রাজনীতির আড়ালে টর্চার সেল? নওগাঁ-৪ আসনের এমপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ


রাজনীতি যখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সম্প্রতি নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে নিজ বাসভবনে 'টর্চার সেল' বানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মান্দা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 

এই ভয়ার্ত পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাজার এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী:

 # এমপির এপিএস মোহাম্মদ আলী এবং গোল্ডেনসহ ১০-১২ জনের একটি দল তাকে মারধর করতে করতে এমপির বাসভবনে নিয়ে যায়।

 # বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে (যাকে টর্চার সেল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে) তাকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

 # ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাকে 'প্রাণে মেরে ফেলার' হুমকি দিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

দুর্নীতির পাহাড় ও ক্ষমতার অপব্যবহার

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। এমপির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো একনজরে:



বিচারপ্রার্থনা ও দলীয় শৃঙ্খলা:

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই পরিস্থিতিকে 'চরম লজ্জাজনক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে (তারেক রহমান) এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, নিজ দলের কর্মীদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন দলীয় আদর্শের পরিপন্থি।


 "এমপি টিপুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা হোক। মান্দা উপজেলায় সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দোষীদের শাস্তি এখন সময়ের দাবি।" — সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ


একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যখন নিজ কর্মীদের নির্যাতনের জন্য 'টর্চার সেল' ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তখন তা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক সংকটেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করতে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।

আপনার কি মনে হয়? স্থানীয় রাজনীতিতে এমন অরাজকতা বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

 কমেন্টে আপনার মতামত জানান।


কেন বিএনপি'র আভ্যন্তরীণ ঐক্য নেই? সংস্কার জরুরি।

 

বর্তমান বিএনপি নেতা একজন পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ছিলেন যার নাম ফজলুর রহমান একজন আইনজীবী।
কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত বিএনপি'র নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে এ সকল আওয়ামী লীগ নেতা যখন বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে তখন বিএনপির ভিতর ন্যূনতম ঐক্যের যে সম্ভাবনা তার দেখা যায় না। তেমনি একজনকে নিয়ে আজকের এই তথ্য সমৃদ্ধ লেখা।
ফজলুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সম্মিলিত বিরোধী দলের হয়ে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।
তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এর পর চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হয়েছেন তিনি। এই ফজলুর রহমানের মত নেতাদের কারণে মাটি ও মানুষের দল বিএনপি এর ভিতরে সর্বদাই আভ্যন্তরীণ কোন্দল লেগেই আছে, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত। যার দরুন নিজ দলের ভিতরেই একাধিক উপাদল তৈরি করে, একে অপরকে সুযোগ পেলেই আঘাত করে হত্যা করে দলের ভাবমূর্তি প্রতিনিয়তই নষ্ট করে চলেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আওয়ামী মদনপুষ্ট এ সকল নেতাদের অচিরেই দল থেকে বহিষ্কার করে দলের সর্বাঙ্গীণ সংস্কার জরুরী।