নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে পুরো সুনামগঞ্জ জুড়ে। জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আরিফুর রহমান শান্ত তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে নিজের মৃত্যুর জন্য সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পা রানী মোদককে দায়ী করে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন।
এই আকস্মিক ঘটনা ও এর পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আজকের এই ব্লগ পোস্ট।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
গত শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক আমন্ত্রিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান।
অনুষ্ঠান শেষ করে ইউএনওর বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই এসিল্যান্ডের অফিশিয়াল ফেসবুক আইডি (এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ) থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে তিনি সরাসরি লেখেন—
"আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবেন।"
পাশাপাশি তিনি ক্যাডার সার্ভিস থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দেন। এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ইউএনওর বাসায় যা ঘটেছিল
ইউএনও শিল্পী রানী মোদক গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার পরই এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তাঁর ভাষ্যমতে:
তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন।
ইউএনওর তিন বছরের ছোট মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
রাস্তায় যাকে সামনে পেয়েছেন, সবার সাথেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়। তাঁরা দ্রুত ইউএনওর বাসভবনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে কর্মরত এই এসিল্যান্ড বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক ও মানসিকভাবে কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন।
স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতেই তাঁকে প্রথমে সিলেট এবং পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
যা বললেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক
নিজের নাম জড়িয়ে এসিল্যান্ডের এমন পোস্টে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক। তিনি বলেন—
"তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন, সেটাই আমার প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।"
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মানসিক বিপর্যয় এবং চাঞ্চল্যকর ফেসবুক পোস্ট প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সহকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্মপরিবেশের চাপ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন:
রুহুল আমিন, ইত্তেফাক নিউজ।
