম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার ১৩৫ নম্বর ও সূরা আল-মায়িদার ৮ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন।

সভার সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুন নাহার বলেন, "আমরা এমন এক যান্ত্রিক যুগে বাস করছি যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্য বাড়লেও ভেতরের আধ্যাত্মিকতা শুকিয়ে যাচ্ছে। মা আয়েশা (রা.) ও মা ফাতিমা (রা.)-দের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের মা-বোনদের ঘরের ভেতর নবীজির ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।" পাশাপাশি, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শান্তির বাণীগুলো গণমাধ্যমের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মমতাজ মাননান

সভাপতি

নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন

তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬

জামালগঞ্জ এসিল্যান্ডের রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট ও উত্তাল সুনামগঞ্জ


 

নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে পুরো সুনামগঞ্জ জুড়ে। জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আরিফুর রহমান শান্ত তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে নিজের মৃত্যুর জন্য সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পা রানী মোদককে দায়ী করে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন।

এই আকস্মিক ঘটনা ও এর পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আজকের এই ব্লগ পোস্ট।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

গত শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক আমন্ত্রিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষ করে ইউএনওর বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই এসিল্যান্ডের অফিশিয়াল ফেসবুক আইডি (এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ) থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে তিনি সরাসরি লেখেন—

"আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবেন।"

পাশাপাশি তিনি ক্যাডার সার্ভিস থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দেন। এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ইউএনওর বাসায় যা ঘটেছিল

ইউএনও শিল্পী রানী মোদক গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার পরই এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তাঁর ভাষ্যমতে:

  তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন।

  ইউএনওর তিন বছরের ছোট মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

  রাস্তায় যাকে সামনে পেয়েছেন, সবার সাথেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়। তাঁরা দ্রুত ইউএনওর বাসভবনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে কর্মরত এই এসিল্যান্ড বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক ও মানসিকভাবে কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন।

স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতেই তাঁকে প্রথমে সিলেট এবং পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

যা বললেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক

নিজের নাম জড়িয়ে এসিল্যান্ডের এমন পোস্টে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক। তিনি বলেন—

 "তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন, সেটাই আমার প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।"

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মানসিক বিপর্যয় এবং চাঞ্চল্যকর ফেসবুক পোস্ট প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সহকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্মপরিবেশের চাপ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন: 

রুহুল আমিন, ইত্তেফাক নিউজ।

বীর মুক্তিযোদ্ধার কারাবাস, রিমান্ড মঞ্জুর ও বিমানবন্দরের লাগেজ সিন্ডিকেট

 


নীরব কেন তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’?

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, যাত্রীদের হয়রানি এবং চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কারাবাস এবং পরবর্তীতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার ঘটনা বর্তমান সময়ের এক জ্বলন্ত ও জাতীয় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সাংসদকে হয়রানির প্রতিবাদ করেন।

যাত্রীদের লাগেজ কাটা, জিনিসপত্র চুরি এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় উল্টো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় পরদিন তাঁকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কেবল কারাবাসই নয়, বরং আদালতের মাধ্যমে তাঁর কয়েকদিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়েছে।

প্রধান বিবেচ্য বিষয়সমূহ

  • যৌক্তিক প্রতিবাদ বনাম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন: একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিমানবন্দরের এই লাগেজ সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও দেশপ্রেমের পরিচায়ক।

  • কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী আচরণ: সাধারণ যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা ও চুরির প্রতিকার না করে, উল্টো প্রতিবাদকারী মুক্তিযোদ্ধার ওপর মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ড মঞ্জুরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতিরই প্রমাণ দেয়।

  • নির্বাক তথাকথিত ‘পক্ষের শক্তি’: সমাজের কোনো কোণে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষিপ্ত ক্ষোভ প্রকাশ পেলে যে সব দল বা গোষ্ঠী ‘মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা’ বলে গলা ফাটিয়ে ফেলেন, আজ একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন বিমানবন্দরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারাবন্দী ও রিমান্ডের শিকার, তখন তাদের সেই সরব উপস্থিতি কোথায়?

সাধারণ মানুষের তো অধিকারের কথা বাদই দিলাম—আজ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন দুর্নীতির প্রতিবাদ করে কারাগারে বন্দি হন এবং রিমান্ডের মুখোমুখি হন, তখন তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’র এই নীরবতা জনগণের মনে গভীর সংশয়ের জন্ম দেয়।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান কি তবে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের হাতিয়ারমাত্র? নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই আজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে?

আপনার কী মনে হয়? বিমানবন্দরের এই লাগেজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই অবমূল্যায়ন, কারাবাস ও রিমান্ডের ঘটনায় আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?



সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ


সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি শুভেচ্ছাপত্র সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের হাতে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মি. মিশেল লি-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিঙ্গাপুর সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।

এসময় জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার সিঙ্গাপুরের সরকার ও জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজের এলাকার বাজেট ও উন্নয়নকাজের তথ্য কীভাবে জানবেন?


 সাধারণ নাগরিকের সহজ নির্দেশিকা

জনগণই ক্ষমতার উৎস, আর এলাকার উন্নয়নকাজের তথ্য পাওয়া আপনার নাগরিক অধিকার। সরকারি বাজেট থেকে আপনার এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল কিংবা লাইব্রেরির জন্য কত টাকা এল এবং তা ঠিকঠাক খরচ হলো কি না—তা ঘরে বসেই জেনে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সহজ কয়েকটি ধাপে কীভাবে আপনার এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে খোঁজখবর রাখবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. অনলাইনেই দেখুন কোথায় কত টাকা বাজেট এলো

সরকারি দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি না করে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমেই অনেক তথ্য পাওয়া সম্ভব:

উপজেলা ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন: আপনার উপজেলার নিজস্ব অফিসিয়াল পোর্টালে (যেমন: badalgachhi.naogaon.gov.bd বা আপনার নিজ উপজেলার ওয়েবসাইটে) যান। ওয়েবসাইটের "উন্নয়ন পরিকল্পনা" বা "বার্ষিক প্রতিবেদন" ট্যাবে ক্লিক করলে দেখতে পাবেন টিআর, কাবিখা ও উপজেলা পরিষদের বার্ষিক বাজেটের তালিকা।

রাস্তা ও ব্রিজের খবর জানতে (LGED): আপনার এলাকার নতুন রাস্তা বা ব্রিজের টেন্ডার হয়েছে কি না বা কত টাকা বাজেট অনুমোদিত হয়েছে, তা জানতে এলজিইডির ওয়েবসাইট (lged.gov.bd) অথবা সরকারি ই-টেন্ডার পোর্টাল (e-procure.gov.bd)-এ গিয়ে নিজ উপজেলার নাম লিখে সার্চ করুন।

২. কোনো দপ্তরে না গিয়ে ঘরে বসেই আবেদন করুন (myGov)

তথ্য না পেলে কোনো অফিসে ছোটোছুটি করার দরকার নেই। বাংলাদেশ সরকারের ‘আমার সরকার’ (mygov.bd) পোর্টালে ঢুকে তথ্য অধিকার আইনে অনলাইনেই আবেদন করা যায়।

পদ্ধতি: ওয়েবসাইটে সাইন-ইন করে 'তথ্য অধিকার' সেবায় গিয়ে আপনি যে তথ্য জানতে চান (যেমন: নির্দিষ্ট একটি রাস্তা সংস্কারের বাজেট ও ঠিকাদারের নাম) তা লিখে জমা দিন।

সময়সীমা: আইনি নিয়ম অনুযায়ী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা আপনাকে সেই তথ্যের বিবরণ দিতে বাধ্য।

৩. উন্নয়নকাজের মান যাচাইয়ে আপনার করণীয়

আপনার এলাকার স্কুল, হাসপাতাল, ড্রেন বা ক্লাবের উন্নয়নকাজ যখন চলবে, তখন সচেতন নাগরিক হিসেবে ৩টি বিষয় খেয়াল রাখুন:

সিটিজেন চার্টার বা তথ্যবোর্ড দেখুন: যেকোনো সরকারি কাজ শুরু হলে সেখানে কাজের বিবরণ, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং ঠিকাদারের নামসহ একটি সাইনবোর্ড থাকার কথা। সেটি ভালোভাবে পড়ে নিন।

 সামাজিক নিরীক্ষা বা অডিট: আপনার এলাকার যুবসমাজ ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করুন। কাজে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে ছবি বা ভিডিও তুলে রাখুন।

 সমস্যা জানাতে মোবাইল অ্যাপ ও হেল্পলাইন: সরকারি বিভিন্ন সেবা ড্যাশবোর্ড বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর সরকারি ইমেইল ও নাম্বারে সরাসরি প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ বা মেসেজ পাঠান।

মনে রাখবেন

জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। এলাকাকে সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে জনগণকে সচেতন হতে হবে। আজই মোবাইল হাতে নিয়ে আপনার উপজেলার ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখুন আপনার এলাকার কোন কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে!

আপনার এলাকার কোনো নির্দিষ্ট কাজের তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা হলে স্থানীয় ডিজিটাল সেন্টারে গিয়েও সহযোগিতা নিতে পারেন।

জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধীদলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার


প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট | স্থান: সৈয়দপুর, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের নীতি, উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা ব্যক্ত করেছেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

১. গণভোটের রায় ও সরকারের দ্বিমুখী অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা বলেন, "২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল মেনে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটের রায় মানতে সরকার চরম আপত্তি জানাচ্ছে।"

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার রেকর্ড সকল গণমাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে।

"মানুষের সঙ্গে কী রকম দ্বিমুখীতা হলে একই বিষয়ে একেক রকম অবস্থান নেওয়া সম্ভব? পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণভোটের রায় বাতিল হয়নি। গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা মানে জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।"

২. উন্নয়ন বরাদ্দে চরম বৈষম্য ও লুটপাটের অভিযোগ

সরকার বিরোধী দলের এলাকাগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ রেখে জনগণের হক হরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য: সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া জনগণ যেন এদেশের নাগরিকই নন।

প্রকল্প অনুমোদনে স্বজনপ্রীতি: সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় একের পর এক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, অথচ জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের এলাকায় চরম বৈষম্য করা হচ্ছে।

  অর্থ লোপাট: সাধারণ বরাদ্দে কাটছাঁট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে এবং বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

৩. প্রশাসনিক দলীয়করণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল

তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে প্রতিযোগিতা চলছে, যার ফলে অন্তর্দলীয় কোন্দল প্রকট রূপ নিয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড দুর্নীতি: ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও চরম স্বজনপ্রীতি দেখা যাচ্ছে।

দলীয় নিয়োগ: সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ১১টি পদে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

  শিক্ষকদের নির্বাচনে বাধা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

৪. সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গের উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হবেন। তবে সংবিধানে অনুচ্ছেদগত বাধ্যবাধকতার কারণে সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারছেন না। এই কারণেই সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন হলেও সরকার তা বাস্তবায়নে পিছপা হচ্ছে।

সংবাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কার্যপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হাকিম, নীলফামারী-১ আসনের এমপি ও নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আনতাজুল ইসলাম এবং নীলফামারী-৪ আসনের এমপি মাওলানা আব্দুল মুত্তাকিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ডকেও’ হার মানালো থার্ড টার্মিনাল! সিএজির রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

 


বিশেষ প্রতিবেদন: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পকে ঘিরে সামনে এসেছে ভয়াবহ এক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র। অনিয়মের পরিধি ও ধরণ এতটাই অস্বাভাবিক যে, সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘বালিশ কাণ্ডকেও’ এটি পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে কোটি কোটি টাকার হরিলুটের এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল চিত্র: যা উঠে এসেছে সিএজি রিপোর্টে

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো তোয়াক্কা না করেই ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়তি অর্থ।

রিপোর্টে উঠে আসা প্রধান অনিয়মগুলোর একটি খতিয়ান:

অনুমোদনহীন কেনাকাটা ও ব্যয়: যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের অন্তত ৬৩০টি আইটেম পরিবর্তন করে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকা।

ফিতা কাটার উৎসব: কেবল আংশিক উদ্বোধনের ‘ফিতা কাটা’ ও আনুষ্ঠানিকতার জন্যই খরচ দেখানো হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা!

পুকুর খননের নতুন রূপ: প্রকল্পে একটি পুকুর নির্মাণের নাম করে ঠিকাদারকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ ‘গুগল আর্থ’-এর পুরনো স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়—সেখানে আগে থেকেই একটি জলাশয় বিদ্যমান ছিল। সেটিকে সামান্য সংস্কার করেই নতুন পুকুর হিসেবে মোটা অঙ্কের বিল তোলা হয়েছে।

মাটি ফেলার নামে অর্থ আত্মসাৎ: প্রকল্প এলাকা থেকে মাটি কেটে ৬ কিলোমিটার দূরে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ফেলা হয়েছে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে। কিন্তু বিলে সম্পূর্ণ ৬ কিলোমিটার দূরত্বের পরিবহন খরচ দেখিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

গাছ কেনা ও পরিচর্যার পুকুরচুরি: সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যেসব গাছের বাজারমূল্য সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, নথিপত্রে সেগুলোর একেকটির দাম ধরা হয়েছে ৫,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত! শুধু এই গাছের পরিচর্যা করতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৪.৮ কোটি টাকা।

 সরঞ্জাম ও জ্বালানিতে চোখ কপালে তোলা খরচ:

   ডিজেল পাম্প সরবরাহ: ১২ কোটি টাকা

   ইউপিএস সরবরাহ: ৪৮ কোটি টাকারও বেশি

   জ্বালানি তেল: ৪১ কোটি টাকা

 অগ্রিম ও বিশেষ সুবিধা: চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে আগাম কাজের খরচ এবং কাজের গতি বাড়ানোর অজুহাতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

ব্যয় সংশোধনের আড়ালে বিপুল অর্থ বৃদ্ধি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, তখন প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩,৫০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দফায় দফায় নকশা ও শর্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকায়"

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে করা এসব অসংগতিপূর্ণ ও বিপুল ব্যয়কে এখন পোস্ট ফ্যাক্টো’ (পরবর্তী অনুমোদন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

প্রকল্পের অনিয়ম ঢাকা দিতে ‘পোস্ট ফ্যাক্টো’ অনুমোদনের এই চেষ্টাকে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের নীতি-বিশেষজ্ঞ ও এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা।

"চিহ্নিত অনিয়ম ও দুর্নীতিগুলোকে যদি পরবর্তী অনুমোদনের (পোস্ট ফ্যাক্টো) মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে তা হবে আরেকটি বড় অপরাধ বা দুর্নীতির শামিল। এতে করে ভবিষ্যতে সবাই অনিয়ম করে পরে ‘সেটেলমেন্ট কমিটি’র মাধ্যমে পার পাওয়ার সুযোগ খুঁজবে।"

ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

"কোনো অবস্থাতেই এই অনিয়মকে পোস্ট ফ্যাক্টো অনুমোদন দেওয়া যাবে না। বরং পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

কাজী ওয়াহিদুল আলম, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ।

সরকারের অবস্থান

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের এই ভয়াবহ দুর্নীতি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং এর সাথে জড়িত প্রদেয় কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির খোলসে যেভাবে গণমানুষের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করা হয়েছে, শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে এই মেগা-লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় নাকি অন্য সব অনিয়মের মতো এটিও কাগজের কলমেই চাপা পড়ে যায়!