রাজনীতির মাঠে কৌশল বনাম পেশিশক্তি

 


                  কার পরিকল্পনা সফল হলো?

রাজনীতি কেবল ভোটের বাক্স কিংবা বিজয়ের হিসাব-নিকাশ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল, জনমত তৈরি এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার এক সুক্ষ্ম খেলা। সাম্প্রতিক একটি উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে এই প্রশ্নটিই জোরালো হয়ে উঠেছে—নির্বাচনে জয় পেলেও বিএনপি কি কৌশলগত লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ল?

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কৌশল এবং বিএনপির রাজনৈতিক পদক্ষেপ এক ভিন্ন বাস্তবতাই সামনে নিয়ে এসেছে। চলুন, বিষয়টি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।

১. জামায়াতের ভিন্ন কৌশল: পেশিশক্তির বদলে মিডিয়া ফোকাস

শুরুতেই একটি প্রশ্ন আসতে পারে—জামায়াত কি জানত না যে বিএনপি তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে নানা অনিয়ম বা কারচুপির আশ্রয় নিতে পারে?

সম্ভবত জামায়াত এটি আগে থেকেই অনুধাবন করতে পেরেছিল। কিন্তু তারা পাল্টা পেশিশশক্তি প্রয়োগের পুরনো পথে হাঁটেননি। তাদের কৌশল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আধুনিক। আজকের নির্বাচনে জামায়াতের মূল ফোকাস ছিল মিডিয়া এবং জনসচেতনতা।

  • তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা: ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি এবং প্রতিটি অনিয়মের চিত্র শুরু থেকেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরায় তারা জোর দেয়।
  • বাস্তব চিত্র তুলে ধরা: কেবল মুখে অভিযোগ না করে, অনিয়মের দৃশ্যগুলো জনসম্মুক্ষে নিয়ে আসা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারে।

২. অভিযোগের বাস্তব প্রমাণ ও জনগণের কাছে বার্তা

জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত যেসব অভিযোগ তুলেছিল, এবারের উপনির্বাচনে বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে কি সেই অভিযোগগুলোরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটল? এই প্রশ্নটি এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

রাজনীতিতে শুধু জয়লাভই শেষ কথা নয়; একটি নির্বাচন কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হলো, তা জনগণের সামনে দৃশ্যমান হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াত চেয়েছে পেশিশক্তি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে অনিয়মের জীবন্ত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে। কারণ, কথার চেয়ে বাস্তব চিত্র সাধারণ মানুষের মনে অনেক বেশি গভীর রেখাপাত করে।

৩. ক্ষমতার প্রভাব ও পুরোনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি

ক্ষমতার প্রভাব বা সরকারি দলের প্রভাব যে কোনো নির্বাচনে কতটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে, আজকের ঘটনা যেন সেই পুরোনো বিতর্ককেই আবার নতুন করে উসকে দিয়েছে।

রাজনীতিতে সব জয়-পরাজয় শুধু ভোটের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। কখনো কখনো কৌশল, জনমত এবং গণমাধ্যমে উঠে আসা বাস্তব চিত্রও বড় কোনো দলের দীর্ঘmeyadi রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।

বলুন তো জয় কার, পরাজয় কার?

দিন শেষে তাই বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—বিএনপি কি কেবল একটি উপনির্বাচনে জয়-পরাজয়ের হিসাবই কষল? নাকি এই নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনমতের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে তারা বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা খেল?

ভোটের বাক্সের ফলাফল সাময়িক হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া জনমত ও রাজনৈতিক বার্তা সুদূরপ্রসারী। সময়ের পরিক্রমায়ই হয়তো এর প্রকৃত উত্তর মিলে যাবে।

আপনার কী মনে হয়? বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পেশিশক্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে কি কৌশলগত ও গণমাধ্যমমুখী রাজনীতির সময় এসে গেছে? কমেন্টে আপনার মতামত জানিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হোন।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন


 অনিয়ম, ভুয়া ভোটার ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ ভোটের পরিবেশ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে একের পর এক অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র উঠে আসতে শুরু করেছে।

১. ব্যালট পেপারে আগেই সিল ও 'আগে ভোট হয়ে যাওয়ার' অভিযোগ

নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও ভোটার কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পেরেছেন যে তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।

একটি কেন্দ্রের ভুক্তভোগী ভোটারের কথোপকথন থেকে চিত্রটি স্পষ্ট হয়:

 প্রশ্ন: কেন ঘুরে আসলেন?

 উত্তর: আমার নাইমের ভোট তৈরি হয়ে গেছে।

 প্রশ্ন: মানে ভোট হয়ে গেছে?

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জেরার মুখে ফাঁকা রুমে ভোটার ছাড়াই ব্যালটে আগে সিল দেওয়ার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে।

২. নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশ্ন

শুধু আগাম সিল মারাই নয়, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টদের পরিচয়পত্র নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

  অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া অফিশিয়াল পরিচয়পত্রে কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।

  বহু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের গলায় বা কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক কার্ড ছিল না। কেউ কেউ পকেটের ওপর সাদা কাগজে নাম-পরিচয় লিখে সেফটি পিন দিয়ে আটকে রেখেছেন।

  পরিচয়পত্র না থাকার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা কমিশন থেকে কার্ড পাননি।

পরিচয়পত্রহীন এসব ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে 'প্রক্সি এজেন্ট' হওয়ারও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

৩. প্রকাশ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন ও স্লোগান

ভোটের দিনে প্রকাশ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে:

  সকালে একটি কেন্দ্রের সামনে একদল নারীকে ধানের শীষের পোস্টার হাতে নিয়ে "সিল মারো ভাই সিল মারো, ধানের শীষে সিল মারো" স্লোগান দিতে দেখা যায়।

  জগন্নাথপুর আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানায় মাইকে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

  আরেকটি কেন্দ্রে পুলিশের সামনেই ধানের শীষের সমর্থকদের প্রচারপত্র ছিঁড়ে উড়িয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়।

৪. ভুয়া ভোটার আটক

সারাদিন চলা এসব অনিয়ম ও উত্তেজনার মধ্যেই দুপুরের দিকে একটি কেন্দ্র থেকে তিনজন সন্দেহভাজন ভুয়া ভোটারকে আটক করার খবর পাওয়া যায়।

প্রার্থীদের অবস্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সাল আমিন এবং জামায়াতের প্রার্থী দলোয়ার হোসেন অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দী। সকালে ভোট দিয়ে তারা সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেও, পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়মের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ ও সমকালীন সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুরুল হক মিলনায়তনে ‘নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ ও সমকালীন সমাজ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারীর অধিকার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মমতাজ মাননানের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সম্পাদক ডা. তাহেরা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানত নারী সুধীবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়।

সভায় সমকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাতের বিভিন্ন দিক, আধ্যাত্মিকতা এবং নববী আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ৫ জন বিশিষ্ট আলোচক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জম ‘পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নবীজী ﷺ-এর আদর্শ’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে পারিবারিক ভাঙন ও অশান্তি দূর করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনই একমাত্র পথপ্রদর্শক। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা ও কোমল আচরণ ধারণ করাই সুখী পরিবারের মূল ভিত্তি।

‘নবীজি ﷺ-এর সালাত ও আল্লাহর প্রতি ব্যাকুলতা’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আফিফা মুশতারী। তিনি বলেন, সালাত কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা ছিল আল্লাহর সাথে নবীজির প্রেমের কথোপকথন ও পরম প্রশান্তির মাধ্যম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতার চর্চা করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তরুণ প্রজন্মের নৈতিক সংকট ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. শারমীন ইসলাম। ‘সমকালীন চ্যালেঞ্জ ও তরুণদের পথপ্রদর্শক রাসূল ﷺ’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণ বয়স থেকেই রাসূলুল্লাহ ﷺ দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও সৎ ছিলেন। তাঁর সততা, নৈতিকতা এবং বন্ধু নির্বাচনে সচেতনতা আজকের তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

‘ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসূলুল্লাহ ﷺ’ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে সংগঠনের সহ-সম্পাদক ড. সাজেদা হোমায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে কন্যাসন্তানের জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছেন এবং সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছেন। সমাজে নারীর প্রকৃত সম্মান ফেরাতে সীরাতের চর্চা বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ। ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সিরাতের শিক্ষা’ বিষয়ে তিনি বলেন, মহানবী ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণে বহুজাতি ও বহুধর্মের সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব। রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্য ভুলে সমাজে পরম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার ১৩৫ নম্বর ও সূরা আল-মায়িদার ৮ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন।

সভার সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুন নাহার বলেন, "আমরা এমন এক যান্ত্রিক যুগে বাস করছি যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্য বাড়লেও ভেতরের আধ্যাত্মিকতা শুকিয়ে যাচ্ছে। মা আয়েশা (রা.) ও মা ফাতিমা (রা.)-দের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের মা-বোনদের ঘরের ভেতর নবীজির ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।" পাশাপাশি, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শান্তির বাণীগুলো গণমাধ্যমের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মমতাজ মাননান

সভাপতি

নারীর অধিকার ফাউন্ডেশন

তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬

জামালগঞ্জ এসিল্যান্ডের রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট ও উত্তাল সুনামগঞ্জ


 

নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে পুরো সুনামগঞ্জ জুড়ে। জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. আরিফুর রহমান শান্ত তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে নিজের মৃত্যুর জন্য সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পা রানী মোদককে দায়ী করে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন।

এই আকস্মিক ঘটনা ও এর পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আজকের এই ব্লগ পোস্ট।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

গত শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক আমন্ত্রিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষ করে ইউএনওর বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই এসিল্যান্ডের অফিশিয়াল ফেসবুক আইডি (এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ) থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে তিনি সরাসরি লেখেন—

"আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবেন।"

পাশাপাশি তিনি ক্যাডার সার্ভিস থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দেন। এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ইউএনওর বাসায় যা ঘটেছিল

ইউএনও শিল্পী রানী মোদক গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর বাসা থেকে বের হওয়ার পরই এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তাঁর ভাষ্যমতে:

  তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন।

  ইউএনওর তিন বছরের ছোট মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

  রাস্তায় যাকে সামনে পেয়েছেন, সবার সাথেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়। তাঁরা দ্রুত ইউএনওর বাসভবনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে কর্মরত এই এসিল্যান্ড বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক ও মানসিকভাবে কিছু জটিলতায় ভুগছিলেন।

স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাতেই তাঁকে প্রথমে সিলেট এবং পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

যা বললেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক

নিজের নাম জড়িয়ে এসিল্যান্ডের এমন পোস্টে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক। তিনি বলেন—

 "তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন, সেটাই আমার প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।"

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মানসিক বিপর্যয় এবং চাঞ্চল্যকর ফেসবুক পোস্ট প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সহকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্মপরিবেশের চাপ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসে গেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন: 

রুহুল আমিন, ইত্তেফাক নিউজ।

বীর মুক্তিযোদ্ধার কারাবাস, রিমান্ড মঞ্জুর ও বিমানবন্দরের লাগেজ সিন্ডিকেট

 


নীরব কেন তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’?

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, যাত্রীদের হয়রানি এবং চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কারাবাস এবং পরবর্তীতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার ঘটনা বর্তমান সময়ের এক জ্বলন্ত ও জাতীয় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সাংসদকে হয়রানির প্রতিবাদ করেন।

যাত্রীদের লাগেজ কাটা, জিনিসপত্র চুরি এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় উল্টো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় পরদিন তাঁকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কেবল কারাবাসই নয়, বরং আদালতের মাধ্যমে তাঁর কয়েকদিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়েছে।

প্রধান বিবেচ্য বিষয়সমূহ

  • যৌক্তিক প্রতিবাদ বনাম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন: একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিমানবন্দরের এই লাগেজ সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও দেশপ্রেমের পরিচায়ক।

  • কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী আচরণ: সাধারণ যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা ও চুরির প্রতিকার না করে, উল্টো প্রতিবাদকারী মুক্তিযোদ্ধার ওপর মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ড মঞ্জুরের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতিরই প্রমাণ দেয়।

  • নির্বাক তথাকথিত ‘পক্ষের শক্তি’: সমাজের কোনো কোণে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিক্ষিপ্ত ক্ষোভ প্রকাশ পেলে যে সব দল বা গোষ্ঠী ‘মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা’ বলে গলা ফাটিয়ে ফেলেন, আজ একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন বিমানবন্দরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারাবন্দী ও রিমান্ডের শিকার, তখন তাদের সেই সরব উপস্থিতি কোথায়?

সাধারণ মানুষের তো অধিকারের কথা বাদই দিলাম—আজ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যখন দুর্নীতির প্রতিবাদ করে কারাগারে বন্দি হন এবং রিমান্ডের মুখোমুখি হন, তখন তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি’র এই নীরবতা জনগণের মনে গভীর সংশয়ের জন্ম দেয়।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান কি তবে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের হাতিয়ারমাত্র? নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই আজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে?

আপনার কী মনে হয়? বিমানবন্দরের এই লাগেজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই অবমূল্যায়ন, কারাবাস ও রিমান্ডের ঘটনায় আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?



সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ


সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি শুভেচ্ছাপত্র সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের হাতে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মি. মিশেল লি-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিঙ্গাপুর সরকার ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এবং বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।

এসময় জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার সিঙ্গাপুরের সরকার ও জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজের এলাকার বাজেট ও উন্নয়নকাজের তথ্য কীভাবে জানবেন?


 সাধারণ নাগরিকের সহজ নির্দেশিকা

জনগণই ক্ষমতার উৎস, আর এলাকার উন্নয়নকাজের তথ্য পাওয়া আপনার নাগরিক অধিকার। সরকারি বাজেট থেকে আপনার এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল কিংবা লাইব্রেরির জন্য কত টাকা এল এবং তা ঠিকঠাক খরচ হলো কি না—তা ঘরে বসেই জেনে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সহজ কয়েকটি ধাপে কীভাবে আপনার এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে খোঁজখবর রাখবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. অনলাইনেই দেখুন কোথায় কত টাকা বাজেট এলো

সরকারি দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি না করে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমেই অনেক তথ্য পাওয়া সম্ভব:

উপজেলা ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন: আপনার উপজেলার নিজস্ব অফিসিয়াল পোর্টালে (যেমন: badalgachhi.naogaon.gov.bd বা আপনার নিজ উপজেলার ওয়েবসাইটে) যান। ওয়েবসাইটের "উন্নয়ন পরিকল্পনা" বা "বার্ষিক প্রতিবেদন" ট্যাবে ক্লিক করলে দেখতে পাবেন টিআর, কাবিখা ও উপজেলা পরিষদের বার্ষিক বাজেটের তালিকা।

রাস্তা ও ব্রিজের খবর জানতে (LGED): আপনার এলাকার নতুন রাস্তা বা ব্রিজের টেন্ডার হয়েছে কি না বা কত টাকা বাজেট অনুমোদিত হয়েছে, তা জানতে এলজিইডির ওয়েবসাইট (lged.gov.bd) অথবা সরকারি ই-টেন্ডার পোর্টাল (e-procure.gov.bd)-এ গিয়ে নিজ উপজেলার নাম লিখে সার্চ করুন।

২. কোনো দপ্তরে না গিয়ে ঘরে বসেই আবেদন করুন (myGov)

তথ্য না পেলে কোনো অফিসে ছোটোছুটি করার দরকার নেই। বাংলাদেশ সরকারের ‘আমার সরকার’ (mygov.bd) পোর্টালে ঢুকে তথ্য অধিকার আইনে অনলাইনেই আবেদন করা যায়।

পদ্ধতি: ওয়েবসাইটে সাইন-ইন করে 'তথ্য অধিকার' সেবায় গিয়ে আপনি যে তথ্য জানতে চান (যেমন: নির্দিষ্ট একটি রাস্তা সংস্কারের বাজেট ও ঠিকাদারের নাম) তা লিখে জমা দিন।

সময়সীমা: আইনি নিয়ম অনুযায়ী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা আপনাকে সেই তথ্যের বিবরণ দিতে বাধ্য।

৩. উন্নয়নকাজের মান যাচাইয়ে আপনার করণীয়

আপনার এলাকার স্কুল, হাসপাতাল, ড্রেন বা ক্লাবের উন্নয়নকাজ যখন চলবে, তখন সচেতন নাগরিক হিসেবে ৩টি বিষয় খেয়াল রাখুন:

সিটিজেন চার্টার বা তথ্যবোর্ড দেখুন: যেকোনো সরকারি কাজ শুরু হলে সেখানে কাজের বিবরণ, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং ঠিকাদারের নামসহ একটি সাইনবোর্ড থাকার কথা। সেটি ভালোভাবে পড়ে নিন।

 সামাজিক নিরীক্ষা বা অডিট: আপনার এলাকার যুবসমাজ ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করুন। কাজে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে ছবি বা ভিডিও তুলে রাখুন।

 সমস্যা জানাতে মোবাইল অ্যাপ ও হেল্পলাইন: সরকারি বিভিন্ন সেবা ড্যাশবোর্ড বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর সরকারি ইমেইল ও নাম্বারে সরাসরি প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ বা মেসেজ পাঠান।

মনে রাখবেন

জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। এলাকাকে সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হলে জনগণকে সচেতন হতে হবে। আজই মোবাইল হাতে নিয়ে আপনার উপজেলার ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখুন আপনার এলাকার কোন কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে!

আপনার এলাকার কোনো নির্দিষ্ট কাজের তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যা হলে স্থানীয় ডিজিটাল সেন্টারে গিয়েও সহযোগিতা নিতে পারেন।

জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধীদলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার


প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট | স্থান: সৈয়দপুর, বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের নীতি, উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা ব্যক্ত করেছেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

১. গণভোটের রায় ও সরকারের দ্বিমুখী অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা বলেন, "২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল মেনে সরকার গঠন করা হলেও গণভোটের রায় মানতে সরকার চরম আপত্তি জানাচ্ছে।"

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার রেকর্ড সকল গণমাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে।

"মানুষের সঙ্গে কী রকম দ্বিমুখীতা হলে একই বিষয়ে একেক রকম অবস্থান নেওয়া সম্ভব? পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো গণভোটের রায় বাতিল হয়নি। গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা মানে জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।"

২. উন্নয়ন বরাদ্দে চরম বৈষম্য ও লুটপাটের অভিযোগ

সরকার বিরোধী দলের এলাকাগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ রেখে জনগণের হক হরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুযোগ-সুবিধায় বৈষম্য: সরকারের দৃষ্টিতে জামায়াতকে ভোট দেওয়া জনগণ যেন এদেশের নাগরিকই নন।

প্রকল্প অনুমোদনে স্বজনপ্রীতি: সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় একের পর এক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, অথচ জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের এলাকায় চরম বৈষম্য করা হচ্ছে।

  অর্থ লোপাট: সাধারণ বরাদ্দে কাটছাঁট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে এবং বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

৩. প্রশাসনিক দলীয়করণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল

তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে প্রতিযোগিতা চলছে, যার ফলে অন্তর্দলীয় কোন্দল প্রকট রূপ নিয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড দুর্নীতি: ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও চরম স্বজনপ্রীতি দেখা যাচ্ছে।

দলীয় নিয়োগ: সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ১১টি পদে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

  শিক্ষকদের নির্বাচনে বাধা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

৪. সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গের উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হবেন। তবে সংবিধানে অনুচ্ছেদগত বাধ্যবাধকতার কারণে সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারছেন না। এই কারণেই সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন হলেও সরকার তা বাস্তবায়নে পিছপা হচ্ছে।

সংবাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কার্যপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হাকিম, নীলফামারী-১ আসনের এমপি ও নীলফামারী জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আনতাজুল ইসলাম এবং নীলফামারী-৪ আসনের এমপি মাওলানা আব্দুল মুত্তাকিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ডকেও’ হার মানালো থার্ড টার্মিনাল! সিএজির রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

 


বিশেষ প্রতিবেদন: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পকে ঘিরে সামনে এসেছে ভয়াবহ এক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র। অনিয়মের পরিধি ও ধরণ এতটাই অস্বাভাবিক যে, সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে থাকা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘বালিশ কাণ্ডকেও’ এটি পেছনে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে কোটি কোটি টাকার হরিলুটের এই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল চিত্র: যা উঠে এসেছে সিএজি রিপোর্টে

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে কোনো তোয়াক্কা না করেই ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়তি অর্থ।

রিপোর্টে উঠে আসা প্রধান অনিয়মগুলোর একটি খতিয়ান:

অনুমোদনহীন কেনাকাটা ও ব্যয়: যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের অন্তত ৬৩০টি আইটেম পরিবর্তন করে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকা।

ফিতা কাটার উৎসব: কেবল আংশিক উদ্বোধনের ‘ফিতা কাটা’ ও আনুষ্ঠানিকতার জন্যই খরচ দেখানো হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা!

পুকুর খননের নতুন রূপ: প্রকল্পে একটি পুকুর নির্মাণের নাম করে ঠিকাদারকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। অথচ ‘গুগল আর্থ’-এর পুরনো স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়—সেখানে আগে থেকেই একটি জলাশয় বিদ্যমান ছিল। সেটিকে সামান্য সংস্কার করেই নতুন পুকুর হিসেবে মোটা অঙ্কের বিল তোলা হয়েছে।

মাটি ফেলার নামে অর্থ আত্মসাৎ: প্রকল্প এলাকা থেকে মাটি কেটে ৬ কিলোমিটার দূরে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ফেলা হয়েছে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে। কিন্তু বিলে সম্পূর্ণ ৬ কিলোমিটার দূরত্বের পরিবহন খরচ দেখিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

গাছ কেনা ও পরিচর্যার পুকুরচুরি: সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যেসব গাছের বাজারমূল্য সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, নথিপত্রে সেগুলোর একেকটির দাম ধরা হয়েছে ৫,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত! শুধু এই গাছের পরিচর্যা করতেই ব্যয় ধরা হয়েছে ৪.৮ কোটি টাকা।

 সরঞ্জাম ও জ্বালানিতে চোখ কপালে তোলা খরচ:

   ডিজেল পাম্প সরবরাহ: ১২ কোটি টাকা

   ইউপিএস সরবরাহ: ৪৮ কোটি টাকারও বেশি

   জ্বালানি তেল: ৪১ কোটি টাকা

 অগ্রিম ও বিশেষ সুবিধা: চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে আগাম কাজের খরচ এবং কাজের গতি বাড়ানোর অজুহাতে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ২১৭ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

ব্যয় সংশোধনের আড়ালে বিপুল অর্থ বৃদ্ধি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, তখন প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩,৫০০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দফায় দফায় নকশা ও শর্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকায়"

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে করা এসব অসংগতিপূর্ণ ও বিপুল ব্যয়কে এখন পোস্ট ফ্যাক্টো’ (পরবর্তী অনুমোদন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

প্রকল্পের অনিয়ম ঢাকা দিতে ‘পোস্ট ফ্যাক্টো’ অনুমোদনের এই চেষ্টাকে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের নীতি-বিশেষজ্ঞ ও এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা।

"চিহ্নিত অনিয়ম ও দুর্নীতিগুলোকে যদি পরবর্তী অনুমোদনের (পোস্ট ফ্যাক্টো) মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে তা হবে আরেকটি বড় অপরাধ বা দুর্নীতির শামিল। এতে করে ভবিষ্যতে সবাই অনিয়ম করে পরে ‘সেটেলমেন্ট কমিটি’র মাধ্যমে পার পাওয়ার সুযোগ খুঁজবে।"

ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

"কোনো অবস্থাতেই এই অনিয়মকে পোস্ট ফ্যাক্টো অনুমোদন দেওয়া যাবে না। বরং পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।"

কাজী ওয়াহিদুল আলম, এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ।

সরকারের অবস্থান

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের এই ভয়াবহ দুর্নীতি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে এবং এর সাথে জড়িত প্রদেয় কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির খোলসে যেভাবে গণমানুষের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করা হয়েছে, শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের মাধ্যমে এই মেগা-লুটপাটের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় নাকি অন্য সব অনিয়মের মতো এটিও কাগজের কলমেই চাপা পড়ে যায়!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্লবী থানা শাখার বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্লবী থানা শাখার উদ্যোগে কওমি ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানার্থে এক বিশেষ আলোচনা সভা, দোয়া ও নৈশভোজ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল "২৪-এর জুলাইয়ে কওমি আলিমদের ভূমিকা"। অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে কওমি আলিম ও শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা, অবদান এবং দেশ গঠনে ওলামায়ে কেরামের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ও কার্যক্রম:

আলোচনা ও বিশেষ দোয়া: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে কওমি আলিমদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি দেশের সমৃদ্ধি, শান্তি ও শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে খাস দোয়া পরিচালনা করা হয়।

 সম্মাননা ও উপঢৌকন বিতরণ: ঢাকা মহানগরী উত্তরের সম্মানিত আমীর জনাব সেলিম উদ্দীন ভাইয়ের পক্ষ থেকে শুভাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে ৩০টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিকট ফ্যান বিতরণ করা হয়।

 নৈশভোজের মেহমানদারি: জনাব সেলিম উদ্দীন ভাইয়ের আন্তরিক আয়োজনে এলাকার ৫০টি মাদরাসার সম্মানিত মুহতামিম (পরিচালক) সাহেবদের সম্মানার্থে এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আহ্বান

অনুষ্ঠানে আগত ওলামায়ে কেরাম ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দ্বীন প্রচার, সামাজিক উন্নয়ন এবং দেশের যেকোনো প্রয়োজনে আলেম সমাজ বরাবরের মতোই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবেন। ইসলাম ও দেশের স্বার্থে ওলামা-মাশায়েখদের এই ঐক্য ও সৌহার্দ্য আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে।

উপস্থিত কওমি আলিম ও মুহতামিমগণ এই সুন্দর আয়োজন এবং আলেমদের সম্মানিত করার উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানান।

 সংকটে বরাবরই অগ্রভাগে ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বারবার নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোতে দলটির সময়োচিত পদক্ষেপ এবং আমিরের প্রত্যক্ষ ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২২ সালের সিলেট বন্যা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ফেনী-কুমিল্লা এবং বর্তমান ২০২৬ সালের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় জামায়াতের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

২০২২: সিলেটের মহাসংকটে মানবিকতার অনন্য নজির

২০২২ সালে সিলেটের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় যখন চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তখন তৎকালীন সরকারের উদাসীনতা ও লোকদেখানো কার্যক্রমের বিপরীতে দাঁড়িয়েছিল জামায়াত।

তহবিল গঠন: তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন সরকারি তহবিল থেকে মাত্র ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে সমালোচিত হয়েছিল, সেখানে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে **৫ কোটি টাকার বিশাল তহবিল** গঠন করে।

সরেজমিনে আমির: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যখন হেলিকপ্টারে করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন, ঠিক তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে বন্যার্তদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। নগদ অর্থ ও পুনর্বাসন সামগ্রী নিয়ে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

২০২৪: ফেনী-কুমিল্লা-নোয়াখালীর মহাপ্লাবনে দ্রুত সাড়া

২০২৪ সালের আগস্টে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী) হঠাৎ সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় দেশের সব রাজনৈতিক দলের আগে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র: জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বুকসমান পানি ভেঙে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রম: বন্যা-পরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের পুনর্বাসনে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা এবং গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয় ডা. শফিকুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।

২০২৬: চট্টগ্রামের বর্তমান বন্যায় ত্রাতা রূপে 'ষাটোর্ধ্ব যুবক'

বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের ধীরগতির মাঝেই বরাবরের মতো সবার আগে রাজপথে এবং বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা গেছে জামায়াত আমিরকে।

"ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটি ক্লান্তিহীনভাবে সরাসরি সশরীরে চলে গেছেন ক্ষতিগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত জনগণের দুয়ারে। মানুষকে নিজে হাতে সহায়তা করছেন অর্থ, খাবার ও বস্ত্র দিয়ে। তার এই নিরলস পরিশ্রম দেখে অনেকে তাকে ‘ষাটোর্ধ্ব যুবক’ বলে আখ্যায়িত করছেন।"

রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল বা চড়াই-উতরাই যাই থাকুক না কেন, "সবার আগে বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষ"—এই নীতিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডা. শফিকুর রহমানের দূরদর্শী ও দরদী নেতৃত্ব দলটিকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে। দেশের যেকোনো দুর্যোগে জামায়াত ও তার আমিরের এই সক্রিয় ভূমিকা তাদের দেশের অন্যতম প্রধান মানবিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিস্তা প্রকল্প ও চীনা যুদ্ধবিমান আলোচনা: ঢাকার দিকে কেন ‘নিবিড় নজর’ দিল্লির?

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে যেকোনো ছোটখাটো নড়াচড়াও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়। আর তা যদি হয় বাংলাদেশ, চীন এবং ভারতের মতো তিন প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ, তবে তো কথাই নেই।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

দিল্লির উদ্বেগের কেন্দ্রে যা আছে

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান যে, প্রতিবেশী অঞ্চলের যেকোনো কৌশলগত বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ওপর ভারত সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এই মুহূর্তে দিল্লির নজরদারির প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো:

 তিস্তা মহাপরিকল্পনা: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ভারত বেশ তৎপর।

চীনা জঙ্গি বিমান ক্রয়ের আলোচনা: প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা জঙ্গি বিমান কেনার যে আলোচনা চলছে, তা ভারতের কৌশলগত ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে।

ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডোর: চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার যে আলোচনা চলছে, তার সম্ভাব্য আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব কেমন হতে পারে, সেদিকেও চোখ রাখছে দিল্লি।

"ভারত তার প্রতিবেশী অঞ্চলের যেকোনো উন্নয়নমূলক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নয়াদিল্লি সব সময় যথাযথ পদক্ষেপও নিয়ে থাকে।"

রণধীর জয়সোয়াল, মুখপাত্র, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কেন এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ?

ভারতের জন্য বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রই নয়, বরং অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। তিস্তা নদীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্তীয় নদী প্রকল্পে চীনের মতো একটি পরাশক্তির সম্পৃক্ততা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঢাকা-বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নীতিনির্ধারকদের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পাশাপাশি, মিয়ানমারকে যুক্ত করে যে অর্থনৈতিক করিডোরের কথা বলা হচ্ছে, তা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌম সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো বাধা সৃষ্টি না করলেও, নিজের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত যে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রতিক্রিয়া তারই একটি মৃদু কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত। ঢাকা এবং বেইজিংয়ের এই কূটনৈতিক ও সামরিক বোঝাপড়া আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার কি মনে হয়? বাংলাদেশের এই উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের এই নিবিড় নজরদারি কি স্বাভাবিক কৌশলগত অবস্থান, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো ভূরাজনৈতিক চাপ রয়েছে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান!

ফুটবলের 'পাগলামি' এবং এক প্রতিশ্রুতির গল্প: পটুয়াখালীর রাফির মাথা নেড়া!
সুপ্রিয় ফুটবলপ্রেমী বন্ধুরা,

ফুটবল মানেই উত্তেজনা, ফুটবল মানেই আনন্দ, আর ফুটবল মানেই কখনো কখনো অবিশ্বাস্য সব কাণ্ড! আমরা জানি বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা আমাদের কতটা আচ্ছন্ন করে রাখে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে সমর্থকরা কত কী-ই না করে থাকেন। তবে পটুয়াখালীর এক কট্টর আর্জেন্টিনা ভক্তের যে কাণ্ড, তা নিঃসন্দেহে এক আলাদা কৌতুহল এবং আনন্দের জন্ম দিয়েছে।

হ্যাঁ, আমরা বলছি কাজী রাফির কথা, পটুয়াখালী শহরের কাজীপাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের আর্জেন্টিনা সমর্থক।

একটি ফেসবুক লাইভ এবং এক অভিনব ঘোষণা!

গেল ১৯ জুন, নিজের ফেসবুক লাইভে এসে এক ব্যতিক্রমী ঘোষণা দিয়ে বসেন রাফি। তাঁর এই ঘোষণা পুরো এলাকায় আলোড়ন তোলে। তিনি বলেন— যদি হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল জয়ী হয়, তাহলে তিনি নিজের মাথা নেড়া করবেন।

এ যেন শুধু সমর্থন নয়, প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার এক চূড়ান্ত প্রমাণ! রাফি হয়তো ভেবেছিলেন, ব্রাজিলের জন্য এটা খুব সহজ হবে না। কিন্তু কে জানত ফুটবল বিধাতা এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটিই চেয়েছিলেন?

যেই কথা সেই কাজ!

২০ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে হাইতিকে তিন-শূন্য গোলে হারিয়ে ব্রাজিল জয়ী হয়। ব্যাস, আর কী! রাফির ঘোষণা ছিল জনসমক্ষে, আর তিনিও তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও নড়লেন না।

সেখানেই উপস্থিত অন্যান্য ফুটবল সমর্থকদের সামনে, সবার উৎসবমুখর পরিবেশে রাফি নিজের মাথা নেড়া করেন।


ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, নীল-সাদা জার্সি পরা একজন মাথা নেড়া করতে বসেছেন, এবং হলুদ-নীল জার্সিতে ব্রাজিলের সমর্থকরা পাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন এবং কিছু একটা বলতে হাসছেন। এটিই সেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার চমৎকার উদাহরণ।

এলাকায় আনন্দ এবং কৌতুহল

ফুটবলকে ঘিরে এমন ব্যতিক্রমী এবং মজার ঘটনা এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা যেমন কৌতুহলী, তেমনি উপভোগও করছেন। সমর্থকরা বিষয়টিকে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। একজন আর্জেন্টিনা ভক্ত হয়েও ব্রাজিলের জয়ের জন্য এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ফুটবলের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ বলে সবাই মনে করছেন।

পটুয়াখালীর এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি অনেক আনন্দ এবং ভালোবাসার উৎসবও। এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোর মাধ্যমেই ফুটবলের উন্মাদনা আরও রঙিন হয়ে ওঠে।

আপনারা এই গল্পটি এবং ছবিটি উপভোগ করেছেন? ফুটবলের এমন মজাদার গল্প আপনার এলাকার আশেপাশে থাকলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে শেয়ার করতে পারেন।

রাম মূর্তি আন্দোলনের নেপথ্যে অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী ও পতিত স্বৈরাচারের যোগসূত্র


গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম মূর্তি নির্মাণ স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন এখন দেশজুড়ে অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয়। তবে ধর্মের পবিত্র আবরণের আড়ালে এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং পতিত স্বৈরাচারী সরকারকে পুনর্বাসিত করার একটি সুগভীর রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট উন্মোচিত হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্রন্টলাইনে থেকে উসকানিমূলক নেতৃত্ব দিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য 

আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী।

অনুসন্ধানী তথ্যের ভিত্তিতে চৈতালী চক্রবর্তীর বিতর্কিত ভূমিকা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং তার রাজনৈতিক এজেন্ডার একটি বিশদ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:


১. ফ্রন্টলাইন অ্যাক্টিভিজম: ধর্মীয় আন্দোলনের আড়ালে দলীয় এজেন্ডা

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একজন কট্টর ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক আন্দোলনে তাকে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রাজপথে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে এবং কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।


ধর্মীয় সমাবেশ ও আন্দোলনের মঞ্চ ব্যবহার করে তিনি প্রকাশ্যেই "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু" স্লোগান দিয়ে এই আন্দোলনের আসল রাজনৈতিক চরিত্রকে জনসমক্ষে উন্মোচন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ধর্মীয় অধিকার রক্ষার লড়াই নয়, বরং পতিত আওয়ামী লীগকে রাজপথে পুনর্বাসিত করার একটি পরিকল্পিত ঢাল।


২. অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং আন্দোলনের মাঠ থেকে চৈতালী চক্রবর্তীর বেশ কিছু অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে:

প্রধান উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ: বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে তিনি বলেন:

"ইউনুস বাটপারটা তো পালিয়ে চলে গেছে। কোনো অবস্থাতেই সমন্বয়কারীরা যেন পালাতে না পারে।"

জুলাই বিপ্লবকে অবমাননা ও হুমকি: ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবকে কটাক্ষ করে তিনি প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন:

"জুলাই জুলাই বললে এখন গণধোলাই হবে। সেই দিন চলে আসছে এবং অটোমেটিক চলে আসছে।"

দেশ ধ্বংসের কাল্পনিক অভিযোগ: বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে তিনি দাবি করেন, ডক্টর ইউনূস গত ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশটাকে ধ্বংসের স্তূপে পরিণত করেছেন।


৩. শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার 'মায়াকান্না' ও ওপার বাংলার যোগসূত্র

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি আন্দোলনের নামে মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ সুগম করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য পুজো দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন:

"শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ আসবে। জনগণ দুই-তিন কোটিরও বেশি মানুষ এই বাংলাদেশে আসবে, এয়ারপোর্টে আপনারা মিলিয়ে নিন। শেখ হাসিনার জন্য আমি প্রতিনিয়ত পুজো দিই। কারণ শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ কেউ চালাতে পারবে না, একমাত্র উনার কাছেই এই বাংলাদেশ নিরাপদ।"

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের আভাস:

এর আগে অন্য এক বিতর্কিত মন্তব্যে চৈতালী চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন যে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনবেন। ভারতের উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের বাংলাদেশ দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকির সাথে চৈতালী চক্রবর্তীর এই বক্তব্যগুলোর একটি গভীর যোগসূত্র ক্ষতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

৪. জুলাই শহীদদের নিয়ে চরম দ্বিমুখী নীতি ও মায়াকান্না

সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মূল্যায়ন নিয়ে। জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচারী সরকারের গুলিতে ৯ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্র-জনতা শহীদ হলেও, তাদের বিচার কিংবা তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চৈতালী চক্রবর্তী বা তার সমমনা সংগঠনগুলোকে কখনো রাজপথে কোনো জোরালো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।

অথচ একটি মূর্তি নির্মাণ স্থগিতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে, সনাতনীদের জন্য **"আলাদা ভূখণ্ড বা প্রদেশ"**-এর মতো রাষ্ট্রদ্রোহী দাবি তুলে ঢাকাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি "অল জঙ্গিবাদ হিন্দু উপর আক্রমণ করতা হে" বলে যে আন্তর্জাতিক মহলে মায়াকান্না কাঁদছেন, তা মূলত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি আন্তর্জাতিক অপপ্রচারের অংশ।

অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর এই মারমুখী অবস্থান ও বক্তব্য প্রমাণ করে যে, গাইবান্ধার এই আন্দোলনটি কোনো বিচ্ছিন্ন ধর্মীয় ঘটনা নয়। ধর্মের পবিত্র ও সংবেদনশীল আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে পুনর্বাসিত করার সুগভীর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, চৈতালী চক্রবর্তী তাদেরই একজন অন্যতম প্রধান রূপকার। দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই রাজনৈতিক কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন

 ও আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।


দিল্লির আধিপত্যবাদ রুখতে ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

 


বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ আর কোনো ধরনের দাসত্ব বা নতজানু নীতি বরদাশ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ এখন এক ‘নতুন সীমান্ত প্রহরী জাতি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সাম্প্রতিক এক জনাকীর্ণ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্র নীতি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছে এবং এই দেশে কোনো ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন আর সম্ভব নয়।

১. দিল্লির আধিপত্যবাদ ও সীমান্ত আগ্রাসনের হুঁশিয়ারি

বক্তব্যের শুরুতেই ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভারতের সীমান্ত নীতি এবং অনুপ্রবেশের নামে হয়রানির তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন:

রাতের আঁধারে পুশ-ইন - হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে অনুপ্রবেশকারী সাজিয়ে রাত দুইটার সময় বিভিন্ন লোকেশনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

 সীমান্ত হত্যা বন্ধের আলটিমেটাম: সীমান্ত হত্যার নামে যা শুরু হয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভারতের বিজেপি সরকারের সদস্য ও সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের মনোভাব থেকে দিল্লিকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: দিল্লির শাসকদের মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও বাংলার শাসকরা দিল্লির আধিপত্যবাদ মেনে নেয়নি এবং তাদের পরাজিত করার ইতিহাস এ দেশের রয়েছে।


২. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তনের আহ্বান

ব্যারিস্টার ফুয়াদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তবে ভারতকে তার বর্তমান বৈরী আচরণ ও ফরেন পলিসি (পররাষ্ট্র নীতি) পরিবর্তন করতে হবে।


"আমাদেরকে বাধ্য করবেন না দ্বিপাক্ষিক প্রতিবেশীসুলভ সেই সম্পর্ক থেকে একটা শত্রুতাপূর্ণ (Hostile) রিলেশনশিপে আসতে। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে এর পুরো দায়ভার ভারতবর্ষ এবং দিল্লির সরকারকেই নিতে হবে।"


৩. সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি

বক্তব্যে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থল ও বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত হেনস্থার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা, শিক্ষা বা ট্রানজিটের জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা দশকের পর দশক ধরে অপমানজনক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন উপদেষ্টাকে যেভাবে বিমানবন্দরে হয়রানি ও ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এই ধারাবাহিক অপমানেরই অংশ। একজন পতাকাবাহী ব্যক্তিত্বের সাথে এমন আচরণ করায় এবার বিষয়টি জনসমক্ষে এসেছে বলে তিনি জানান।


৪. বাংলাদেশ সরকারের প্রতি শক্ত অবস্থানের তাগিদ

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন/চলতি সরকারের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘চোখে চোখ রেখে’ কূটনীতি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন আর কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন নেই। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যতদিন সাহসী ভূমিকা রাখবে, দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পাশে থাকবে।


প্রতিবেদকের মন্তব্য:

ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্য বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। লাল-সবুজের পতাকাকে পাহারা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং কোনো ধরনের "দালাল বা দাস ফ্যাসিবাদ" যেন দেশে ফিরতে না পারে, সেই আহ্বান জানি

য়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।


ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

 




নিজস্ব প্রতিবেদক ।

ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান।

সৌজন্যমূলক এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই জাতির সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করা হয়। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং তাঁর সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের উদ্দেশে একটি সম্মানসূচক শুভেচ্ছাপত্র দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বাংলাদেশ সফরের জন্য আবারও উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

 বাজেট ও জননীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জামায়াতের





নিজস্ব প্রতিবেদক 

আসন্ন জাতীয় বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য গণমুখী হতে হবে।

আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ৫ ও ৬ জুন (শুক্রবার ও শনিবার) ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশের প্রাক্কালে সংসদ সদস্যদের অর্থনৈতিক ও জননীতি বিষয়ক জ্ঞান এবং সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মশালায় জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্বকারী ৭৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) অংশ নেন।

দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকেরা এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যরা কীভাবে জাতীয় বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংসদে জনদাবিগুলো যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন কৌশলগত পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেন।

কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁরা সংসদীয় রীতিনীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে সংসদ সদস্যদের মহান জাতীয় সংসদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালা শেষ হয়।

সিলেটে চিকিৎসাধীন সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা



নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে সিলেটের একটি হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।

আজ সোমবার (১ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন এই সাবেক সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইসিইউতে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে সাবেক এই এমপির সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতির বিবরণ শোনেন। পরে তিনি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর দ্রুত ও পরিপূর্ণ আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শিশু খাবারে হরিলুট

সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে 'বিষ' ছড়াচ্ছে দুর্নীতি!

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের পুষ্টির জোগান দিতে এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে চালু করা হয়েছিল ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্প’। ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের মূল লক্ষ্য ছিল একটাই—বাচ্চাদের মুখে একটু পুষ্টিকর ও উন্নত মানের খাবার তুলে দেওয়া।

কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের সীমাহীন লোভের বলি হচ্ছে লাখ লাখ নিরীহ শিশু। পুষ্টিকর খাবারের নামে তাদের পাতে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিকযুক্ত, বাসি, পচা এবং ওজনে কম নিম্নমানের খাবার। দেশের ১১টি উপজেলায় যমুনা নিউজের দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে শিশুদের খাবারের বাজেট থেকে কোটি কোটি টাকা লুটের এক ভয়ংকর চিত্র।

📊 এক নজরে প্রতিদিনের 'পকেট কাটা'র হিসাব


 🪱 পচা রুটি ও ‘ওজনহীন’ ডিম: টেকা দায়, খাওয়া তো দূরের কথা!

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসার ও তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের যে মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছে তা মুখে তোলার মতো নয়।

 ১. ফাঙ্গাস ও দুর্গন্ধযুক্ত রুটি

২৪ টাকা দামের ১২০ গ্রামের যে রুটি বাচ্চাদের দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে রাখা। রুটিটি ছিঁড়লেই ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। অনেক রুটিতে স্পষ্ট ফাঙ্গাস (ছত্রাক) দেখা গেছে। তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, এটি এখন তাদের এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. ডিমের ওজনে শুভঙ্করের ফাঁকি

নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ডিমের ওজন হতে হবে কমপক্ষে ৬০ গ্রাম। কিন্তু ডিজিটাল স্কেলে মেপে দেখা গেছে, কোনো ডিমই ৩৫-৪৫ গ্রামের বেশি নয়। পাবনার একটি খামারে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ছোট ডিম কিনলে ঠিকাদারদের প্রতি ডিমে ১ টাকা বা তারও বেশি লাভ হয়।

ভীতিকর তথ্য: প্রতিদিন যদি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে ১ টাকা করে কম ওজনের ডিম দেওয়া হয়, তবে শুধু ডিমের আকার ছোট করেই প্রতিদিন কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকছে ৩০ লাখ টাকা!

🍌 ৩ টাকার কলা সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কলা সরবরাহে চলছে প্রকাশ্য লুটপাট। চুক্তিতে ১০০ গ্রাম ওজনের সাগর কলার দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ টাকা। অথচ উত্তরের বৃহত্তম কলার হাট দুর্গাদহ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এই নিম্নমানের ছোট কলাগুলোর পিস মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা!

কলা তাড়াহুড়ো করে পাকানোর জন্য অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল। ফলে সেগুলো বাইরে হলুদ হলেও ভেতরে শক্ত এবং কষযুক্ত থাকে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কলা খাওয়ালে আগে বাচ্চার কাশির ওষুধ কিনে রাখতে হয়।" ২৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর কলার বাজেট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি টাকা লোপাট করছে অসাধু চক্র।

 🏥 হাসপাতালের বিছানায় কোমলমতি শিশুরা

এই বিষাক্ত ও কেমিক্যালযুক্ত খাবার খেয়ে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে মিড-ডে মিলের রুটি খেয়ে একসঙ্গে ২০ জন শিক্ষার্থী পেট ব্যথা ও বমি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

ছোট্ট রাইসা মুনতাহা এই খাবার খেয়ে দুদিন হাসপাতালে কাটানোর পর এখনো আতঙ্কে ভুগছে। তার মা জান্নাতুল আর্তনাদ করে প্রশ্ন তোলেন:

"সস্তা নিম্নমানের খাবার দিয়ে সন্তানের জীবন নিয়ে খেলছেন কারা? বাচ্চাদের কিছু হয়ে গেলে তারা কি আমার বাচ্চা ফিরিয়ে দিতে পারত?"

🚫 স্বাস্থ্যঝুঁকি: বিকল হতে পারে লিভার ও কিডনি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টাদের মতে, এই ধরণের বাসি, পচা এবং কেমিক্যালযুক্ত খাবার শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এর ফলে শিশুদের ডায়রিয়া, জন্ডিস, হেপাটাইটিস তো হচ্ছেই, পাশাপাশি খাদ্যের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের কারণে শিশুদের লিভার ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 💬 কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি:

রাজশাহী বিভাগের ১২টি উপজেলায় পৌনে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীর খাবার সরবরাহ করে 'গণ উন্নয়ন কর্মকা' নামের একটি সংস্থা। এত বড় অনিয়মের ব্যাপারে তাদের দায়সারা জবাব—"হাজার হাজার ডিমের মধ্যে সব চেক করা সম্ভব নয়।" তবে প্রকল্প পরিচালক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী যমুনা নিউজের সংগৃহীত প্রমাণ দেখে জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে খাবার বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের এই অনুসন্ধানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি দুর্নীতি দমনের আশ্বাস দেন।

📌 আমাদের বক্তব্য (Conclusion):

সরকার আগামীতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চায়। কিন্তু দুর্নীতির এই লাগামহীন ঘোড়াকে যদি এখনই টেনে ধরা না যায়, তবে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা কেবল অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের পকেটই ভারী করবে। আর আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ—এই কোমলমতি শিশুরা—থেকে যাবে তিমিরেই।

আপনার কী মতামত?

আপনার এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিলের নামে কেমন খাবার দেওয়া হচ্ছে? কমেন্ট সেকশনে আমাদের জানান এবং 

পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে সচেতন করুন।

রাজনীতি কি আবেগ নাকি যুক্তি?

ফজলুর রহমানদের 'দ্বিচারিতা' ও আমাদের সংবিধান

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিতর্ক বেশ চাউর হয়েছে—মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জামায়াতে ইসলামী করতে পারবে কি না? সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং লয়ার এবং রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একটি বক্তব্যে দাবি করেছেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জামায়াতে যোগ দিলে তা হবে ‘ডাবল অপরাধ’। একজন শিক্ষিত এবং সচেতন মানুষের মুখ থেকে এমন আবেগপ্রসূত ও অসাংবিধানিক বক্তব্য সত্যিই বিস্ময়কর।

 ১. ফজলুর রহমান বনাম আইনি বাস্তবতা

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান একজন বিজ্ঞ আইনজীবী। আইন ও সংবিধান তার নখদর্পণে থাকার কথা। কিন্তু তিনি যখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের রাজনৈতিক অধিকারকে ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন প্রশ্ন জাগে—তিনি কি আইন বলছেন নাকি সস্তা রাজনৈতিক আবেগ ফেরি করছেন?

একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ এখানে প্রাসঙ্গিক। আমাদের মনে আছে "সালেহা হত্যা মামলার" কথা। ডাক্তার ইকবাল সালেহাকে হত্যা করেছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমা চাওয়া হলে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল—একজন ডাক্তার জানেন শরীরের ঠিক কোথায় আঘাত করলে মানুষ মারা যায় (The doctor knows where to hit)। ফজলুর রহমান সাহেবের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। একজন লয়ার হিসেবে তার জানা উচিত কোনটি সংবিধানসম্মত আর কোনটি নয়। জেনেবুঝে যখন তিনি অসাংবিধানিক কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে তিনি সুস্থ রাজনীতি নয়, বরং সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছেন।

 ২. দলবদল কি কেবল নির্দিষ্ট মানুষের জন্য অপরাধ?

ফজলুর রহমান সাহেব একসময় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, পরে তিনি দল পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি।

 যারা মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে বিএনপিতে গেছেন, যেমন—মেজর সামসুল হুদা (যিনি পরে নৌকায় উঠে এমপিও হয়েছিলেন)।

 আবার বিএনপি থেকে তথাকথিত ‘রাজাকারের দল’ বা জামায়াতের জোটে গিয়েছেন মেজর আখতারুজ্জামান

 বা 'কর্নেল অলির' মতো বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

এমনকি বর্তমান জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতাও একসময় জাসদ বা অন্যান্য বামপন্থী ছাত্রসংগঠন করতেন।

তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—আপনারা দলবদল করলে সেটি 'কৌশল', আর সাধারণ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অন্য দলে গেলে সেটি 'ডাবল অপরাধ'? এই দ্বিচারিতা বা হিপোক্রেসি সাধারণ মানুষ এখন ধরে ফেলেছে।

৩. সংবিধানের প্রতি ‘নির্বাচিত’ সম্মান কেন?

ফজলুর রহমান সাহেবকে একটি পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই। আপনি সংবিধানের প্রতি অনেক শ্রদ্ধার কথা বলেন। সংবিধানের চতুর্থ তফসিল বা ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সর্বত্র প্রদর্শনের যে বাধ্যবাধকতা (আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত) আছে, তা কি এখন পালিত হচ্ছে? বঙ্গভবন বা গণভবন থেকে যখন ছবি সরানো হয়, বা গত অধিবেশনে যখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ভিন্ন বিতর্ক ওঠে—তখন আপনি কেন চুপ থাকেন?

গ্যালারির বাইরে থেকে ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’-এর মতো গর্জন দেওয়া সহজ। সাহস থাকলে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই সাংবিধানিক প্রশ্নগুলো তুলুন। অন্যের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রমাণ করুন।

 ৪. রাজাকার বনাম মুক্তিযোদ্ধা: বিভাজনের শেষ কোথায়?

মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। এটি একটি জাতীয় সংগ্রাম। ১৯৭১ সালে রাজাকাররা আইডেন্টিফাইড ছিল, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানে ছিল। কিন্তু আজ ৫৪ বছর পর এসেও কি আমরা কেবল এই বিভাজন নিয়েই পড়ে থাকব?

  সাগর-রুনি হত্যা হয়েছে; তারা কার সন্তান ছিল—মুক্তিযোদ্ধার নাকি রাজাকারের? সেটি কি বড় কথা, নাকি তারা যে রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের বিচার পাওয়া উচিত সেটি বড় কথা?

  অপরাধীকে তার পারিবারিক পরিচয় দিয়ে নয়, বরং তার কাজ দিয়ে বিচার করতে হবে।

৫. রাষ্ট্র কি কেবল অতীত নিয়ে বাঁচবে?

আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে কি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে প্রতিদিন পার্লামেন্টে ঝগড়া হয়? হয় না। তারা এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে। আর আমরা এখনো ১৯৭১, ১৯৫২ আর ১৯৯০ নিয়ে পড়ে আছি।

আমাদের আজ আলাপ করা উচিত ছিল:

 বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে।

 গার্মেন্টস খাতের সংকট ও জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে।

 তেল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে।

রাজনীতি আবেগের জায়গা নয়, এটি যুক্তি ও সমাধানের জায়গা। ফজলুর রহমানদের মতো ব্যক্তিদের বোঝা উচিত, ‘আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, সংসদও চলে না’। আমাদের প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে প্রশ্ন তোলা যাবে, সমালোচনা করা যাবে। বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে প্রকৃত জনসমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়াই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম।

মিথ্যা হুমকি আর সস্তা আবেগ ছেড়ে আসুন আমরা যুক্তির রাজনীতি করি। কালকের পার্লামেন্টে যদি সাহস থাকে, তবে প্রকৃত সাংবিধানিক সংকট নিয়ে কথা বলুন। জনগণ দেখতে চায় বাঘের গর্জন শুধু টিভির পর্দায় নয়, ন্যায়ের পক্ষেও সমানভাবে কাজ করে কি না।