বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বারবার নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোতে দলটির সময়োচিত পদক্ষেপ এবং আমিরের প্রত্যক্ষ ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২২ সালের সিলেট বন্যা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ফেনী-কুমিল্লা এবং বর্তমান ২০২৬ সালের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় জামায়াতের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
২০২২: সিলেটের মহাসংকটে মানবিকতার অনন্য নজির
২০২২ সালে সিলেটের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় যখন চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তখন তৎকালীন সরকারের উদাসীনতা ও লোকদেখানো কার্যক্রমের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল জামায়াত।
তহবিল গঠন: তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন সরকারি তহবিল থেকে মাত্র ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে সমালোচিত হয়েছিল, সেখানে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে **৫ কোটি টাকার বিশাল তহবিল** গঠন করে।
সরেজমিনে আমির: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যখন হেলিকপ্টারে করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন, ঠিক তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে বন্যার্তদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। নগদ অর্থ ও পুনর্বাসন সামগ্রী নিয়ে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।
২০২৪: ফেনী-কুমিল্লা-নোয়াখালীর মহাপ্লাবনে দ্রুত সাড়া
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী) হঠাৎ সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় দেশের সব রাজনৈতিক দলের আগে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী।
তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বুকসমান পানি ভেঙে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করেন।
পুনর্বাসন কার্যক্রম: বন্যা-পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা এবং গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয় ডা. শফিকুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।
২০২৬: চট্টগ্রামের বর্তমান বন্যায় ত্রাতা রূপে 'ষাটোর্ধ্ব যুবক'
বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের ধীরগতির মাঝেই বরাবরের মতো সবার আগে রাজপথে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা গেছে জামায়াত আমিরকে।
"ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি ক্লান্তিহীনভাবে সরাসরি সশরীরে চলে গেছেন ক্ষতিগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত জনগণের দুয়ারে। মানুষকে নিজে হাতে সহায়তা করছেন অর্থ, খাবার ও বস্ত্র দিয়ে। তার এই নিরলস পরিশ্রম দেখে অনেকে তাকে ‘ষাটোর্ধ্ব যুবক’ বলে আখ্যায়িত করছেন।"
রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল বা চড়াই-উতরাই যাই থাকুক না কেন, "সবার আগে বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষ"—এই নীতিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডা. শফিকুর রহমানের দূরদর্শী ও দরদী নেতৃত্ব দলটিকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। দেশের যেকোনো দুর্যোগে জামায়াত ও তার আমিরের এই সক্রিয় ভূমিকা তাদের দেশের অন্যতম প্রধান মানবিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

0 comments: