সুপার কম্পিউটার, উইলো চিপ আর আমাদের ভবিষ্যৎ



প্রযুক্তির দুনিয়া খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যেটা এক সময় সায়েন্স ফিকশন মনে হতো, আজ সেটা বাস্তবের কাছাকাছি। সুপার কম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আর নতুন প্রজন্মের চিপ আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে আমূল বদলে দিতে চলেছে।


চলুন, সহজভাবে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করি।


এক সেপটিলিয়ন বছর মানে কতটা সময়?


পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার যে পরিমাণ হিসাব করতে পারে, সেই একই পরিমাণ হিসাব করতে তার লাগে প্রায় এক সেপটিলিয়ন বছর।


সেপটিলিয়ন মানে কী?

একটির পরে ২৪টি শূন্য।

ধাপে ধাপে বুঝলে—


৩ শূন্য = হাজার


৬ শূন্য = মিলিয়ন


৯ শূন্য = বিলিয়ন


১২ শূন্য = ট্রিলিয়ন



এভাবে বাড়তে বাড়তে ২৪ শূন্যে গিয়ে পৌঁছায় সেপটিলিয়ন। ভাবলেই মাথা ঘুরে যায়, তাই না?


উইলো চিপ: ৫ মিনিটে হাজার বছরের কাজ


এখন আসি সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশে।

যে কাজ করতে একটি সুপার কম্পিউটারের এক সেপটিলিয়ন বছর লাগে, সেই একই কাজ উইলো চিপ মাত্র ৫ মিনিটে করে ফেলতে পারে।


এটা কোনো গল্প নয়। ইন্টারনেটে খুঁজলেই এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর মনে রাখতে হবে, উইলো চিপ এখনো প্রযুক্তির শুরু মাত্র। সামনে আরও শক্তিশালী কিছু আসবে।


মেডিকেল সায়েন্সে বিপ্লব


এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় উপকার হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে।

যেসব গবেষণায় আগে হাজার হাজার বছর লাগতে পারত, ভবিষ্যতে সেগুলো হয়তো ১–২ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।


ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে


অনেক রোগ পুরোপুরি নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে


ওষুধ হবে ব্যক্তিভিত্তিক



মানে, আপনার রোগের চিকিৎসা হবে আপনার জিনোম অনুযায়ী। আরেকজনের জন্য যে ওষুধ কাজ করবে, সেটা আপনার জন্য একই রকম নাও হতে পারে। একে বলা হয় কাস্টমাইজড মেডিসিন।


শিক্ষাক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে?


শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে।

এআর (Augmented Reality) এবং ভিআর (Virtual Reality) ভিত্তিক পড়াশোনা চালু হবে।


ভাবুন তো—


ইতিহাস পড়ছেন, কিন্তু বই দেখে নয়; বরং ৩ডি দৃশ্য দেখে


বিজ্ঞান পড়ছেন, ল্যাব ছাড়াই ভার্চুয়াল এক্সপেরিমেন্ট করছেন


প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে আলাদা করে কাস্টমাইজড শিক্ষক



ভবিষ্যতে এমনকি হিউম্যানয়েড রোবট শিক্ষকও দেখা যেতে পারে।


তাহলে মানুষ কি মেশিনের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে?


এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

খুব শিগগিরই এমন মেশিন তৈরি হতে পারে, যা একসাথে পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হবে।


তাহলে মানুষ কোথায় এগিয়ে থাকবে?


অনেকের মতে, মানুষ এগিয়ে থাকবে ইমোশন বা অনুভূতির ক্ষেত্রে। অনুভূতি বোঝা, সহানুভূতি, ভালোবাসা, মানবিকতা—এই জায়গাগুলো এখনো মেশিন পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি।


যত শক্তিশালীই হোক, মানুষের অনুভূতির গভীরতায় পৌঁছানো মেশিনের জন্য সহজ হবে না।


শেষ কথা


প্রযুক্তি আমাদের জন্য হুমকি নয়, বরং এক বিশাল সুযোগ।

যদি আমরা জ্ঞান, নৈতিকতা আর মানবিকতা একসাথে ধরে রাখতে পারি, তাহলে এই ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য ভয়ংকর নয়—বরং আশার।


ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে আজকের শি

ক্ষার্থীদের হাতেই। তাই এখনই শেখা, বোঝা আর ভাবতে শেখাটাই সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি।

0 comments: