জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা ও প্রশাসনের নগ্ন পক্ষপাতিত্ব:
লক্ষ্মীপুর আজ আবারও সাক্ষী হলো এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের। যে রাজপথে একসময় স্বৈরাচার পতনের স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল, আজ সেই রাজপথেই গণতন্ত্রের দাবিদারদের লেলিয়ে দেওয়া পেটোয়া বাহিনীর তাণ্ডব চলছে। ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হাবিবুর রহমান ফাহিমের ওপর ছাত্রদল নেতা আকবর মুন্নার কাপুরুষোচিত হামলা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখন কেবলই কিতাবি শব্দ।
প্রতিবাদ যখন অপরাধ, আর হামলা যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি!
ফাহিমের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন চক মসজিদের সামনে জড়ো হয়েছিল, তখন তারা মুখোমুখি হয়েছে এক ভয়াবহ বৈষম্যের। একদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ, অন্যদিকে একই এলাকায় ছাত্রদলের ‘জুলাই ফাইটার্স’ পরিচয়ে পাল্টা কর্মসূচির নাম করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অবাধ সুযোগ!
জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা কি কেবল শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য? ছাত্রদলের মিছিলের সময় প্রশাসনের এই ‘অন্ধত্ব’ কি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে না?
যোদ্ধার গায়ে হাত: অপমানজনক আটকের বিচার চাই
সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে যখন আন্দোলনের অন্যতম মূখ্য সংগঠক এবং গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম মুরাদকে প্রশাসন জনসমক্ষে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেছে। একজন বিপ্লবীর সাথে এমন পৈশাচিক আচরণ গোটা ছাত্রসমাজকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের এই নগ্ন ভূমিকা প্রমাণ করে, তারা ন্যায়বিচারের রক্ষক নয়, বরং সন্ত্রাসী রাজনীতির সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।
আমাদের হুঁশিয়ারি
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই:
১. ফাহিমের ওপর হামলাকারী আকবর মুন্নাসহ দোষীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।
২. সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ আটক সকল শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
৩. পুলিশ ও প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।
এই দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। হামলা আর মামলা দিয়ে বিপ্লবের চেতনাকে দাবিয়ে রাখা যায় না। লক্ষ্মীপুরের এই মাটিতে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের ঠাঁই হবে না।
বিচার না হওয়া পর্যন্ত, রাজপথ আমাদেরই!

0 comments: