প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট | স্থান: সৈয়দপুর, বাংলাদেশ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের নীতি, উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা ব্যক্ত করেছেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
১. গণভোটের রায় ও সরকারের দ্বিমুখী অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা বলেন, "২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল মেনে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটের রায় মানতে সরকার চরম আপত্তি জানাচ্ছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার রেকর্ড সকল গণমাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে।
"মানুষের সঙ্গে কী রকম দ্বিমুখীতা হলে একই বিষয়ে একেক রকম অবস্থান নেওয়া সম্ভব? পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণভোটের রায় বাতিল হয়নি। গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা মানে জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।"
২. উন্নয়ন বরাদ্দে চরম বৈষম্য ও লুটপাটের অভিযোগ
সরকার বিরোধী দলের এলাকাগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ রেখে জনগণের হক হরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য: সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া জনগণ যেন এদেশের নাগরিকই নন।
প্রকল্প অনুমোদনে স্বজনপ্রীতি: সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় একের পর এক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, অথচ জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের এলাকায় চরম বৈষম্য করা হচ্ছে।
অর্থ লোপাট: সাধারণ বরাদ্দে কাটছাঁট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে এবং বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৩. প্রশাসনিক দলীয়করণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে প্রতিযোগিতা চলছে, যার ফলে অন্তর্দলীয় কোন্দল প্রকট রূপ নিয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড দুর্নীতি: ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও চরম স্বজনপ্রীতি দেখা যাচ্ছে।
দলীয় নিয়োগ: সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ১১টি পদে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের নির্বাচনে বাধা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
৪. সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গের উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হবেন। তবে সংবিধানে অনুচ্ছেদগত বাধ্যবাধকতার কারণে সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারছেন না। এই কারণেই সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন হলেও সরকার তা বাস্তবায়নে পিছপা হচ্ছে।
সংবাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কার্যপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হাকিম, নীলফামারী-১ আসনের এমপি ও নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আনতাজুল ইসলাম এবং নীলফামারী-৪ আসনের এমপি মাওলানা আব্দুল মুত্তাকিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।







