নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে বসার আসন নিয়ে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করীম নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে স্থানীয় একটি মিনি স্টেডিয়ামে প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠান চলাকালে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতাকর্মীরা আগে পৌঁছে সামনের আসনগুলোতে বসেন। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা এসে সামনের আসন ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হস্তক্ষেপ করে আসন ভাগ করে দিলেও আসন ত্যাগের সময় চেয়ার ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই দলের পক্ষ থেকে একে অপরকে দায়ী করা হয়েছে।
চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ
প্রাথমিক উত্তেজনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামের বাইরের প্রধান সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীর উপস্থিতিতে কর্মীরা সড়কে মহড়া দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কয়েক দফা চেষ্টা করলেও বিএনপি কর্মীদের সরাতে ব্যর্থ হয়। ফলে জামায়াত নেতাকর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠানস্থলে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন।
নিরাপত্তার শঙ্কা ও হামলা
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে জামায়াত নেতৃত্ব। প্রশাসন কেবল সংসদ সদস্য প্রার্থীকে সরিয়ে নিতে চাইলেও তিনি কর্মীদের ফেলে যেতে রাজি হননি। পরবর্তীকালে প্রশাসনের পাহারায় জামায়াত নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সমঝোতার কথা চলাকালেই ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। এতে রেজাউল করীম গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চললেও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারল না, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া প্রকাশ্য দিবালোকে ক্যামেরার সামনে ঘটা এই হ/ত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে নিহতের পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'পরিকল্পিত হ/ত্যাকাণ্ড' হিসেবে দাবি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা ঘটনার দায় অস্বীকার করে পরিস্থিতির জন্য তাৎক্ষণিক উত্তেজনাকে দায়ী করেছেন।

0 comments: