রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ডকেও’ হার মানালো থার্ড টার্মিনাল! সিএজির রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

 


বিশেষ প্রতিবেদন: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পকে ঘিরে সামনে এসেছে ভয়াবহ এক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র। অনিয়মের পরিধি ও ধরণ এতটাই অস্বাভাবিক যে, সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘বালিশ কাণ্ডকেও’ এটি পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে কোটি কোটি টাকার হরিলুটের এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল চিত্র: যা উঠে এসেছে সিএজি রিপোর্টে

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো তোয়াক্কা না করেই ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়তি অর্থ।

রিপোর্টে উঠে আসা প্রধান অনিয়মগুলোর একটি খতিয়ান:

অনুমোদনহীন কেনাকাটা ও ব্যয়: যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের অন্তত ৬৩০টি আইটেম পরিবর্তন করে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকা।

ফিতা কাটার উৎসব: কেবল আংশিক উদ্বোধনের ‘ফিতা কাটা’ ও আনুষ্ঠানিকতার জন্যই খরচ দেখানো হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা!

পুকুর খননের নতুন রূপ: প্রকল্পে একটি পুকুর নির্মাণের নাম করে ঠিকাদারকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ ‘গুগল আর্থ’-এর পুরনো স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়—সেখানে আগে থেকেই একটি জলাশয় বিদ্যমান ছিল। সেটিকে সামান্য সংস্কার করেই নতুন পুকুর হিসেবে মোটা অঙ্কের বিল তোলা হয়েছে।

মাটি ফেলার নামে অর্থ আত্মসাৎ: প্রকল্প এলাকা থেকে মাটি কেটে ৬ কিলোমিটার দূরে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ফেলা হয়েছে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে। কিন্তু বিলে সম্পূর্ণ ৬ কিলোমিটার দূরত্বের পরিবহন খরচ দেখিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

গাছ কেনা ও পরিচর্যার পুকুরচুরি: সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যেসব গাছের বাজারমূল্য সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, নথিপত্রে সেগুলোর একেকটির দাম ধরা হয়েছে ৫,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত! শুধু এই গাছের পরিচর্যা করতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৪.৮ কোটি টাকা।

 সরঞ্জাম ও জ্বালানিতে চোখ কপালে তোলা খরচ:

   ডিজেল পাম্প সরবরাহ: ১২ কোটি টাকা

   ইউপিএস সরবরাহ: ৪৮ কোটি টাকারও বেশি

   জ্বালানি তেল: ৪১ কোটি টাকা

 অগ্রিম ও বিশেষ সুবিধা: চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে আগাম কাজের খরচ এবং কাজের গতি বাড়ানোর অজুহাতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

ব্যয় সংশোধনের আড়ালে বিপুল অর্থ বৃদ্ধি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, তখন প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩,৫০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দফায় দফায় নকশা ও শর্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকায়"

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে করা এসব অসংগতিপূর্ণ ও বিপুল ব্যয়কে এখন পোস্ট ফ্যাক্টো’ (পরবর্তী অনুমোদন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

প্রকল্পের অনিয়ম ঢাকা দিতে ‘পোস্ট ফ্যাক্টো’ অনুমোদনের এই চেষ্টাকে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের নীতি-বিশেষজ্ঞ ও এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা।

"চিহ্নিত অনিয়ম ও দুর্নীতিগুলোকে যদি পরবর্তী অনুমোদনের (পোস্ট ফ্যাক্টো) মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে তা হবে আরেকটি বড় অপরাধ বা দুর্নীতির শামিল। এতে করে ভবিষ্যতে সবাই অনিয়ম করে পরে ‘সেটেলমেন্ট কমিটি’র মাধ্যমে পার পাওয়ার সুযোগ খুঁজবে।"

ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

"কোনো অবস্থাতেই এই অনিয়মকে পোস্ট ফ্যাক্টো অনুমোদন দেওয়া যাবে না। বরং পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

কাজী ওয়াহিদুল আলম, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ।

সরকারের অবস্থান

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের এই ভয়াবহ দুর্নীতি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং এর সাথে জড়িত প্রদেয় কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির খোলসে যেভাবে গণমানুষের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করা হয়েছে, শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে এই মেগা-লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় নাকি অন্য সব অনিয়মের মতো এটিও কাগজের কলমেই চাপা পড়ে যায়!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্লবী থানা শাখার বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্লবী থানা শাখার উদ্যোগে কওমি ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানার্থে এক বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও নৈশভোজ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল "২৪-এর জুলাইয়ে কওমি আলিমদের ভূমিকা"। অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে কওমি আলিম ও শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা, অবদান এবং দেশ গঠনে ওলামায়ে কেরামের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ও কার্যক্রম:

আলোচনা ও বিশেষ দোয়া: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে কওমি আলিমদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি দেশের সমৃদ্ধি, শান্তি ও শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে খাস দোয়া পরিচালনা করা হয়।

 সম্মাননা ও উপঢৌকন বিতরণ: ঢাকা মহানগরী উত্তরের সম্মানিত আমীর জনাব সেলিম উদ্দীন ভাইয়ের পক্ষ থেকে শুভাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ৩০টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট ফ্যান বিতরণ করা হয়।

 নৈশভোজের মেহমানদারি: জনাব সেলিম উদ্দীন ভাইয়ের আন্তরিক আয়োজনে এলাকার ৫০টি মাদরাসার সম্মানিত মুহতামিম (পরিচালক) সাহেবদের সম্মানার্থে এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আহ্বান

অনুষ্ঠানে আগত ওলামায়ে কেরাম ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দ্বীন প্রচার, সামাজিক উন্নয়ন এবং দেশের যেকোনো প্রয়োজনে আলেম সমাজ বরাবরের মতোই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবেন। ইসলাম ও দেশের স্বার্থে ওলামা-মাশায়েখদের এই ঐক্য ও সৌহার্দ্য আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে।

উপস্থিত কওমি আলিম ও মুহতামিমগণ এই সুন্দর আয়োজন এবং আলেমদের সম্মানিত করার উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান।

 সংকটে বরাবরই অগ্রভাগে ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বারবার নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোতে দলটির সময়োচিত পদক্ষেপ এবং আমিরের প্রত্যক্ষ ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২২ সালের সিলেট বন্যা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ফেনী-কুমিল্লা এবং বর্তমান ২০২৬ সালের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় জামায়াতের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

২০২২: সিলেটের মহাসংকটে মানবিকতার অনন্য নজির

২০২২ সালে সিলেটের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় যখন চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তখন তৎকালীন সরকারের উদাসীনতা ও লোকদেখানো কার্যক্রমের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল জামায়াত।

তহবিল গঠন: তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন সরকারি তহবিল থেকে মাত্র ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে সমালোচিত হয়েছিল, সেখানে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে **৫ কোটি টাকার বিশাল তহবিল** গঠন করে।

সরেজমিনে আমির: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যখন হেলিকপ্টারে করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন, ঠিক তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে বন্যার্তদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। নগদ অর্থ ও পুনর্বাসন সামগ্রী নিয়ে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

২০২৪: ফেনী-কুমিল্লা-নোয়াখালীর মহাপ্লাবনে দ্রুত সাড়া

২০২৪ সালের আগস্টে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী) হঠাৎ সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় দেশের সব রাজনৈতিক দলের আগে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বুকসমান পানি ভেঙে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রম: বন্যা-পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা এবং গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয় ডা. শফিকুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।

২০২৬: চট্টগ্রামের বর্তমান বন্যায় ত্রাতা রূপে 'ষাটোর্ধ্ব যুবক'

বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের ধীরগতির মাঝেই বরাবরের মতো সবার আগে রাজপথে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা গেছে জামায়াত আমিরকে।

"ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি ক্লান্তিহীনভাবে সরাসরি সশরীরে চলে গেছেন ক্ষতিগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত জনগণের দুয়ারে। মানুষকে নিজে হাতে সহায়তা করছেন অর্থ, খাবার ও বস্ত্র দিয়ে। তার এই নিরলস পরিশ্রম দেখে অনেকে তাকে ‘ষাটোর্ধ্ব যুবক’ বলে আখ্যায়িত করছেন।"

রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল বা চড়াই-উতরাই যাই থাকুক না কেন, "সবার আগে বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষ"—এই নীতিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডা. শফিকুর রহমানের দূরদর্শী ও দরদী নেতৃত্ব দলটিকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। দেশের যেকোনো দুর্যোগে জামায়াত ও তার আমিরের এই সক্রিয় ভূমিকা তাদের দেশের অন্যতম প্রধান মানবিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিস্তা প্রকল্প ও চীনা যুদ্ধবিমান আলোচনা: ঢাকার দিকে কেন ‘নিবিড় নজর’ দিল্লির?

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে যেকোনো ছোটখাটো নড়াচড়াও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। আর তা যদি হয় বাংলাদেশ, চীন এবং ভারতের মতো তিন প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ, তবে তো কথাই নেই।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

দিল্লির উদ্বেগের কেন্দ্রে যা আছে

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান যে, প্রতিবেশী অঞ্চলের যেকোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ওপর ভারত সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এই মুহূর্তে দিল্লির নজরদারির প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো:

 তিস্তা মহাপরিকল্পনা: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ভারত বেশ তৎপর।

চীনা জঙ্গি বিমান ক্রয়ের আলোচনা: প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা জঙ্গি বিমান কেনার যে আলোচনা চলছে, তা ভারতের কৌশলগত ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।

ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডোর: চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার যে আলোচনা চলছে, তার সম্ভাব্য আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব কেমন হতে পারে, সেদিকেও চোখ রাখছে দিল্লি।

"ভারত তার প্রতিবেশী অঞ্চলের যেকোনো উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নয়াদিল্লি সব সময় যথাযথ পদক্ষেপও নিয়ে থাকে।"

রণধীর জয়সোয়াল, মুখপাত্র, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কেন এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ?

ভারতের জন্য বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই নয়, বরং অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। তিস্তা নদীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্তীয় নদী প্রকল্পে চীনের মতো একটি পরাশক্তির সম্পৃক্ততা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঢাকা-বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নীতিনির্ধারকদের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পাশাপাশি, মিয়ানমারকে যুক্ত করে যে অর্থনৈতিক করিডোরের কথা বলা হচ্ছে, তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো বাধা সৃষ্টি না করলেও, নিজের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত যে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিক্রিয়া তারই একটি মৃদু কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত। ঢাকা এবং বেইজিংয়ের এই কূটনৈতিক ও সামরিক বোঝাপড়া আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার কি মনে হয়? বাংলাদেশের এই উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের এই নিবিড় নজরদারি কি স্বাভাবিক কৌশলগত অবস্থান, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো ভূরাজনৈতিক চাপ রয়েছে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান!

ফুটবলের 'পাগলামি' এবং এক প্রতিশ্রুতির গল্প: পটুয়াখালীর রাফির মাথা নেড়া!
সুপ্রিয় ফুটবলপ্রেমী বন্ধুরা,

ফুটবল মানেই উত্তেজনা, ফুটবল মানেই আনন্দ, আর ফুটবল মানেই কখনো কখনো অবিশ্বাস্য সব কাণ্ড! আমরা জানি বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা আমাদের কতটা আচ্ছন্ন করে রাখে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে সমর্থকরা কত কী-ই না করে থাকেন। তবে পটুয়াখালীর এক কট্টর আর্জেন্টিনা ভক্তের যে কাণ্ড, তা নিঃসন্দেহে এক আলাদা কৌতুহল এবং আনন্দের জন্ম দিয়েছে।

হ্যাঁ, আমরা বলছি কাজী রাফির কথা, পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের আর্জেন্টিনা সমর্থক।

একটি ফেসবুক লাইভ এবং এক অভিনব ঘোষণা!

গেল ১৯ জুন, নিজের ফেসবুক লাইভে এসে এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়ে বসেন রাফি। তাঁর এই ঘোষণা পুরো এলাকায় আলোড়ন তোলে। তিনি বলেন— যদি হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল জয়ী হয়, তাহলে তিনি নিজের মাথা নেড়া করবেন।

এ যেন শুধু সমর্থন নয়, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার এক চূড়ান্ত প্রমাণ! রাফি হয়তো ভেবেছিলেন, ব্রাজিলের জন্য এটা খুব সহজ হবে না। কিন্তু কে জানত ফুটবল বিধাতা এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটিই চেয়েছিলেন?

যেই কথা সেই কাজ!

২০ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে হাইতিকে তিন-শূন্য গোলে হারিয়ে ব্রাজিল জয়ী হয়। ব্যাস, আর কী! রাফির ঘোষণা ছিল জনসমক্ষে, আর তিনিও তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও নড়লেন না।

সেখানেই উপস্থিত অন্যান্য ফুটবল সমর্থকদের সামনে, সবার উৎসবমুখর পরিবেশে রাফি নিজের মাথা নেড়া করেন।


ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, নীল-সাদা জার্সি পরা একজন মাথা নেড়া করতে বসেছেন, এবং হলুদ-নীল জার্সিতে ব্রাজিলের সমর্থকরা পাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন এবং কিছু একটা বলতে হাসছেন। এটিই সেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার চমৎকার উদাহরণ।

এলাকায় আনন্দ এবং কৌতুহল

ফুটবলকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী এবং মজার ঘটনা এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা যেমন কৌতুহলী, তেমনি উপভোগও করছেন। সমর্থকরা বিষয়টিকে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। একজন আর্জেন্টিনা ভক্ত হয়েও ব্রাজিলের জয়ের জন্য এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ফুটবলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বলে সবাই মনে করছেন।

পটুয়াখালীর এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি অনেক আনন্দ এবং ভালোবাসার উৎসবও। এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোর মাধ্যমেই ফুটবলের উন্মাদনা আরও রঙিন হয়ে ওঠে।

আপনারা এই গল্পটি এবং ছবিটি উপভোগ করেছেন? ফুটবলের এমন মজাদার গল্প আপনার এলাকার আশেপাশে থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে শেয়ার করতে পারেন।

রাম মূর্তি আন্দোলনের নেপথ্যে অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী ও পতিত স্বৈরাচারের যোগসূত্র


গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণ স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন এখন দেশজুড়ে অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয়। তবে ধর্মের পবিত্র আবরণের আড়ালে এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং পতিত স্বৈরাচারী সরকারকে পুনর্বাসিত করার একটি সুগভীর রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট উন্মোচিত হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্রন্টলাইনে থেকে উসকানিমূলক নেতৃত্ব দিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য 

আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী।

অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে চৈতালী চক্রবর্তীর বিতর্কিত ভূমিকা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং তার রাজনৈতিক এজেন্ডার একটি বিশদ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:


১. ফ্রন্টলাইন অ্যাক্টিভিজম: ধর্মীয় আন্দোলনের আড়ালে দলীয় এজেন্ডা

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একজন কট্টর ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক আন্দোলনে তাকে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজপথে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে এবং কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।


ধর্মীয় সমাবেশ ও আন্দোলনের মঞ্চ ব্যবহার করে তিনি প্রকাশ্যেই "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু" স্লোগান দিয়ে এই আন্দোলনের আসল রাজনৈতিক চরিত্রকে জনসমক্ষে উন্মোচন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ধর্মীয় অধিকার রক্ষার লড়াই নয়, বরং পতিত আওয়ামী লীগকে রাজপথে পুনর্বাসিত করার একটি পরিকল্পিত ঢাল।


২. অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্দোলনের মাঠ থেকে চৈতালী চক্রবর্তীর বেশ কিছু অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে:

প্রধান উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে তিনি বলেন:

"ইউনুস বাটপারটা তো পালিয়ে চলে গেছে। কোনো অবস্থাতেই সমন্বয়কারীরা যেন পালাতে না পারে।"

জুলাই বিপ্লবকে অবমাননা ও হুমকি: ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবকে কটাক্ষ করে তিনি প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন:

"জুলাই জুলাই বললে এখন গণধোলাই হবে। সেই দিন চলে আসছে এবং অটোমেটিক চলে আসছে।"

দেশ ধ্বংসের কাল্পনিক অভিযোগ: বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে তিনি দাবি করেন, ডক্টর ইউনূস গত ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশটাকে ধ্বংসের স্তূপে পরিণত করেছেন।


৩. শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার 'মায়াকান্না' ও ওপার বাংলার যোগসূত্র

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি আন্দোলনের নামে মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ সুগম করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য পুজো দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন:

"শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ আসবে। জনগণ দুই-তিন কোটিরও বেশি মানুষ এই বাংলাদেশে আসবে, এয়ারপোর্টে আপনারা মিলিয়ে নিন। শেখ হাসিনার জন্য আমি প্রতিনিয়ত পুজো দিই। কারণ শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ কেউ চালাতে পারবে না, একমাত্র উনার কাছেই এই বাংলাদেশ নিরাপদ।"

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের আভাস:

এর আগে অন্য এক বিতর্কিত মন্তব্যে চৈতালী চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনবেন। ভারতের উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের বাংলাদেশ দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকির সাথে চৈতালী চক্রবর্তীর এই বক্তব্যগুলোর একটি গভীর যোগসূত্র ক্ষতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

৪. জুলাই শহীদদের নিয়ে চরম দ্বিমুখী নীতি ও মায়াকান্না

সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মূল্যায়ন নিয়ে। জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচারী সরকারের গুলিতে ৯ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্র-জনতা শহীদ হলেও, তাদের বিচার কিংবা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চৈতালী চক্রবর্তী বা তার সমমনা সংগঠনগুলোকে কখনো রাজপথে কোনো জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।

অথচ একটি মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে, সনাতনীদের জন্য **"আলাদা ভূখণ্ড বা প্রদেশ"**-এর মতো রাষ্ট্রদ্রোহী দাবি তুলে ঢাকাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি "অল জঙ্গিবাদ হিন্দু উপর আক্রমণ করতা হে" বলে যে আন্তর্জাতিক মহলে মায়াকান্না কাঁদছেন, তা মূলত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি আন্তর্জাতিক অপপ্রচারের অংশ।

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর এই মারমুখী অবস্থান ও বক্তব্য প্রমাণ করে যে, গাইবান্ধার এই আন্দোলনটি কোনো বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় ঘটনা নয়। ধর্মের পবিত্র ও সংবেদনশীল আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে পুনর্বাসিত করার সুগভীর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, চৈতালী চক্রবর্তী তাদেরই একজন অন্যতম প্রধান রূপকার। দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই রাজনৈতিক কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন

 ও আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।


দিল্লির আধিপত্যবাদ রুখতে ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

 


বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ আর কোনো ধরনের দাসত্ব বা নতজানু নীতি বরদাশ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ এখন এক ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সাম্প্রতিক এক জনাকীর্ণ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছে এবং এই দেশে কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন আর সম্ভব নয়।

১. দিল্লির আধিপত্যবাদ ও সীমান্ত আগ্রাসনের হুঁশিয়ারি

বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভারতের সীমান্ত নীতি এবং অনুপ্রবেশের নামে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন:

রাতের আঁধারে পুশ-ইন - হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে অনুপ্রবেশকারী সাজিয়ে রাত দুইটার সময় বিভিন্ন লোকেশনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

 সীমান্ত হত্যা বন্ধের আলটিমেটাম: সীমান্ত হত্যার নামে যা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভারতের বিজেপি সরকারের সদস্য ও সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের মনোভাব থেকে দিল্লিকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: দিল্লির শাসকদের মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও বাংলার শাসকরা দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে নেয়নি এবং তাদের পরাজিত করার ইতিহাস এ দেশের রয়েছে।


২. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তনের আহ্বান

ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তবে ভারতকে তার বর্তমান বৈরী আচরণ ও ফরেন পলিসি (পররাষ্ট্র নীতি) পরিবর্তন করতে হবে।


"আমাদেরকে বাধ্য করবেন না দ্বিপাক্ষিক প্রতিবেশীসুলভ সেই সম্পর্ক থেকে একটা শত্রুতাপূর্ণ (Hostile) রিলেশনশিপে আসতে। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এর পুরো দায়ভার ভারতবর্ষ এবং দিল্লির সরকারকেই নিতে হবে।"


৩. সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি

বক্তব্যে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থল ও বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত হেনস্থার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা, শিক্ষা বা ট্রানজিটের জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা দশকের পর দশক ধরে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টাকে যেভাবে বিমানবন্দরে হয়রানি ও ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এই ধারাবাহিক অপমানেরই অংশ। একজন পতাকাবাহী ব্যক্তিত্বের সাথে এমন আচরণ করায় এবার বিষয়টি জনসমক্ষে এসেছে বলে তিনি জানান।


৪. বাংলাদেশ সরকারের প্রতি শক্ত অবস্থানের তাগিদ

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/চলতি সরকারের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘চোখে চোখ রেখে’ কূটনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন নেই। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যতদিন সাহসী ভূমিকা রাখবে, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পাশে থাকবে।


প্রতিবেদকের মন্তব্য:

ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। লাল-সবুজের পতাকাকে পাহারা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং কোনো ধরনের "দালাল বা দাস ফ্যাসিবাদ" যেন দেশে ফিরতে না পারে, সেই আহ্বান জানি

য়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।