নির্বাচনী প্রচারণার এই উত্তপ্ত মৌসুমে একটু হাসাহাসি না করলে কি চলে? বিশেষ করে যখন বড় দলগুলো ইশতেহারের যুদ্ধে একে অপরকে টেক্কা দিতে গিয়ে নতুন নতুন ‘কীর্তি’ গড়ে ফেলছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটু বাঁকা চোখের পরিদর্শন মাত্র!
রাজনীতিতে একটা কথা আছে—"কথা কম, কাজ বেশি।" ইদানীং বিএনপি মনে হয় এই মন্ত্রটি একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছে। জামায়াত তাদের ইশতেহারে যা যা করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, বিএনপি নাকি নির্বাচনের আগেই সেগুলো প্র্যাকটিক্যালি করে দেখাচ্ছে! চলুন দেখি, ইশতেহারের সাথে বিএনপির এই ‘অঘোষিত’ প্রতিযোগিতার কিছু নমুনা:
১. দেশি সমরাস্ত্র শিল্পে বিপ্লব!
জামায়াত তাদের প্রতিরক্ষা ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তারা দেশে সমরাস্ত্র কারখানা করবে। কিন্তু বিএনপি কি আর অতদিন বসে থাকার পাত্র? তারা ইশতেহারের ধার না ধেরেই স্থানীয় ইটভাটায় ‘মিনি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ চালু করে দিয়েছে। সম্প্রতি এক নেতার ইটভাটায় অ’স্ত্রের কারখানার হদিস পাওয়া যাওয়ায় বোঝা গেল, তারা দেশকে স্বনির্ভর করতে কতটা মরিয়া! একেই বলে সত্যিকারের উদ্যোক্তা মানসিকতা—যেখানে মাটি দিয়ে ইটও হবে, আবার লোহা দিয়ে হাতিয়ারও!
২. বয়স কোনো বাধাই নয়: সবার জন্য ‘সামরিক কোর্স’
জামায়াত শুধু ১৮-২২ বছর বয়সীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে চেয়েছে। কিন্তু বিএনপির ভিশন আরও বড়! তারা বয়স নিয়ে কোনো ভেদাভেদ করছে না। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে যেভাবে একে-২২ বা পিস্তল পাওয়া যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের ‘ফিল্ড ট্রেনিং’ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। তারা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, অ’স্ত্র চালানো শিখতে কোনো সার্টিফিকেটের দরকার নেই, শুধু সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
৩. নারী ক্ষমতায়নের আসল রূপ
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কতশত বুলি আমরা শুনি। কিন্তু বিএনপি দেখাল আসল পাওয়ার কাকে বলে! সাধারণত মানুষের ধারণা অ’স্ত্র মানেই পুরুষের একচেটিয়া অধিকার। কিন্তু ইলোরা আপার মতো নেত্রীদের হাতে যখন অটোমেটিক রাইফেল পাওয়া যায়, তখন বুঝতে হবে বিএনপি নারীদের আক্ষরিক অর্থেই ‘পাওয়ারফুল’ করে তুলেছে। তারা কেবল রান্নাঘরে নয়, রণক্ষেত্রেও সমান পারদর্শী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
শেষ কথা
দেশের উন্নয়নে বিএনপির এই ‘তড়িৎ’ পদক্ষেপগুলো দেখে মনে হচ্ছে, তারা আসলে নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা করার চেয়ে সরাসরি ‘অ্যাকশন’-এ বিশ্বাসী। তাদের এই বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড (বিশেষ করে খাম্বা এবং কারখানা সেক্টরে) দেখে এখন ভোটাররাই ঠিক করবেন তারা ইশতেহারের স্বপ্ন দেখবেন, নাকি এই ‘বাস্তব’ উন্নয়ন উপভোগ করবেন!
পুনশ্চ: রাজনীতিতে কে কার ট্রাম্পকার্ড আর কে কার মুখে পানি ঢালল, সেটা বড় কথা নয়; আসল বিনোদন তো মাঠের এই অদ্ভুত সব কারখানাতেই লুকিয়ে আছে!

