বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ আর কোনো ধরনের দাসত্ব বা নতজানু নীতি বরদাশ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ এখন এক ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সাম্প্রতিক এক জনাকীর্ণ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছে এবং এই দেশে কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন আর সম্ভব নয়।
১. দিল্লির আধিপত্যবাদ ও সীমান্ত আগ্রাসনের হুঁশিয়ারি
বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভারতের সীমান্ত নীতি এবং অনুপ্রবেশের নামে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন:
রাতের আঁধারে পুশ-ইন - হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে অনুপ্রবেশকারী সাজিয়ে রাত দুইটার সময় বিভিন্ন লোকেশনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
সীমান্ত হত্যা বন্ধের আলটিমেটাম: সীমান্ত হত্যার নামে যা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভারতের বিজেপি সরকারের সদস্য ও সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের মনোভাব থেকে দিল্লিকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: দিল্লির শাসকদের মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও বাংলার শাসকরা দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে নেয়নি এবং তাদের পরাজিত করার ইতিহাস এ দেশের রয়েছে।
২. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তনের আহ্বান
ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তবে ভারতকে তার বর্তমান বৈরী আচরণ ও ফরেন পলিসি (পররাষ্ট্র নীতি) পরিবর্তন করতে হবে।
"আমাদেরকে বাধ্য করবেন না দ্বিপাক্ষিক প্রতিবেশীসুলভ সেই সম্পর্ক থেকে একটা শত্রুতাপূর্ণ (Hostile) রিলেশনশিপে আসতে। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এর পুরো দায়ভার ভারতবর্ষ এবং দিল্লির সরকারকেই নিতে হবে।"
৩. সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি
বক্তব্যে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থল ও বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত হেনস্থার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা, শিক্ষা বা ট্রানজিটের জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা দশকের পর দশক ধরে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টাকে যেভাবে বিমানবন্দরে হয়রানি ও ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এই ধারাবাহিক অপমানেরই অংশ। একজন পতাকাবাহী ব্যক্তিত্বের সাথে এমন আচরণ করায় এবার বিষয়টি জনসমক্ষে এসেছে বলে তিনি জানান।
৪. বাংলাদেশ সরকারের প্রতি শক্ত অবস্থানের তাগিদ
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/চলতি সরকারের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘চোখে চোখ রেখে’ কূটনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন নেই। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যতদিন সাহসী ভূমিকা রাখবে, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পাশে থাকবে।
প্রতিবেদকের মন্তব্য:
ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। লাল-সবুজের পতাকাকে পাহারা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং কোনো ধরনের "দালাল বা দাস ফ্যাসিবাদ" যেন দেশে ফিরতে না পারে, সেই আহ্বান জানি
য়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

0 comments: