বিদায়ীশিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ আতাউর রহমান যখন বদলগাছীতে বদলী হয়ে আসেন, সে সময়ে বিদায়ী শিক্ষা অফিসার সানাউল হাবিবের চেয়ে আরো উন্নত ও দূর্নীতি মুক্ত ব্যবস্থাপনার আশায় অভিনন্দনের ভাষায় ভাসতে থাকেন আতাউর রহমান। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই থলে হতে বিড়াল বের হয়ে মিউ মিউ করতে শুরু করে দিলো, শুরু হলো প্রাথমিক শিক্ষক রাজনীতি, বদলী বানিজ্য। নওগাঁ জেলার শিক্ষা নগরী খ্যাত বদলগাছী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে দেখা দিলো চরম অনিয়ম। সহকারী শিক্ষা অফিসারদের অনিয়মের খবর জানালে, তারা হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে বলে আমরা নিরুপায়! স্কুল চলাকালীন সময়ে কতিপয় শিক্ষকদের নিয়োমিতই দেখা যেতে লাগলো শিক্ষা অফিসে তাদের সরব পদচারণা। বদলগাছীর অবিভাবকগন ও সাংবাদিকরা তা মেনে নিতে না পারায় শুরু হলো দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হলো আতাউর রহমানের অপসারণ। বিভিন্ন পত্রিকায় চলে এলো সে খবর।
আতাউর রহমান নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে সানাউল হাবীবের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন, কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়াতে তার দূর্নীতি পুষ্ট কালো বিড়ালটি থলেতে ভরলেন এবং চলে গেলেন।
এবার তার শূন্য স্থান পূরণ করতে এলেন বদলগাছী উপজেলা শিক্ষা অফিসারনূর-উন-নাহার রুবিনা। যেন সানাউল হাবীব, আতাউর রহমানের আপন মা'য়ের পেটের জমজ বোন। কাজে কর্মে ধর্মে অনেক মিল। বরং দূর্নীতি আর আচার আচরনে রুবিনা তার দুই ভাই হতে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তিনি রাজশাহীর গোদাগারী উপজেলা মাতিয়ে এবার বদলগাছী উপজেলা আরো জোড়ালো ভাবে মাতাবেন এমন শপথ নিয়ে এসেছেন। জেনে অথবা না জেনে যে সমস্থ শিক্ষকগন অভিনন্দনের পোষ্টে ফেসের বুক খানা মাখিয়ে নষ্ট করেছেন এবং অবলা অবিভাবক আর বিদ্বগ্ধ সাংবাদিকগণদের জ্ঞাতার্থে এই লেখা, স্থির চিত্র, সংক্ষিপ্ত ভিডিও চিত্র একসাথে প্রকাশ করছি, যা বিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত ছিল। দয়া করে বর্তমান নতুন এ শিক্ষা কর্মকর্তার থলের ভিতরে গজরাতে থাকা রাগী আর পাজি বিড়ালটিকে অনতিবিলম্বে বদলগাছীর যমুনা নদীতে থলে সহ নিক্ষেপ করার ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবী। আমাদের আলা ভোলা শিক্ষকগন ও কমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন রুবিনা ম্যাডামের বিড়াল সংগীত মিউ মিউ ধ্বনি শুনতে না পায়। ধর্য্য ধরিয়া দেখিয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করুন।
২৪ মে ২০১৮ dainikshiksha.com প্রকাশিত খবরটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও দিলাম ।
আশা করছি সচেতন শিক্ষক সমাজ এবং অবিভাবকগন নতুন এই শিক্ষা কর্মকর্তা নুর-উন-নাহার রুবিনা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন। " আগের হাল যেদিক যায়, পিছের হাল ও সেদিক যায় " এই উক্তিটি গরু সমাজের জন্য, মানব সমাজের জন্য নয়। বাংলাদেশ ডিজিটাল হওয়াতে এবং বর্তমানে স্যাটালাইট যুগে অবস্থান করায় আমরা আগেই থলের ভিতরে থাকা দূর্নীতির কালো থাবাযুক্ত বিড়ালকে সনাক্ত করতে পারছি।
নওগাঁর বদলগাছীতে উপজেলার ঝাড়ঘড়িয়া
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শনিবার পাঠাদানের সময় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে
পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র মোঃ রিয়াদ হোসেন অসুস্থ্য’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে
তার পরিবার। তবে শিক্ষকেরা বেত্রাঘাতের কথা অস্বীকার করে বলেছেন,
অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে শিক্ষকেরা ওই ছাত্রকে দেখতে তাদের বাড়িতে গেলে
অভিভাবক ও গ্রামের কিছু উশৃঙ্খল লোকজনেরা উল্টো তাঁদেরই লাঞ্ছিত করেছেন।
এঘটনায় গত শনিবার রাতে ছাত্রের অভিভাবক ও শিক্ষকেরা থানায় পৃথক দুটি মামলা
দায়ের করেছে।
বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবারে
রিয়াদ হোসেন বিদ্যালয়ে যায়। কাগজের টুকরায় অশ্লীল কথা লেখে রাখে সে।
রিয়াদের সহপাঠীরা অশ্লীল কথা লেখা কাগজের টুকরাটি শিক্ষিকা মিতা রানীকে
দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষিকা মিতা রানী রিয়াদ হোসেনকে সামান্য বেত্রাঘাত
করেন। এঘটনার পর পাঠদান বিরতির সময় কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে চলে যায় রিয়াদ।
রিয়াদ হোসেন বাড়িতে এসে এক পর্যায়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। সে তার অভিভাবদের
ঘটনাটি জানায়। অভিভাবকেরা গ্রামের লোকজনদের ডেকে এনে রিয়াদের অবস্থা দেখায়।
এতে গ্রামের লোকজন শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে
শিক্ষিকা মিতা রানী দুপুরে রিয়াদ হোসেনের বাড়িতে দেখতে গেলে রিয়াদের
অভিভাবক ও গ্রামের লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। তিনি সেখান থেকে বিদ্যালয়ে ফিরে
গিয়ে ঘটনাটি প্রধান শিক্ষিকাকে জানান। পরে প্রধান শিক্ষিকাসহ অন্য
শিক্ষকেরা আবারও রিয়াদের বাড়ি গেলে একই ঘটনা ঘটে।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন বলে, আমি কোন অশ্লীল কথা কাগজে
লিখিনি অথচ মিতা রানী ম্যাডাম শ্রেণিকক্ষে আমাকে প্রচুর বেত্রাঘাত করেছে।
রিয়াদ হোসেনের মা রেহেনা খাতুন বলেন, শ্রেণীকক্ষে সামান্য দুষ্টামী করায়
শিক্ষক মিতা রানী আমার ছেলেকে প্রচুর মারধর করেছে। এতে আমার ছেলে অসুস্থ্য
পড়েছে। প্রধানশিক্ষিকা বিদ্যালয়ে প্রায় দিনই দেরীতে আসেন। তিনি ঠিকমতো
বিদ্যালয়েও থাকেন না। প্রধান শিক্ষকের বদলির আবেদন পত্রে আমার ছেলে রিয়াদ
হোসেন সই দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শিক্ষিকা মিতা রানী বলেন, কাগজে অশ্লীল কথা লেখায় রিয়াদ হোসেনকে সামান্য
শাসন করেছি। এতে রিয়াদ অসুস্থ্য’ হওয়ার কথা নয়। প্রধান শিক্ষকের ওপর
প্রতিশোধ নিতে আমার ওপর মিথ্যা দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ছেলেটা
অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে আমি তাকে দেখতে বাড়িতে গেলে উল্টো তার অভিভাবক ও
কয়েকজন গ্রামবাসী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাকে দাক্কাধাক্কি
করে।
প্রধান শিক্ষিকা তানজিদা আখতার বলেন, আমরা স্কুলে লেখাপড়া শিখাতে যাই।
অনেক ছেলে মেয়ে থাকে এবং অনেক ছেলে-মেয়ে ভুলত্র“টি করে। আমরা শিক্ষার
ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীকে শাসন করতে গেলে যদি লাঞ্চিত হতে হয় এটা দুঃখজনক।
আমরা ঐদিন বারবার সমঝোতার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে থানায়
মামলা করতে আসে। বাধ্য হয়ে শিক্ষিকা মিতা রানী ও আমাকে লাঞ্চিত করায় আমি
বাদী হয়ে এ ঘটনাকে উস্কে দেওয়ায় বিদ্যালয়ের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রয়েল ও
সেলিম নামে একজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করি। আমি এ ঘটনার সুবিচার
দাবি করছি। অপরদিকে স্কুলে রিয়াদকে বেত্রাঘাত করার অপরাধে তার বাবা এনামুল
হক বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষিকা তানজিদা আখতার ও মিতা রানীর বিরুদ্ধে বদলগাছী
থানায় মামলা দায়ের করে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। আজ সোমবার বিকাল ৫টার পরে
উপজেলার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের সামনে শিক্ষক নির্যাতন
প্রতিরোধে এক মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করে। উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ছোটখাটো
ঘটনা নিয়ে শিক্ষক লাঞ্চিত হচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন শেষে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ,
সাধারণ সম্পাদক মোখলেছার রহমান, শিক্ষক আব্দুর রশিদ, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর
রউফ, দিপালী প্রমূখ। ঐ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল
ইসলাম রয়েল এর সংগে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান ছাত্র রিয়াদকে
মারপিটের ঘটনা শুনে আমি তার বাড়িতে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি। এর
আগেও একটি ছাত্রকে মারপিট করেছিল আমি সেদিনও পরি¯ি’তি নিয়ন্ত্রন করি। অথচ
রাতে আমি শুনতে পাই থানায় আমার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পরবর্তীতে
আমরাও অভিভাবককে বাদী করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায়
মামলা করি।
বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ছানাউল হাবীব এর সংগে মোবাইল ফোনে
যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে আমি
বিষয়টি শুনেছি রিয়াদ নামে এক ছাত্র একটি সাদা পাতায় অশ্লীল কথা লিখে অন্য
এক ছাত্রীর হাতে দেয়। ঐ ছাত্রী ঐ কাগজ শিক্ষিকার হাতে দিলে রিয়াদকে শাসন
করে। এ ঘটনা নিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন, ঝাড়ঘড়িয়া সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে।
সম্প্রতি হয়ে গেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেদের জন্য সপ্তম বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক
বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মেয়েদের জন্য ষষ্ঠ বঙ্গমাতা বেগম
ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল
টুর্নামেন্ট। তারই ধারাবাহিকতা মোতাবেক নওগাঁ জেলাতেও এই টুর্নামেন্টের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘোষনা দেয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার প্রশাসক ড: মো: আমিনুর রহমান সহ সুনামধন্য গন্যমান্য সরকারি কর্মকর্তাগন , শিশু শিক্ষার্থীরা, সচেতন অবিভাবক সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এর আয়োজনে অত্যন্ত জমকালো পরিবেশে জেলা
পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ড কাপ প্রাথমিক
বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধন হয়।
একটি ঐতিহাসিক গ্রুপ ছবি, যা ইতিহাসের পাতায় থাকবে সহোযগিতা আর সহমর্মিতার প্রতীক হিসাবে।
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ড কাপ প্রাথমিক
বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এর নওগাঁ জেলা পর্যায়ে উদ্বোধন এর ফাঁকে
শ্রদ্ধেয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব বদরুজ্জেহা সাহেবের
সাথে বদলগাছী উপজেলার সুযোগ্য শিক্ষা অফিসার জনাব মো: সানাউল হাবীব ও বদলগাছী উপজেলার শিক্ষক বৃন্দ।
এতটুকুন একটি শিশু কিন্তু চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস যেন ঠিকরে বের হচ্ছে। এরাই আমাদের ভবিষ্যত। এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজক সংস্থা একাডেমিক শিক্ষার পাশা পাশি শারিরীক, মানসিক মান উন্নয়ন এবং বাস্তবতাকে খেলার ছলেই এত অল্প বয়স শিখিয়ে দিতে পারছে।
মেয়েটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু নওগাঁ জেলা পর্যায়ে বঙ্গমাতা বেগম
ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ড কাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এর
ফাইনাল খেলায় ধামুইর হাট উপজেলার পক্ষে গোলকিপার এর দায়িত্ব পালন করছেন ।
ফিকশ্চার:
এই টি শুধু মাত্র একটি ফিকশ্চার নয়, এটা একটা গ্রাফিক্যাল আর্ট , যার ইনফোগ্রাফী। ইনফোগ্রাফী চরম দামী একটা আর্ট, যার বৈচিত্রের নেই শেষ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমান ইতিহাসের পাতায় থাকুক এই সাধারন চমৎকার একটি ইনফোগ্রাফি।
আমি নিচে আরো কিছু ইনফোগ্রাফিক্যাল আর্ট এর উদাহরন উপস্থাপন করছি-- যেন বিষয়টির ব্যাপারে যাদের ধারনা নাই এখনো, তাদের কাছে ইনফোগ্রাফিক্যাল বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।
একজন সচেতন এবং ক্রিয়েটিভ শিক্ষক মাত্রই নিত্য নতুন সৃজনশীল ইনফোগ্র্যাফিক্যাল কন্টেন্ট তৈরিতে হবে পারদর্শী।
এ বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জনে অনলাইনে বা ইন্টারনেট হতে অনেক প্রশিক্ষিত হওয়ার মত শিক্ষা উপকরন বিদ্যমান।
বদলগাছীর সুযোগ্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: সানাউল হাবীব ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তলোনের সময় তোলা এই ছবিটি। এই অফিসারের এর অক্লান্ত পরিশ্রমে বদলগাছী উপজেলার প্রায় অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল লেখা পড়ার স্বাদ অনুভব করতে পারছে। তার আন্তরিক এবং স্বতন্ত্র পরিচালনা পদ্ধতির কারনেই স্কুল গুলোতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাসে শিক্ষা প্রদান করা হয়। আর এতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহন হয়েছে আনন্দদায়ক আর সেই সাথে হৃদয়গ্রাহী , এবং প্রান্তিক পর্যায়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি ও অনেক গুন বেড়ে গেছে। বদলগাছী প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শতভাগ ডিজিটালকরন যেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ,ক্রিয়েটিভ এবং ডিজিটাল বদলগাছী বিনির্মানে অগ্রনী ভূমিকার ধারক জনাব মো: সানাউল হাবিব সাহেবের দ্বারাই সম্পন্ন হয়ে যায়। সচেতন অবিভাবকগন শিক্ষকগন তার কাছে এই প্রত্যাশাই করেন।
ফুটবল টুর্নমেন্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দৃষ্টিনন্দন নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে তাঁক লাগিয়ে দেয় এই শিশু শিক্ষার্থীরা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। আর এ কার্যক্রমকে আরো তরান্বিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত যোগাযোগ তথ্যের সহজলভ্যতা । আর তাই নিন্মোক্ত তথ্য সমূহ তাদেরই প্রয়োজন যাদের রয়েছে দেশ প্রীতি, রয়েছে দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসা, এবং যারা নিজেদের সচেতন নাগরিক সত্ত্বা উপলব্ধি করতে পারেন, অনুভব করতে পারেন। তারাই দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে এই তথ্য সমূহের সঠিক প্রয়োগ করতে পারবেন।
এবার বন্ধ হচ্ছে প্রাইমারী কোচিং এবার প্রাইমারী কোচিং বন্ধে মাঠে নামছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা টাস্ক ফোর্স।এনএমটি। ভাল স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি ও সমাপনীতে ভাল ফলাফল করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যশোরাঞ্চলে গড়ে তোলা ডজন তিনেক প্রাইমারী কোচিং সেন্টার টার্গেট করে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিনে সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেয়া, এমনকি জাতীয় দিবসগুলোতেও কোচিং সেন্টার খুলে রেখে কোমলমতি শিশুদের বিনোদন সুবিধা বঞ্চিত করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খোদ কতিপয় প্রধান শিক্ষক নীতিনৈতিকতা ও বিধি ভূলুণ্ঠিত করে শ’শ’ ছাত্র নিয়ে প্রাইমারী কোচিং করে যাচ্ছেন।
চাকরির আচরণ বিধিতে টাকা নিয়ে প্রাথমিক স্তরের কোন ছাত্র পড়ানো যাবে না পরিস্কার উল্লেখ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কোন কোন শিক্ষক কাড়ি কাড়ি টাকা হাতানোয় নিজে সংশ্লিষ্ট থাকলেও অন্য কারো নাম বসিয়ে দিয়ে কোচিং চালাচ্ছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানা প্রলোভন ও নিশ্চয়তা দিয়ে চলছে কোচিং। বিষয়টি ঝড়ে কলাগাছ ভাঙার মত বলেও তথ্য এসেছে।
যশোরের কয়েকটি ভাল স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে চান্স ও সমাপনীতে ভাল ফলাফলের নিশ্চিয়তা দিয়ে শহর ও শহরতলীতে গড়ে তোলা হয়েছে ডজন তিনেক কোচিং সেন্টার। সমাপনীর পরীক্ষক পরিচয় দেয়া এবং বিশাল অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে হ্যান্ডবিল ছাড়া সরকারি প্রাইমারী বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ভোলপাল্টে অপ্রতিরোধ্য এই কোচিং বাণিজ্য করছেন। নেপথ্যে নিজের নাম ব্যবহার করে, আর প্রকাশ্যে অন্য কাউকে পরিচালক সাজিয়ে এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। অনেক কোচিংয়ে নামকাওয়াস্তে বেতন দিয়ে অনভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে কোচিং করানো হচ্ছে। কোন কোচিং থেকে একশ’ ছাত্রের মধ্যে ৫/৭ জন চান্স পেলে তারা চাউর করছে বিশাল এচিভমেন্ট। বিষয়টি ‘ঝড়ে কলা গাছ ভাঙা, আর ফকিরের কেরামতি বাড়ার’ মত।
একশ’ ছাত্রের মধ্যে এমনিতেই ৫/৭ জন চান্স পাবে এটাই স্বাভাবিক। এতে মূলতঃ কোন কোচিং সেন্টারের কৃতিত্ব নেই বলে অনেক ভাল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অভিমত। তাদের বক্তব্য, গত বছরে ভাল কয়েকটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি জরীপ ও সমাপনীর ফলাফলে দেখা গেছে কোচিং করেনি এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ভাল করেছে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি, আবার কোন কোন কোচিংয়ে ওয়ানও পড়ানো হচ্ছে। প্রপাগান্ডা ও প্রলোভনে পড়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে শিশুদের কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।
মিথ্যা, প্রতারণা আর ভুলে ভরা প্রচারপত্র নিয়েও নামে-বেনামে রয়েছে কয়েকটি সমাপনী কোচিং সেন্টার। অপ্রতিরোধ্য স্টাইলে এ কোচিংয়ের লোকজন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বাসাবাড়িতে ধর্না দেয় ছাত্রের খোঁজে। শিক্ষা নীতিমালার বালাই না মেনে ওপেন সিক্রেটভাবে চলছে তাদের অনৈতিকতা। সফলতার মিথ্যার বেসাতি সাজিয়ে প্রচারপত্র বাজারে ছেড়ে ধোকাবাজি ও ছাত্র ফুঁসলানোর কাজে পালের গোদা হিসেবে কাজ করছেন চিহ্নিত অনেকে। নির্লজ্জ অর্থ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা চিহ্নিত অনেক কোচিং সেন্টার শুক্রবারসহ জাতীয় দিবসগুলোতে খোলা রেখে শিক্ষার্থীর উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। অর্থলিপ্সু বিতর্কিত ওই সব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসেও খোলা রাখার ধৃষ্টতা দেখায়।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, যশোরে বাড়িতে বাড়িতে, আবার বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে, কেউ স্কুল কলেজের কক্ষে কোচিং খুলে বসেছেন। শিক্ষার্থীর মেধা উন্নয়নের নামে সেখানে চালানো হচ্ছে মানসিক নির্যাতন। স্বাধীনতা দিবস, বঙ্গবন্ধুর জন্ম মৃত্যু দিবস, বাংলা নববর্ষ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পহেলা বৈশাখ, এমনকি মহান বিজয় দিবসেও তারা খোলা রাখছে। যে কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চিত্ত বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে না। যশোরের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত স্কুলের বিতর্কিত শিক্ষক ও সরকারি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক কোচিং খুলে বাণিজ্য শুরু করেছেন। যাতে তারা নীতিমালা ভূলুন্ঠিত করে চলেছেন। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, মেধা উন্নয়নের নামে তাদের শিশুদের জিম্মি করা হচ্ছে। তাদের অনেকে জানান, শুধু পড়াশুনাই মানসিক বিকাশের একমাত্র পথ নয়, কোমলমতি শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য তাদের খেলধুলা, ভ্রমন, গান, নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য ও ছবি আঁকাসহ আনুসঙ্গিক নানা বিষয়সহ শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু যশোরে প্রাইমারী কোচিং বাণিজ্য এতটাই নির্লজ্জতায় পৌঁছেছে যে বিজয় দিবস, শহীদ দিবস ও জাতির জনকের জন্ম মৃত্যুর দিনও কোচিং খোলা রাখা হচ্ছে। যশোরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা কয়েক ডজন কোচিংয়ে চলছে এসব অনাচার। এর জরুরী প্রতিকার দাবি করে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হলে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিষয়টি দেখভাল করতে কমিটিও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারী।
তিনি গ্রামের কাগজকে জানান, অনেককে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অনেকেই সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনেকে প্রাইমারী কোচিং সেন্টার খুলে গলাকাটা অর্থবাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছেন বলেও তথ্য রয়েছে। নিজে আড়ালে থেকে নিকট আত্মীয়কে কোচিং সেন্টারের পরিচালক বা মালিক সাজিয়ে ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে দ্রুতই অভিযানে নামা হবে। এর জন্য নতুন করে কোন বিধি বা নীতিমালার প্রয়োজন নেই। কেননা শিক্ষক চাকরি বিধিতে ও আচরণে পরিস্কার উল্লেখ আছে, প্রাথমিক স্তরের কোন ছাত্রের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পড়ানো যাবে না। অথচ অনেক শিক্ষক করছেন তার উল্টো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘোষিত নীতিমালার আলোকে প্রাইমারী কোচিংবাজ শিক্ষকদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
Knowledge is not memorization of facts and figures, but
is constructed through research and application, and connected to
previous knowledge, personal experience, interests, talents and
passions.
ফারহানা মান্নান: আমরা যারা একুশ শতকের মানুষ, আমরা যে
বর্তমানে একটা ডিজিটাল যুগে বাস করছি এটা কি আমরা সবাই উপলব্ধি করতে
পারছি? বিংশ শতকের শিক্ষা আর একুশ শতকের শিক্ষার মধ্যে যে তথ্যগত,
প্রযুক্তিগত, শিক্ষন-শিখন পদ্ধতি, কারিকুলামসহ বিদ্যালয় ও শ্রেণীকক্ষের
শিক্ষণ পরিবেশের মধ্যে যে পার্থক্য আছে, এটা হয়ত আমরা অনেকেই জানি না। এ
শতক বিদ্যালয়ে আদর্শ শিক্ষন পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলে, যেখানে বিশ্ব
জ্ঞানভাণ্ডারের সাথে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকের মধ্যকার সেতুবন্ধ বা
সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
টিকে থাকার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের আয়ত্তে রাখতে হবে একুশ শতকীয়
সাক্ষরতা- যার মধ্যে পড়ে মাল্টিকালচারাল, মিডিয়া, তথ্য, মনোজাগতিক,
পরিবেশিক, অর্থনৈতিক ও সাইবার-সাক্ষরতা। এ-জাতীয় সাক্ষরতা বাড়াতে হলে
দুনিয়ার অন্য দেশের ছাত্রছাত্রীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া বাড়ানো দরকার।
প্রতিযোগিতা নয়, বরং সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বৈশ্বিক সংস্কৃতিতে মনোনিবেশ
করতে হবে তথ্য-হাইওয়ের সাহায্যে। এ শতকের শিক্ষকের দায়িত্বকে সংজ্ঞায়িত
করলে আমরা দেখতে পাই, শিক্ষকের কাজ হলো- to learn and help students to
turn information into knowledge, and knowledge into wisdom. অর্থাৎ এ শতক
কেবল তথ্য দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তারা জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র
তৈরি করে। একুশ শতকের কারিকুলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে, এটা
আন্তঃবৈষয়িক, প্রজেক্টভিত্তিক ও গবেষণা-চালিত। এটি জাতীয় ও বিশ্বপর্যায়ের
কমিউনিটির সঙ্গে জড়িত। এ শতকের কারিকুলাম higher order thinking skills,
multiple intelligences, technology এবং multimedia এবং একইসাথে multiple
literacy-কে অন্তর্ভুক্ত করে। কারিকুলাম textbook-driven বা fragmented নয়
বরং এটা হতে হবে বিষয়কেন্দ্রিক, প্রজেক্টনির্ভর এবং সমন্বিত। এখানে
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রজেক্টভিত্তিক কাজের মাধ্যমে নিজেরাই শিক্ষণ
দক্ষতাগুলো অর্জন করবে। এ সকল কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তকের
পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠ্যবই এবং অন্যান্য মাধ্যমগুলোও ব্যবহার
করবে। এ শতকের শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের প্রজেক্টভিত্তিক কাজের বিশ্বাস ও
নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের ওপরে শিক্ষকদের অবদানকেও ব্যাখ্যা করে। মূল্যায়নের
ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, “Real-world audiences are an
important part of the assessment process, as is self-assessment”. অর্থাৎ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্ব-মূল্যায়নের একটি গঠনমূলক অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তাই একুশ শতকের শিক্ষা বর্তমানে কেবল শ্রেণীকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকে না। এ শতকের শিক্ষার্থীরা self-directed। তারা স্বাধীনভাবে
এবং পারষ্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে।
পারষ্পরিক মিথষ্ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার অন্যতম মাধ্যম হলো শ্রেণীকক্ষে
প্রযুক্তির ব্যবহার। এখন প্রশ্ন হলো, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম
পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন কোন প্রযুক্তি আমরা শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করতে পারি?
শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার উপযোগী প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে কম্পিউটার, প্রিন্টার,
ডিজিটাল ক্যামেরা, স্ক্যানার, সাইন্স প্রোব, প্লটার, ইলেকট্রনিক
হোয়াইটবোর্ড, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশে
শ্রেণীকক্ষগুলোতে একলাফে এই সকল প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্ভব না হলেও শুরুর
দিকে আলোচনা, ছবি প্রদর্শন, পাঠের বিষয়বস্তু সহজভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে
প্রযুক্তির কার্যকারিতা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরতে
হবে। পরবর্তীতে নানা ডেমো ক্লাস বা ওয়ার্কশপের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা
উপস্থাপন করা যেতে পারে। এভাবে ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রযুক্তির
প্রয়োগ শ্রেণীকক্ষে বাড়াতে হবে। নিচের চিত্রে একটি ডিজিটাল শ্রেনীকক্ষের
ধারণা দেখান হলো।
ডিজিটাল ক্লাসরুম
প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের
জন্য প্রস্তুত করবে যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহারই প্রমিত কার্যধারা।
শ্রেণীকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার-
• শিক্ষার্থীদের যে কোনো উন্নয়নের জন্য creative, numerate, literate, well-trained এবং readily re-trainable করবে।
• শিক্ষকদের শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষণ পরিবেশ গঠনের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে।
• বিদ্যালয় পাশ শিক্ষার্থীদের এমন বুনিয়াদি দক্ষতা ও কার্যকারিতা তৈরি করতে
সহায়তা করবে যাতে তারা চাকরির বাজারে সফলতার সাথে উৎরে যায়।
কেবল এইগুলোই নয়, প্রযুক্তির ব্যবহার একুশ শতকের শিক্ষার্থীদের শিখন
চাহিদা পুরণের সাথে সাথে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে লড়াই করতে শেখাবে। আমরা
উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে টেকসই উন্নয়নের কথা বলি, সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
একুশ শতকের বিদ্যালয়, শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কারিকুলাম ও
মূল্যায়নের এ ধারণা আমাদের দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকসহ সকল
শিক্ষা ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের দেশের
মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ২০১১ সালে কম্পিউটার বিষয়টির প্রবর্তন
একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হলেও কেবল কম্পিউটারকে পাঠ্য হিসেবে সিলেবাসে
অন্তর্ভুক্ত করলেই শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহারে পটু হয়ে উঠবে না।
নিঃসন্দেহে এটি একটি দারুণ পদক্ষেপ হলেও তা কিছু প্রশ্নের উত্তর প্রদানে
ব্যর্থ। প্রথমত, কেবল বিষয়ের অন্তর্ভুক্তিকরণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে
কম্পিউটার প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ হবার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখবে কি?
দ্বিতীয়ত, পুঁথিগত বিদ্যাকে তারা ঠিক কতখানি বাস্তব জীবনের সাথে
সম্পর্কযুক্ত করতে শিখবে? তৃতীয়ত, বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ এবং ভূমিকা
সম্পর্কে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সমর্থ হবে
কি?
উপরিউক্ত প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর প্রদানের জন্য এ মুহূর্তে পর্যাপ্ত
সুযোগ বা ব্যবস্থা আমাদের দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়নি। এখনও
পর্যন্ত আমরা বুঝি বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে, দেশ এগিয়ে
যাবার প্রাণপণ চেষ্টা করছে, কম্পিউটারকে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা
হয়েছে। কিছু কিছু বিদ্যালয়ে ব্ল্যাকবোর্ডের পরিবরতে হোয়াইট বোর্ডের সংযোজন
হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে এখনও পর্যন্ত শিক্ষকদের
শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শ্রেণীকক্ষে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার শুরু হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বাইরে বেরিয়ে প্রজেক্টভিত্তিক কাজের সুযোগ-সুবিধা
পায় না। স্ব-শিখনকে আমলে এনে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে
‘ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী’ হবার সম্ভাবনাকে আমলে এনে শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে
বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত। ৪৫ মিনিটের কাছাকাছি
সময় পর্যন্ত নির্ধারিত ক্লাসের সময়ে বিষয়ভিত্তিক তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিকের
হাতেকলমের শিক্ষা ঠিক কতখানি ফলপ্রসূ হবে, এই ব্যপারে খানিকটা সন্দেহ রয়ে
যায়।
এখন যেটা কাজের কথা সেটা হল, কী করে নিজেদের আমরা এই শতকের উপযুক্ত করে
তুলতে পারি? আমাদের শিক্ষার শুরুটা হল বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে। কাজেই প্রথম
যে পদক্ষেপটি নিতে হবে সেটা হলো, শিক্ষার্থীদের শিক্ষণের জন্য একুশ শতকের
উপযোগী ডিজিটাল ক্লাসরুম নিশ্চিতকরণ। ক্যারিবিয় অঞ্চলে এক সময় শ্রেণীকক্ষের
চিত্র ছিল একটি টিপিক্যাল ক্লাসরুমের মতো। বসবার জন্য সারিবদ্ধ
টেবিল-চেয়ার, ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে চক হাতে বিষয় শিক্ষকের টানা বক্তৃতা
দিয়ে যাওয়া, হিপনোটাইজড শিক্ষার্থীদের চোখ চুম্বকের মতো শিক্ষকের প্রতিটি
শব্দের ওপরে আটকে যাওয়া, বোর্ডে লিখে যাওয়া পাখির বুলি- এমনটিই ছিল
শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ। এখন সে পরিবেশ বদলে এখন সেখানে শ্রেণীকক্ষে কম্পিউটার
টেকনোলজি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। পূর্বে তাদের শ্রেণীকক্ষে টেলিভিশন, রেডিও,
ভিসিআর, ওভারহেড প্রজেক্টার টেকনোলজির ব্যবহার ছিল। পরবর্তীতে কম্পিউটার
টেকনোলজি ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের
আবির্ভাব তাদের শিক্ষন-শিখনের মান উন্নয়ন ঘটিয়েছে। যুক্তরাজ্যে মাধ্যমিক
পর্যায়ে প্রতি ছয় জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি নয়
জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি কম্পিউটার বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে শতকরা ৯৯ ভাগ
শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। যেখানে শিক্ষকরা আইসিটির ওপরে
প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যা কিনা ১৯৯৮ থেকে ২০০২ এসে শতকরা ৬৩ ভাগ থেকে ৭৭ ভাগে
উন্নীত হয়েছে। আমরা যদি একই বিচারে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়
প্রযুক্তির প্রয়োগ এর কথা চিন্তা করি তাহলে কী দেখতে পাই? নিঃসন্দেহে আমরা
অনেক পিছিয়ে আছি। এই পিছিয়ে থাকাটা যে ঠিক কতখানি তা আমদের ধারণার বাইরে।
আমাদের হাতে হাতে মোবাইল, ঘরে ঘরে টিভি, কম্পিউটারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে।
কিন্তু সত্যিকার অর্থে এ প্রযুক্তিগুলোকে যে কেবল বিনোদনের জন্য নয়,
শিক্ষার কাজেও লাগানো সম্ভব এটা আমরা কজনই বা মানি। শ্রেণীকক্ষে মোবাইল
ব্যবহার করে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হওয়া যায়, টেলিভিশনের মাধ্যমে দূর
শিক্ষণকে জনপ্রিয় করা সম্ভব, কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যায় না এমন কী আছে?
এগুলো সব কাজের কথা, প্রয়োজনের কথা। কিন্তু এ প্রয়োজনটা শিক্ষকদের বোঝানো
দরকার আর সেটা করতে হবে হাতেকলমে। শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্যোগটা নিতে হবে
নিজেকেই। কারণ আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সরকারের পক্ষে দেশ চালানোর
ঠেলা সামলে এককভাবে শিক্ষার উন্নয়নের কথা চিন্তা করা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত
উদ্যোগকে তাই প্রাধান্য দিতে হবে। চিন্তা চেতনায় স্বকীয়তা তৈরি করতে না
পারলে কে কখন শেখাবে আর সাহায্য করবে এ আশাতেই তীর্থের কাকের মতন সময়টা
গড়িয়ে যাবে বিনা উন্নয়নে। মোদ্দা কথা হল, উন্নয়ন চাই এবং সেটা টেকসই হতে
হবে। এই উন্নয়নকে তরান্বিত করতে সাহায্য করবে শ্রেণীকক্ষে ডিজিটাল
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার। প্রকৃতপক্ষে এই ব্যবহার বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ
থেকে শুরু না করলে দেশের উন্নয়নকে সামনের দিকে ক্রমশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া
সম্ভব নয়; কারণ একটা জাতি তখনই উন্নতির দিকে এগিয়ে যায় যখন সে জাতি তাঁর
শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতকে মজবুত করে।
Let us think of education as the means of developing our
greatest abilities, because in each of us there is a private hope and
dream which, fulfilled, can be translated into benefit for everyone and
greater strength for our nation. -John F. Kennedy (1917-1963)
Thirty-fifth President of the USA
ফারহানা মান্নান: লেখক, শিল্পী, শিক্ষা-গবেষক। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাগবেষণায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।
শিক্ষার মানের সঙ্গে শিক্ষক
প্রশিক্ষণের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কারণ প্রশিক্ষণ একজন শিক্ষককে দক্ষ,
কৌশলী ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলে। আর এ জন্যই সারা বিশ্বে শিক্ষক
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। উন্নত বিশ্বে শিক্ষায় ডিপ্লোমা অথবা ডিগ্রি ছাড়া
প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোথাও শিক্ষকতা করার সুযোগ নেই।
অবশ্য অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা ভিন্ন। আজ আমি বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করব।
প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য দেশের ৫৫ টি
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পি টি আই) এক বছর মেয়াদি
সি-ইন-এড যা বর্তমানে দেড় বছর মেয়াদী ডিপ-ইন-এড কোর্স পরিচালনা করে থাকে।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও
দেশের ৫০৮ টি উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে সারা বছর বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ সহ
বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ চলমান থাকে। এছাড়া
প্রাথমিকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াও মন্ত্রনালয়, অধিদপ্তর, নেপ, বিভাগীয়
কার্যালয়, জেলা কার্যালয় ও উপজেলা কার্যালয় ও রিসোর্স সেন্টারে কর্মরত
কর্মকর্তাদের জন্যও রয়েছে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন রকম
প্রশিক্ষণ।
এই হল মোটামুটি প্রাথমিকে শিক্ষক
প্রশিক্ষণের কার্যকাল ও অবকাঠামোগত দিক। এখন দেখা যাক এসব প্রশিক্ষণ
কার্যক্রমের ফলাফল কতটুকু। সাধারণ হিসেবেই বোঝা যায় আলোচিত প্রশিক্ষণ
কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের
অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন ছাড়াও প্রশিক্ষকদের বেতনভাতা, প্রশিক্ষাণার্থী
ভাতা ও রিসোর্স পার্সনসদের সম্মানি বাবদ বছরে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে
হয়। দেশীয় ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার মাধ্যমে এ অর্থের জোগান দেয়া হয়।
কিন্তু এসব প্রশিক্ষণের আউটপুট
কতটুকু? বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই হতাশার। আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা মূলত
উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তি ও চাকরীর শর্ত পূরণের জন্য সি-ইন-এড/ ডিপ-ইন-এড
প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকি। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে কতটুকু বাস্তবায়িত
হচ্ছে তা চিন্তার বিষয়। এ ব্যাপারে মূল্যায়ন ও তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই
বললেই চলে।
যাই হোক, বাস্তবভিত্তিক
শিক্ষক-প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। আবার শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই চলবে না।
প্রশিক্ষণের জ্ঞান কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রশিক্ষণ
প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো সময়ের দাবি। দরকার
প্রশিক্ষণ কারিকুলামের সংস্কার এবং ব্যবহারিক পর্যায় বাড়ানো। প্রশিক্ষণ
ভাতা বাড়ালে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণের ব্যাপারে শিক্ষকদের
দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধুমাত্র উচ্চতর স্কেল বা ভাতা/সম্মানীর আশায়
প্রশিক্ষণ গ্রহণ করাটা রীতিমতো অনৈতিক।
পেশাগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যই
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহী হওয়া উচিত। কারণ যে কোনো পেশার উন্নয়নের
জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য
সঞ্জীবনী কোর্সের তেমন কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। ফলে প্রশিক্ষণলব্ধ
জ্ঞানের কোনো ফিডব্যাক শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। এতে প্রশিক্ষণের
উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। অপচয় হয় বিপুল অঙ্কের অর্থের।
আবার উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউ আর
সি)-র প্রশিক্ষণ গুলোতে হচ্ছে নানা রকম অনিয়ম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে সকল
শিক্ষকদের সাথে স্থানীয় শিক্ষা প্রসাশনের সম্পর্ক ভালো এবং যারা বেশি
পরিচিত (কারণে অকারণে শিক্ষা অফিসে আনাগোনা করে) তাদেরকে বার বার
প্রশিক্ষণে ডাকে। যা মোটেই কাম্য নয়। এতে করে একজন সকল বিষয়ে দক্ষতা অর্জন
করছেন (যদিও প্রয়োগ করছেন না) আবার কোন একজন কিছুই জানছেন না। এ বিষয়ে কঠোর
নীতিমালা সহ মনিটরিং জোড়দার করা একান্ত জরুরী।
উল্লিখিত সকল বিষয়ে মন্ত্রণালয়,
অধিদপ্তর, নেপ, শিক্ষা প্রশাসক ও নীতিনির্ধারকদের প্রাথমিক শিক্ষক
প্রশিক্ষণের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবা দরকার। যত দ্রুত বিরাজমান শিক্ষক
প্রশিক্ষণকে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ করা যাবে দেশের জন্য ততোই মঙ্গল হবে।
পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জ্ঞান যেন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কাজে
লাগান সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এ ব্যাপারে
আমাদের শিক্ষকদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করা সহ আরো আন্তরিক হতে হবে।